| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মাস্টারদা সূর্য সেন…’ হলিক্রস কলেজ ২০২৪ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মাস্টারদা সূর্য সেন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। এদেশের গণমানুষকে জাগিয়ে তুলতে নানাভাবে চেষ্টা করেন। তারই নির্দেশে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাবে আক্রমণ সফল হওয়ার পর ব্রিটিশ শাসকের টনক নড়ে। তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ইংরেজরা দশ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। অর্থের লোভে জনৈক ব্যক্তি তাঁর অবস্থান জানিয়ে দিলে তিনি ধরা পড়েন। অতঃপর তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের শেষ দৃশ্যের সময় দোসরা জুলাই।
মিরজাফরের ব্যক্তিত্বহীনতা দেখে রবার্ট ক্লাইভ তাকে ব্যঙ্গ করে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন।
বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর পূর্ব চুক্তিমতো নবাব হয় বিশ্বাসঘাতক ও ক্ষমতালোভী মিরজাফর। রাজদরবারে এসে মিরজাফর সিংহাসনে না বসে সিংহাসনের হাতল ধরে কর্নেল ক্লাইভের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এতে মিরজাফরের ব্যক্তিত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আর তা দেখেই ক্লাইভ প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন ।
বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়ার দিকটি উদ্দীপকের সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার করুণ পরিণতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ।
সিরাজ মসনদে বসলে ঘসেটি বেগমের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায় ফলে সিরাজের বিরুদ্ধে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র শুরু করে ঘসেটি বেগম। মিরজাফর, উমিচাঁদ, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ তার সহায়ক হয় এছাড়া ইংরেজদের সাথে নিয়ে সিরাজকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য ভয়ানক ষড়যন্ত্র শুরু করে। সর্বশেষে নবাবকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত মাস্টারদা সূর্য সেন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। এ দেশের মানুষকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। মাস্টারদা সূর্য সেন পাহাড়তলীর ইউরোপীয় ক্লাবে আক্রমণ করেন। তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ইংরেজরা দশ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। অর্থের লোভে একজন তাঁকে ধরিয়ে দিলে নির্মমভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে সিরাজউদ্দৌলা যুদ্ধে পরাজিত হন এবং তাঁকেও বন্দি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ।
উদ্দীপক এবং নাটকের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও সূর্য সেন এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলা দুজনেই একই পরিণতির শিকার হয়েছে।
‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ঘসেটি বেগম সিরাজের বড়ো খালা এবং শওকতজঙ্গের পালক মাতা। নিয়মানুযায়ী শওকতজঙ্গেরই নবাব হওয়ার কথা। সিরাজ মসনদে বসলে ঘসেটি বেগমের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায় ফলে সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে ঘষেটি বেগম। নবাবের অমাত্যদের মধ্যে অনেকেই ছিল তার বিরোধী। এদেরকে সাথে নিয়ে ইংরেজদের নিয়ে চক্রান্ত করে নবাবকে পরাজিত করার পরিকল্পনা করেন । এবং নবাব যুদ্ধে পরাজিত হলে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ।
উদ্দীপকে বর্ণিত মাস্টারদা সূর্য সেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন নেতা ছিলেন । তিনি এ দেশের মানুষদেরকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন । চট্টগ্রামের ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ করে। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ইংরেজরা দশ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। এবং অর্থের লোভে এক ব্যক্তি তার অবস্থান জানিয়ে দিলে তাকে আটক করা হয়। এরপর নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয় । ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব তাঁর দেশকে রক্ষার জন্য, দেশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য ইংরেজ বেনিয়াদের শত্রুতে পরিণত হন। তাঁর নিজ খালা ঘসেটি বেগম ও মিরজাফর ইংরেজদের সাথে ষড়যন্ত্র করে নবাবকে যুদ্ধে পরাজিত করে এবং তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে । মাস্টারদা সূর্য সেনও ব্রিটিশদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য মূলত আন্দোলন করেছিলেন। ধরা পড়ে নির্মম পরিণতি বরণ করতে হয়েছে তাঁকে। এখানে প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও সূর্য সেন ও সিরাজউদ্দৌলা একই পরিণতির শিকার হয়েছিলেন।