| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মাথার খুলিতে মুখমণ্ডলীয়…’ যশোর বোর্ড ২০১৭ – শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মাথার খুলিতে মুখমণ্ডলীয় অংশে নাসাগহ্বরের দু’পাশে কয়েক জোড়া বিশেষ গহ্বর থাকে যা বাতাসের পরিবর্তে তরলে পূর্ণ হলে জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়ে প্রদাহের সৃষ্টি করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
ফুসফুসে স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াল কোষে গঠিত ও কৈশিক জালিকাসমৃদ্ধ প্রকোষ্ঠের মতো গ্যাসীয় বিনিময় তলই হলো অ্যালভিওলাস।
স্বরযন্ত্রের মুখবিবর গ্লটিস নামক যে ছিদ্র দিয়ে উন্মুক্ত হয় তার মুখে ঢাকনার মতো অংশই হলো এপিগ্লটিস। খাদ্য গলাধঃকরণের সময় এপিগ্লটিস স্বরযন্ত্রের মুখ বন্ধ করে দেয় এবং খাদ্যবস্তুকে শ্বাসনালিতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত গহ্বরটি বলতে সাইনাসকে বোঝানো হয়েছে। সাইনাস তরলে পূর্ণ হলে জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়ে সাইনুসাইটিস রোগের সৃষ্টি করে। অবস্থানের উপর ভিত্তি করে মানবদেহে চার ধরনের সাইনাস রয়েছে। এসব সাইনাসে সৃষ্ট সাইনুসাইটিসের অবস্থানও ভিন্ন। নিচে এদের নাম, অবস্থান ও প্রদাহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়া হলো-
i. ম্যাক্সিলারি সাইনাস: ম্যাক্সিলারি অঞ্চলে এদের অবস্থান। এই সংক্রমণে ম্যাক্সিলা বা গালে চাপ প্রয়োগে ব্যথা অনুভূত হয়। বিশেষ করে দাঁত ও মাথায় ব্যথা হয়।
ii. ফ্রন্টাল সাইনাস: চোখের ওপরে অবস্থিত। এর ফলে ফ্রন্টাল সাইনাসে চাপ প্রয়োগে ব্যথা অনুভূত হয় এবং মাথা ব্যথা দেখা দেয়।
iii. এথময়েড সাইনাস: দুই চোখের মাঝে অবস্থিত। এক্ষেত্রে দুই চোখের মাঝখানে বা পেছনে ব্যথা অনুভূত হয়। এথময়েড সাইনাসে মিউকাস পর্দা সংক্রমিত হয়।
iv . স্ফেনয়েড সাইনাস: স্ফেনয়েড সাইনাস আক্রান্ত হলে চোখের পশ্চাৎ বা মাথার চূড়ায় ব্যথা অনুভূত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রদাহ বলতে সাইনাসে সৃষ্ট প্রদাহ বা সাইনুসাইটিসকে বোঝানো হয়েছে। এই প্রদাহের ফলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এই প্রদাহ থেকে মুক্ত থাকতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
i. শুষ্ক, খোলামেলা এবং যথেষ্ট আলো বাতাস আছে এমন ঘরে বসবাস করা।
ii. ধূলাবালি থেকে দূরে থাকা।
iii. ঘন ঘন ঠাণ্ডা না লাগানো।
iv. একটু লবণ পানি নাক দিয়ে টেনে নেওয়া এবং মুখের ওপর গরম সেক দেওয়া। গরম ভাপ নেওয়া।
vi. নিওসাইনেফ্রিন ব্যবহার করা।
vii. প্রয়োজনে এন্টিবায়োটিক, হিস্টাসিন জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করা।
এছাড়াও যদি রোগ এড়ানো না যায় তাহলে নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া। এ নিয়মগুলো মেনে চললে সাইনুসাইটিস থেকে মুক্ত থাকা যায়।