| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মাস তিনেক পর…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২২ – রেইনকোট, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মাস তিনেক পর শহরে গেরিলা অপারেশন করতে এসে রাজাকারের হাতে ধরা পড়ে
মিনহাজউদ্দিন। ওকে ক্যাম্পে এনে বকুল গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। উলঙ্গ। শাস্তি
সকালে দশ বেত। বিকেলে দশ বেত। এমন দৃশ্য রহমত আলীর জীবনের শ্রেষ্ঠ
আনন্দ। শুধু জানালায় বসে থাকলে এ দৃশ্য পুরোপুরি উপভোগ করা যায় না। বেতন
মারার আগেই বকুলতলায় এসে দাঁড়ায়। দু’কান ভরে মিনহাজউদ্দিনের গোঙ্গানি শোনে।
বেঈমানের এমন চরম শাস্তিই তো পাওয়া উচিত। যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার জন্য
ভিতু লোকটা সাহসী হয়ে গিয়েছিল। পালিয়ে ছিল বাড়ি থেকে ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৭
'রেইনকোট' গল্পের উর্দুর প্রফেসরের নাম আকবর সাজিদ ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রচণ্ড শীত রুশ বাহিনীর জন্য যেমন কল্যাণ বয়ে এনেছিল তেমনই বর্ষা মৌসুম মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সুফল বয়ে আনে— এ কথাটি বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার বাহিনী প্রচণ্ড শীতের কারণে রুশ বাহিনীর হাতে পর্যুদস্ত হয়েছিল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রবল বর্ষায় তেমনই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়েছিল পাকিস্তানি বাহিনী। উক্তিটির মাধ্যমে সেই বিষয়টির কথাই বলা হয়েছে। কুলির ছদ্মবেশে কলেজে আলমারি দিতে এসে এক গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বলেছিলেন, 'বর্ষাকালেই তো জুৎ।' কলেজ শিক্ষক নুরুল হুদার মনে হয়, এ কথার মধ্য দিয়ে ছেলেটি যেন আলোচ্য কথাটিই বলতে চেয়েছে।
এ উদ্দীপকে বর্ণিত নির্যাতনের চিত্র ‘রেইনকোট' গল্পের মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর নির্মম অত্যাচারের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যযুক্ত।
‘রেইনকোর্ট' গল্পে মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ঢাকা শহরে পাকিস্তানি মিলিটারিদের আক্রমণ এবং রাজাকারদের সহযোগিতার চিত্র ফুটে উঠেছে। কলেজের প্রিন্সিপ্যালসহ অন্য রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে মিলিটারিদের সাহায্য করত। তাদের দেওয়া তথ্য থেকেই পাকিস্তানি মিলিটারিরা বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করত। কোনো বাছবিচার না করেই সাধারণ ও নিরপরাধ মানুষদের অত্যাচার করত। নিরীহ নুরুল হুদাকেও এমন নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানি বাহিনীর এদেশীয় দোসর রাজাকারদের নির্মম অত্যাচার-নির্যাতনের আংশিক চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। একই সঙ্গে ফুটে উঠেছে একজন দেশপ্রেমিকের মহান আত্মত্যাগের কথা। উদ্দীপকের এই দোসরদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে 'রেইনকোট' গল্পের রাজাকারদের কর্মকান্ডের। আলোচ্য গল্পে রাজাকাররা মিলিটারিদের বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করে উদ্দীপকের দোসরদের মতো কাজ করত।
'রেইনকোট' গল্পে হানাদার বাহিনীর ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও গণহত্যার পাশাপাশি, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ সংগ্রামের উল্লেখ থাকলেও উদ্দীপকে কেবল পাকিস্তানি সেনাদের দোসর রাজাকারদের নারকীয় নির্যাতনের বিষয়টি উঠে এসেছে।
রেইনকোট গল্পে বিবৃত হয়েছে হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে ঢাকা শহরের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনের চিত্র।সেই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ ও গেরিলা আক্রমণের বিষয়টিরও উল্লেখ রয়েছে।উদ্দীপকে পাকিস্তান সেনবাহিনীর ও এদেশীয় দোসর রাজাকারদের নারকীয় অত্যাচারের বিবরণ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা এদেশের নানা শ্রেণী পেশার মানুষকে অত্যাচার করে। এখানে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তা যে কোন বর্বরতাকেই হার মানায়।
রেইনকোট গল্পের যুদ্ধবিধ্বস্ত ঢাকা শহরের চিত্র ফুটে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে গেরিলা আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানী সেনাদের ব্যতিব্যস্ত করে তোলেন। আকস্মিক আক্রমণে তারা বিজয়কে ত্বরান্বিত করেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভীতু প্রকৃতির মানুষের সাহসী হয়ে ওঠার ব্যঞ্জনাময় প্রকাশ ঘটেছে আলোচ্য গল্পে। কিন্তু উদ্দীপকে কেবল পাকিস্তানি বাহিনীর দোসরদের গণহত্যা ও নারকীয় অত্যাচারের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে গল্পের গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ সংগ্রামের বিষয়টি স্থান পায়নি।সুতরাং প্রশ্নোত্ত উক্তিটির সাথে আমি একমত।