| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জেমস…’ নটরডেম কলেজ ২০২৬ – সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূুহ, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জেমস ম্যাডিসন মন্তব্য করেন, “যখন আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার কার্য একই কর্তৃপক্ষের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে, তখন স্বৈরাচার অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে।” তার মতে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ তা বাস্তবায়ন করবে এবং বিচার বিভাগ বিদ্যমান আইন অনুসারে অপরাধীর শাস্তি ও নিরপরাধের মুক্তি নিশ্চিত করবে- এভাবেই রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
সরকার হলো সার্বভৌম রাষ্ট্রের এমন সংগঠন, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগ ও শাসন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলি পরিচালিত হয়।
স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ণ ও অটুট রাখার জন্য যেসব পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় সেগুলোকে স্বাধীনতার রক্ষাকবচ বলে।
ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষায় বিভিন্ন উপাদান রক্ষাকবচ হিসেবে ভূমিকা পালন করে থাকে। তন্মধ্যে স্বাধীনতার প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে আইন। আইন স্বাধীনতা ভোগের পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং স্বাধীনতাকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে তোলে। আবার দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা তার নীতি ও কার্যাবলির জন্য আইনসভার নিকট দায়ী থাকার ফলে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে স্বাধীনতা লঙ্ঘন করতে পারে না। ফলে, আইন রক্ষিত হয়। এছাড়া আইনের অনুশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রভৃতি স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে সরকার ব্যবস্থার ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি হলো তাই যেটা সরকারের তিনটি বিভাগ-আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ এবং বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র হয়ে কাজ করতে অনুমোদন দেয়। এ নীতি অনুযায়ী আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন, শাসন বিভাগ আইনের প্রয়োগ এবং বিচার বিভাগ বিচার কার্য পরিচালনায় একে অন্যের হস্তক্ষেপ মুক্ত থেকে কাজ করে। এর ফলে ক্ষমতার অপব্যবহার হ্রাস পায় এবং গণতন্ত্র সুরক্ষিত হয়। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রয়োগ ঘটলে শাসকদের স্বৈরাচারী হওয়ার প্রবণতা দূরীভূত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মেডিসন সরকারের এমন একটি ব্যবস্থার কথা বলেন যেখানে সরকারের ৩টি বিভাগ আলাদাভাবে তাদের কার্যাবলি সম্পাদন করবে। তার মতে আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ তা বাস্তবায়ন করবে এবং বিচার বিভাগ প্রচলিত আইনানুযায়ী অপরাধীকে শাস্তি প্রদান ও নিরপরাধীকে মুক্তি দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে। এই শাসন পদ্ধতিটি মূলত উপরে আলোচিত ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষায় 'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি' কার্যকর ভূমিকা পালন করে- বক্তব্যটির সাথে আমি একমত।
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে সরকারের তিনটি বিভাগ যথা: আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা ও কাজকে পৃথক বা স্বতন্ত্র করাকে বোঝায়। নীতি অনুযায়ী প্রতিটি বিভাগ তার নিজস্ব কর্মক্ষেত্রের মধ্যে স্বাধীন থাকবে। এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে বাধা প্রদান বা হস্তক্ষেপ করবে না। অর্থাৎ আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ সেসব আইন কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ সেসব আইনের ব্যাখ্যা দান এবং বিভিন্ন মামলায় প্রয়োগ করবে। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা।
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের সকল ক্ষমতা একজন ব্যক্তির হাতে থাকলে সে ব্যক্তি স্বেচ্ছাচারী শাসকে পরিণত হতে পারে। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের ক্ষমতা বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত হয়। এতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির দায়বদ্ধতা থাকে। তাই তারা ক্ষমতার অপব্যবহার না করে জনগণের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হয়।
এভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এছাড়া ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষার জন্য প্রয়োজন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। আর ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণের মাধ্যমেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়। সর্বোপরি ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি নাগরিক স্বাধীনতার রক্ষক হিসেবেও কাজ করে।
উপরিউক্ত আলোচনার ভিত্তিতে তাই বলা যায়, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি প্রতিষ্ঠিত হলে সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ হয় এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা পরিপূর্ণতা পায়।