| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মানুষের শরীরে ৫…’ ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ ২০২৫ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মানুষের শরীরে ৫ ধরনের বিপাকীয় গ্রন্থি রয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী রয়েছে। বাকিগুলো আনুষঙ্গিক গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। একটি পাকস্থলীর প্রাচীরে, অন্যটি অন্ত্রের প্রাচীরে অবস্থিত। প্রধান গ্রন্থিগুলোর মধ্যে একটি মিশ্র গ্রন্থি হিসেবে বিবেচিত।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
দুগ্ধ আমিষকে কেসিন বলে। রেনিন এনজাইম কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে।
নিম্নোক্ত কারণে পাকস্থলি নিজে পরিপাক হয় না-
পাকস্থলির ভিতরে মিউকোপলিস্যাকারাইড দিয়ে গঠিত একটি মিউকাস স্তর থাকে যা পাকস্থলিতে উৎপন্ন, সকল এনজাইম বা অ্যাসিডকে পাকস্থলির কোষের সরাসরি সংস্পর্শে আসতে দেয় না। তাই পাকস্থলিতে উৎপন্ন সকল এনজাইম বা অ্যাসিড খাদ্যদ্রব্যকে পরিপাক করলেও পাকস্থলিকে পরিপাক করতে পারে না। এ কারণে পাকস্থলি নিজে পরিপাক হয় না।
মানবদেহের পাকস্থলি থেকে পেপসিন, রেনিন, জিলেটিন এবং লাইপেজ এই চার ধরনের এনজাইম নিঃসৃত হয়। নিচে এগুলোর কার্যাবলি বর্ণনা করা হলো-
চিবানো ও লালা মিশ্রিত আমিষ খাদ্য পাকস্থলির গহ্বরে পৌঁছালে পাকস্থলির প্রাচীর হতে গ্যাস্ট্রিন নামক হরমোন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে পাকস্থলির প্রাচীরে বিদ্যমান গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি হতে পরিপাক রস বা গ্যাস্ট্রিক জুস নিঃসৃত হয়। এ রসে পেপসিনোজেন ও প্রোরেনিন নামক নিষ্ক্রিয় প্রোটিওলাইটিক এনজাইম থাকে। এ দুটি নিষ্ক্রিয় এনজাইম গ্যাস্ট্রিক জুসে বিদ্যমান HCI-এর সাথে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে পেপসিন ও রেনিন নামক সক্রিয় এনজাইমে পরিণত হয়। পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে জটিল আমিষকে আর্দ্র বিশ্লেষণ করে প্রোটিওজ ও পেপটোনে পরিণত করে। রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে, পরিণত করে। এছাড়া গ্যাস্ট্রিক জুসে বিদ্যমান জিলেটিনেজ এনজাইম জিলেটিন আমিষকে আংশিকভাবে পরিপাক করে পেপটোন ও পলিপেপটাইডে পরিণত করে।
স্নেহ জাতীয় খাদ্য পরিপাকে কেবল গ্যাস্ট্রিক লাইপেজ নামক একটি এনজাইম খাদ্য গ্রহণের ২-৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাইগ্লিসারাইড নামক স্নেহ জাতীয় খাদ্যের প্রায় ৩০% ভেঙ্গে ডাইগ্লিসারাইড ও ফ্যাটি অ্যাসিডে পরিণত করে।
উদ্দীপকের শেষ গ্রন্থি দ্বারা অগ্ন্যাশয়কে বুঝানো হয়েছে। অগ্ন্যাশয়কে মিশ্রগ্রন্থি বলার কারণ ও কার্যাবলি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
কারণ: অগ্ন্যাশয় একইসাথে বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে তাই একে মিশ্রগ্রন্থি বলা হয়।
কার্যাবলি :
১. এনজাইম নিঃসরণ :এ গ্রন্থির নালিযুক্ত অংশ থেকে খাদ্য পরিপাককারী প্রধান তিন ধরনের এনজাইম ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নিঃসৃত হয় যেগুলো যথাক্রমে আমিষ, স্নেহ ও শর্করা খাদ্যকে পরিপাক করে। এছাড়া এ গ্রন্থি থেকে কাইমোট্রিপসিন, কার্বক্সিপেপটাইডেজ, অ্যামিনোপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইডেজ, ডাইপেপটাইডেজ ইত্যাদি এনজাইম নিঃসৃত হয় যেগুলো বিভিন্ন ধরনের খাদ্য পরিপাক করে।
২. হরমোন ক্ষরণ : অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স প্রায় ১০ লক্ষ কোষের একটি গুচ্ছ নিয়ে গঠিত। কোষগুলো চার ধরনের হয়:
(ক) আলফা কোষ: পেপটাইড ধরনের গ্লুকাগন হরমোন সংশ্লেষ ও ক্ষরণ করে যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করে।
(খ) বিটা কোষ: এরা ইনসুলিন হরমোন সংশ্লেষ ও ক্ষরণ করে। ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমায়।
(গ) ডেল্টা কোষ: সোমাটোস্ট্যাটিন হরমোন ক্ষরণ করে যা আলফা ও বিটা কোষের হরমোন ক্ষরণ রোধ করে।
(ঘ) গামা কোষ: প্যানক্রিয়েটিক পলিপেপটাইড হরমোেন সংশ্লেষ ও ক্ষরণ করে যা অগ্ন্যাশয়ের অন্তঃক্ষরা ও বহিঃক্ষরা নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. লবণ নিঃসরণ : এ গ্রন্থির নালিযুক্ত অংশ থেকে বাইকার্বনেট লবণ নিঃসৃত হয় যা পাকস্থলির অম্লতা লাঘব করে।
৪.অন্যান্য কাজ: দেহের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা, পানিসাম্যতা রক্ষা, তাপ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কাজে অগ্ন্যাশয় বিশেষ ভূমিকা পালন করে।