| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মধ্যযুগে বাংলার মুসলিম…’ যশোর বোর্ড ২০২৩ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মধ্যযুগে বাংলার মুসলিম নারীসমাজ অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তো তারা পেতই না বরং চার দেয়ালে বন্দি জীবন কাটাতে হতো। ধর্মের নামে অধর্মের বেসাতি চালানো হতো তাদের উপর। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সর্বদাই নারীরা ছিল অবহেলার পাত্র। নিতান্তই হুকুম পালন ও ঘরকন্যা ছাড়া তাদের আর কোনো অধিকার ছিলনা।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম তানু বিবি।
শস্যের চেয়ে টুপি বেশী, ধর্মের আগাছা বেশী।’ ‘লালসালু’ উপন্যাসে এই বক্তব্যের মধ্যেই প্রকাশ পায় বেশির ভাগ বাঙালির ধর্মীয় জ্ঞানের অজ্ঞতা, ধর্মভীরুতা ও ধর্মীয় গোঁড়ামির চিত্র। ধর্মভীরু মানুষকে কাজে লাগিয়ে নিজ স্বার্থ হাসিল করার প্রকৃষ্ট উদাহরণ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর এই উপন্যাস। একদিকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধর্মভীরু শোষিত দরিদ্র মানুষ; অন্যদিকে প্রতারক, ধর্মব্যবসায়ী ও শোষক মাতবর-ভূস্বামী।
'লালসালু' উপন্যাসের রহিমা উদ্দীপকে উল্লিখিত মুসলিম নারী সমাজেরই প্রতিনিধিত্ব করে।
রহিমা মজিদের প্রথম স্ত্রী। শক্তিমত্তা তার বাইরের রূপ কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঠান্ডা ও ভীতু প্রকৃতির মেয়ে। স্বল্পভাষী ও মজিদের একান্ত অনুগত। গ্রামের লোকেরা তারই অন্যতম সংস্করণ। রহিমা এই গ্রামের মেয়ে। ছোটবেলায় নাকে নোলক পরে হলদে শাড়ি পেঁচিয়ে পরে ছুটোছুটি করত যা সবার মনে আছে। রহিমা বারো বছর মজিদের সাথে সংসার করেছে। মজিদের প্রতি রহিমার আনুগত্য ধ্রুবতারার মতো অনড়, বিশ্বাস পর্বতের মতো অটল। সে মজিদের ঘরের খুঁটি।
রহিমা সত্যি সে লম্বা-চওড়া মানুষ।এ চির চেনা বাঙালি নারী- দৈহিক শক্তিমত্তায় সে যতই প্রবল হোক না কেন, স্বামীর প্রতি ভক্তি তার প্রবল, স্বামীর কথা অক্ষরে অক্ষরে সে মেনে চলে। সে নম্ৰ ও বিনীত। এ রকম এক নারীরই প্রয়োজন ছিল মজিদের, যে তার সংসার আগলে রাখবে। কঠিন হাতে সামাল দেবে সংসার, কিন্তু স্বামীর সামনে থাকবে সদা নতমস্তকে, বিনীতা, আনুগতা। মজিদের জন্য রহিমাই আদর্শ স্ত্রী।
কিন্তু উদ্দীপকের সে সমাজে মুসলিম নারীরা পিছিয়ে ছিল। তাদের মধ্যে শিক্ষা গ্রহগুলো আগ্রহ থাকলেও তারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারত না কারণ পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কারণে তাদের অনেক বাধা এর সম্মুখীন হতে হতো।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা সর্বদাই অবহেলার পাত্র।”
পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বাস্তবতা এমন যে নারীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে নাজুক, দুর্বল এবং গ্লানির জায়গা হচ্ছে তার যৌনতা এবং যৌন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ । অতএব, নারীকে সবচেয়ে নির্মমভাবে আঘাত করার উপায় হচ্ছে যৌন নিপীড়ন। বেশিরভাগ রক্ষণশীল সমাজ, পশ্চাৎপদ ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী নারীর উপর যৌন-নিপীড়ন যার দ্বারাই সংঘটিত হোক এর মুখ্য গ্লানি হচ্ছে আক্রান্ত নারীর। পশ্চাৎপদ সমাজে এই গ্লানি বা ‘কলঙ্ক’ এমন এক গ্লানি যা কোনো কিছু দ্বারাই মোচনীয় নয়। যে সমাজ যত পশ্চাৎপদ সে সমাজে এই মনোভাব তত গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে আছে।
আমরা লালসালু উপন্যাসও দেখতে পাই সেখানে মজিদ তার স্ত্রী রহিমাকে অনেক অবহেলা করে। তখনকার সময় ছিল নারী ও পুরুষের সমান অধিকার না পাওয়ার সমান। সে সময় নারীদের উপর নানা ধরনের নির্যাতন এবং অত্যাচার করা হতো এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদেরকে অবহেলিত মনে করা হতো ঠিক তেমনি লালসালে উপন্যাসে মুজিব এবং খালেদ বেপারী উভয়ের মধ্যে এরকম একটা চরিত্র ফুটে তারা তাদের স্ত্রীর সাথে অবহেলা অত্যাচার করে।
এবং উদ্দীপকে আমরা দেখতে পারি মুসলিম সমাজে একসময় নারীদের প্রতি অত্যাচার নির্যাতন করা হতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কর্তৃক তাদেরকে অবহেলিত মনে করা হতো।
কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার রয়েছে আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত অসাধ্য সাধন হয়েছে সেখানে পুরুষের যতটা অবদান ছিল নারীর ঠিক ততটাই অবদান ছিল এই ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষকে কোনভাবেই আলাদা করা যায় না শুধুমাত্র শারীরিক সক্ষমতা দিক থেকে তাদেরকে আলাদা করা মোটেও ঠিক নয়।
কিন্তু আমাদের সমাজটা হচ্ছে পুরুষতান্ত্রিক সেখানে নারীকে সম্মান দেওয়া তো দূরের কথা উল্টা নারীর অবহেলিত করা হয় যে যুগের পর থেকে ধরে এসেছে। এখানে নারীদেরকে গৃহবন্দী করে রাখা হয় এবং তাদেরকে অসম্মান এবং অবহেলা করা হয়। যে বিষয়টি আমরা উদ্দীপক এবং পাশাপাশি লালসালের মধ্যেও খানিকটা লক্ষ্য করি।