মাতৃহারা সুফিয়া সৎমায়ের সংসারে বড়ো হয়েছে। বাবা তাকে গ্রামের ধনাঢ্য এক বয়স্ক লোকের সাথে বিয়ে দিতে চাইলে সুফিয়া অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজি হয়ে যায়। কিন্তু তার সৎমা প্রতিবাদ করেন এবং মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
শহরে বহিপীরের তিনজন ধনী মুরিদ আছেন।
ছাপাখানা তৈরির স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় নিজের ওপর আস্থা রাখতে গিয়ে হাশেম প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।
হাশেম আলির স্বপ্ন ছিল একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু সূর্যাস্ত আইনে বাবার জমিদারি হাতছাড়া হয়ে গেলে সেটি আর সম্ভব হয় না। তাই সে নিজের যোগ্যতার ওপর আস্থা রাখতে গিয়ে বলেছে, ‘একটা স্বপ্ন ভেঙে গেলে আরেকটা স্বপ্ন গড়তে পারব।’ মূলত বাস্তবতাকে মেনে নিতেই হাশেম আলি নিজের যোগ্যতার ওপর আস্থা রেখে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।
উদ্দীপকের বাবা চরিত্রটি 'বহিপীর' নাটকের তাহেরার বাবা ও সৎমাকে নির্দেশ করে।
‘বহিপীর’ নাটকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র তাহেরা। সে মাতৃহারা, তার বাবা কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানবিকতার একজন মানুষ। তার বাবার সাথে তার সৎমাও তাহেরার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কথা বলে এবং তাকে হেয় প্রতিপন্ন করে। তাহেরা অসম বয়সি পিরকে বিয়ে করবে না। কিন্তু তার বাবা নাছোড়বান্দা, তাকে ঐ বৃদ্ধ পিরেকে বিয়ে করতে হবে। তাহেরা তার বাবার সিদ্ধাস্তকে মেনে নিতে পারেনি। তাই বিয়ের রাতেই সে বহিপীরের কাছ থেকে পালিয়ে হাশেমদের বজরায় আশ্রয় নিয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মাতৃহারা সুফিয়া সংমায়ের সংসারে সে বড়ো হয়েছে। বাবা তাকে গ্রামের এক বয়স্ক লোকের সাথে বিয়ে দিতে চান। লোকটি গ্রামের একজন ধনী ব্যক্তি। প্রথমে সুফিয়া অসম বয়সি লোকের সাথে বিয়েতে রাজি হয়নি। তবে পরে রাজি হয়েছে। যদিও তার সৎমা এর প্রতিবাদ করেন এবং মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তাহেরা যেমন প্রতিবাদী এক চরিত্র তেমনি সুফিয়ার সংমাও এক প্রতিবাদী চরিত্র। এভাবে দেখা যায়, উদ্দীপকের বাবা চরিত্র ‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরার কুসংস্কারাচ্ছন্ন বাবা ও সৎমাকে প্রতিফলিত করে।
"উদ্দীপকের সুফিয়া এবং 'বহিপীর' নাটকের তাহেরার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী।"- উক্তিটি যথার্থ।
‘বহিপীর’ নাটকের তাহেরা এক স্বাধীনচেতা প্রতিবাদী চরিত্র। তার আচরণে এক সময় নমনীয়তা, অন্য আরেক সময়ে মানবিকতা ফুটে উঠেছে। তারা বাবা ও সৎমা ছিল কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও প্রগতিহীন। তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় ব্যক্তিস্বাধীনতাকে মূল্য দেওয়া হতো না।
উদ্দীপকের সুফিয়া সংমায়ের সংসারে বড়ো হয়েছে। তার স্বভাবে কেবল অনমনীয় ভাবই ফুটে উঠেছে। কোনো প্রতিবাদী চেতনা লক্ষণীয় নয়। এক বয়স্ক লোকের সাথে তাকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিয়েতে রাজি হয়ে যায়। সে জীবন সম্পর্কে সম্পূর্ণ অসচেতন ও প্রতিবাদহীন। কিন্তু তাহেরার স্বভাবে সেটি পরিলক্ষিত হয়নি।
‘বহিপীর’ নাটকে তাহেরার চরিত্রে প্রতিবাদী এবং অনমনীয় বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। তার চরিত্রের আরও একটি দিক হলো মানবিকতা। সে অন্যায় ও মতের বিরুদ্ধে বিয়ে মেনে নেয়নি; বরং দুঃসাহসের সাথে হাশেম আলির হাত ধরে পালিয়েছে। তাকে বিশ শতকের প্রারম্ভে নারী অধিকার ও জাগরণের প্রতীক চরিত্র বলা যায়। এসব বিষয় উদ্দীপকের সুফিয়ার চরিত্রে দেখা যায় না। তাই বলা যায়, সুফিয়া এবং তাহেরার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী।
