| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা…’ ঢাকা বোর্ড ২০২২ – মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালি ও বহির্বিশ্ব, ইতিহাস, ইতিহাস ১ম পত্র (এইচএসসি)

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স এবং স্পেন অস্ত্র ও রসদ দিয়ে সাহায্য করে। এমনকি আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। অবশেষে ১৭৭৬ সালে আমেরিকা স্বাধীন হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
জর্জ হ্যারিসন ছিলেন ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় গায়ক এবং গিটারিস্ট।
রাজনৈতিক, সামাজিক, জাতিগত বিভিন্ন নিরাপত্তাজনিত কারণে নিজস্ব ভূমি ছেড়ে বা আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যদেশে অস্থায়ীভাবে অবস্থানকৃত জনসমষ্টিকে শরণার্থী বলে।
শরনার্থী বা উদ্বাস্তু এমন ব্যক্তি যিনি নিজ ভূমি ছেড়ে অন্য দেশে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করেন। জাতিগত সহিংসতা, ধর্মীয় উগ্রতা, রাজনৈতিক কারণে সমাজবদ্ধ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাহীনতাই এর প্রধান কারণ। উদাহরণস্বরূপ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ১ কোটি বাঙালি শরণার্থীর কথা বলা যায়, যারা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচতে ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছিল।
উদ্দীপকের বিষয়ের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের ভূমিকার সাদৃশ্য রয়েছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মিত্ররাষ্ট্র ভারতের সামরিক, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক অবদান অনস্বীকার্য। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন ও শরণার্থীদের আশ্রয়-খাদ্য দিয়ে সহায়তা করে সর্বস্তরের ভারতীয় জনগণ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক দলগুলো। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, অস্ত্র সরবরাহ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় এবং সর্বশেষ যৌথবাহিনী গঠন করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে ভারত। ভারতীয় সৈন্যবাহিনী ও বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর অভিযানের মুখে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে মার্কিনীদের মিত্ররাষ্ট্র ফ্রান্স স্বীকৃতি ও সমর্থন প্রদান করে। এছাড়া অর্থ, অস্ত্র ও সৈন্য দিয়ে সাহায্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স বন্ধু রাষ্ট্রের ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্সের ভূমিকার অনুরূপ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বিষয়ের সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান সাদৃশ্যপূর্ণ।
উক্ত দেশটি তথা ভারত মুক্তিযুদ্ধে শরণার্থীদের আশ্রয়দান, অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ, বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনসহ বিবিধ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে আমি মনে করি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়। বাঙালি শরণার্থীদের আশ্রয়দান ও প্রতিপালন, যুদ্ধের প্রশিক্ষণসহ অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ এবং বহির্বিশ্বে পাকিস্তানি বর্বরতার ভয়াবহতা প্রকাশে ভারত সরকারের অবদান অনস্বীকার্য। দেশটির অতুলনীয় ও প্রত্যক্ষ সহায়তা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছিল।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য মূল কৃতিত্বের দাবিদার প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত। বিশ্বের বড় বড় শক্তির হুমকি উপেক্ষা করে তৎকালীন ভারত সরকার স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় ও বিশ্ব জনমত গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভারতের জনগণ ও সরকার প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করে। শরণার্থীদের সহায়তা করতে ভারত সরকার তার নাগরিকদের ওপর কর আরোপ করে । সরকারি পর্যায়ের বাইরেও ভারতের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী ও সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। ভারতের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ ও সেতারাবাদক পণ্ডিত রবি সংকর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বহুল আলোচিত “কনসার্ট ফর বাংলাদেশ” অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা। তাছাড়া ভারতীয় প্রচার মাধ্যমগুলোও পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক বাঙালি নিধনের সংবাদ দ্রুত প্রচারে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে। তদুপরি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবদান অপরিসীম। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অনেক ভারতীয় সৈন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে যেটি ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ভারতের অপরিসীম সহায়তা ও প্রত্যক্ষ সমর্থনে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।