মায়ের ডাক আর একবার কানে গেলেও দুর্গার এখন উত্তর দিবার সুযোগ নাই. মুখ ভর্তি। সে তাড়াতাড়ি জারানো আমের চাকলাগুলি খাইতে লাগিল। পরে এখনো অনেক অবশিষ্ট আছে দেখিয়া কাঁঠালগাছটার কাছে সরিয়া গিয়া গুঁড়ির আড়ালে দাঁড়াইয়া সেগুলি গোগ্রাসে গিলিতে লাগিল। অপু তাহার পাশে দাঁড়াইয়া নিজের অংশ প্রাণপণে গিলিতেছিল, কারণ চিবাইয়া খাওয়ার আর সময় নাই।
বৈশাখী ঝড়ো বাতাসে নদীর পানি শূন্যে তুলে ছড়িয়ে দেয়।
কবি বাতাসের মহাপ্রতাপশালী রূপকে ধিক্কার জানিয়েছেন।
'বোশেখ' কবিতায় কবি বাংলাদেশের পরাক্রমশালী মাস বৈশাখের নিষ্ঠুর করালগ্রাসী থাবার দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন। এ সময় কালবৈশাখি ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে লন্ডভন্ড হয়ে যায় এক একটি জনপদ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর শিকার হয় অসহায় প্রাণী ও হতদরিদ্র মানুষ। ছিঁড়ে যায় গবির মাঝির পালের দড়ি, উড়ে যায় চাষির চালাঘর। ছোট্ট টুনটুনির বাসাও এ বাতাসের কবল থেকে রেহাই পায় না। তাই কবি এই বাতাসকে ধিক্কার জানিয়েছেন।
উদ্দীপকে 'বোশেখ' কবিতায় বর্ণিত প্রকৃতির স্বাভাবিক ও সুবিবেচনার দিকটি ফুটে উঠেছে।
'বোশেখ' করিতায় কবি কালবৈশাখি ঝড়ে অসহায় মানুষের ক্ষয়-ক্ষতির দিকটি দেখে বাতাসকে শান্ত হতে বলেছেন। কবি উল্লেখ করেছেন এ বাতাস সাম্যবাদী রাজা সোলেমানের বাহন, দয়ালু মেঘের সাথি। তাই বাতাসের শান্ত হওয়া উচিত।
উদ্দীপকে অপু-দুর্গা স্বাভাবিক গ্রাম্য পরিবেশে প্রকৃতির মাঝে বেড়ে উঠেছে। গ্রীষ্মের রোদে বেরিয়ে আম কুড়িয়ে তা মাখিয়ে খাচ্ছে। প্রকৃতি কোনো বিপর্যয় নিয়ে আসেনি তাদের জীবনে। 'বোশেখ' কবিতায় কবিও বৈশাখী বাতাসকে শান্ত হতে বলেছেন। মহাপ্রতাপশালী বাতাস শান্ত হলেই গরিব মাঝি, দরিদ্র চাষি এবং অসহায় প্রাণীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে নির্বিঘ্নে।
'বোশেখ' কবিতার এ দিকটির সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
উদ্দীপকে বৈশাখী বাতাসের শান্ত হওয়ার দিকটি ফুটে উঠলেও এর ধ্বংসযজ্ঞ ও কবির বিদ্রোহের দিকটি প্রকাশ না পাওয়ায় "উদ্দীপকটি 'বোশেখ' কবিতার একটি বিশেষ ভাব প্রকাশ করলেও সম্পূর্ণ মূলভাব প্রকাশ করেনি” মন্তব্যটি যথার্থ।
'বোশেখ' কবিতায় কবি মহাপরাক্রমশালী মাস বৈশাখের রুদ্র-সংহারক রূপটি ফুটিয়ে তুলেছেন। বৈশাখের নিষ্ঠুর করাল গ্রাসে লন্ডভন্ড হয়ে যায় একেকটি জনপদ। তাই কবি বৈশাখকে শান্ত হতে বলেছেন।
উদ্দীপকের লেখকও অপু-দুর্গার বৈশাখের স্বাভাবিক শান্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠা, আম কুড়িয়ে মাখিয়ে খাওয়ার দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন। তাদের জীবনে বৈশাখ কোনো বিপর্যয় নিয়ে হাজির হয়নি। 'বোশেখ' কবিতায়ও কবি বৈশাখকে শান্ত হতে বলেছেন, কেননা এ বাতাস সাম্যবাদী রাজা সোলেমানের বাহন ও দয়ালু মেঘের সাথি। তাই বাতাসের নিষ্ঠুরতা মানায় না।
উদ্দীপকে 'বোশেখ' কবিতার শান্তশিষ্ট রূপটি প্রকাশ পেলেও এটি এ কবিতার একটি গৌণ দিক। এ কবিতায় কবি বৈশাখের নিষ্ঠুর ও করাল গ্রাসে হতদিরদ্র মানুষ ও অসহায় প্রাণীদের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ কবিতায় কবি বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করেন। এই দিকগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায় আলোচ্য মন্তব্যটি যৌক্তিক।
