| ㅤ | A. Nayan10 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মধ্যযুগে ধর্মাশ্রিত ইউরোপের…’ সোনার বাংলা কলেজ ২০২৪ – তড়িৎ রসায়ন, রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র (এইচএসসি)

মধ্যযুগে ধর্মাশ্রিত ইউরোপের গীর্জাগুলো পুরোহিতদের নির্দেশনা অনুযা পরিচালিত হতো। গীর্জার প্রধানরা রাজনৈতিকভাবে বেশ ক্ষমতাশীল হওয়ায় সাধারণ জনগণ তাদের কষ্টার্জিত সম্পদ গীর্জার ভেতর গচ্ছিত রাখত। গীর্জাগুলো জমাকৃত সম্পদের কারণে বহিঃশত্রু দ্বারা আক্রান্ত হতো।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৪
৭১২খ্রিষ্টাব্দেমুহাম্মদ বিনকাসিমসিন্ধুবিজয়করেন।
ভারতবর্ষেবিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর লোক মিলে মিশে বসবাস করে। সেই সাথে বিভিন্নভাষাভাষীর লোকের বসবাস ভারতেসেজন্য ভিনসেন্ট স্মিথভারতউপমহাদেশকে “নৃতত্ত্বরজাদুঘর” বলেঅভিহিত করেছেন। ভারতবর্ষেবৌদ্ধ,খ্রিষ্ট,জৈন,শিখ,অগ্নি,উপাসকওঅন্যান্যধর্মাবলম্বী রয়েছে।ভারতেবর্তমান ২০০০এরঅধিকউপভাষা প্রচলিত আছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত গীর্জাগুলোতেবহিঃশত্রুকর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের সোমনাথ মন্দির অভিযানেরসাদৃশ্য রয়েছে।
ভারতের গুজরাটের কাথিওয়াড়েরপশ্চিমউপকূলে সোমনাথ মন্দির অবস্থিত।সুলতানমাহমুদের ভারতঅভিযানসমূহের মধ্যেসবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওউল্লেখযোগ্য ছিলো সোমনাথ মন্দির আক্রমন।মন্দিরটিছিলো প্রভূত ধনেশ্বর্যেপরিপূর্ণ।পুরোহিতরামনে করতেনএমন্দিরটি আক্রমনকরা মাহমুদের সাধ্যেরবাইরে। সুলতান মাহমুদমন্দিরেগচ্ছিতধনরাজিরসংবাদপেয়েসোমনাথ মন্দির আক্রমনের সিদ্ধান্ত নেয়।এমন্দির থেকে মাহমুদ দুকোটিরও বেশি স্বর্ণমুদ্রা ওবিষহাদিরঅলংকার থেকে দুশমনমূল্যবান মণিমুক্তানিয়ে স্বদেশেফিরে যান। ঈশ্বরীপ্রসাদবদেন,সোমনাথবিজয়মাহমুদের ললাটনতুন বিষয়েগৌরব সংযুক্ত করে।উ্দ্দিপকেউল্লেখিত মধ্যযুগেধর্মশ্রিতইউরোপের গির্জা গুলোতে সাধারণ জনগণ তাদের কষ্টার্জিত সম্পদ গচ্ছিত রাখতো। গির্জা গুলো জমাকৃত সম্পদের কারণে বহি শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হতো। মূলত জনসাধারণ তাদের দেবতাদের সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যে তাদের অর্জিত সম্পদ এমন মন্দির বা গির্জা গুলোতে উৎসর্গ করে থাকে।
সুতরাং বলা যাই উদ্দীপকে উল্লেখিত গির্জা গুলোতে বহি শত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাটির সাথে আমার পাঠ্য বইয়ের সোমনাথ মন্দিরের অভিযানের সাদৃশ্য রয়েছে।
উক্ত মন্দির অভিযানের অর্থনৈতিকউদ্দেশ্যে মুখ্য ছিল।আমার মতামতের যথার্থতা নিরূপনের জন্য, ‘An Advanced History Of India' গ্রন্থের ভাষায় বলা যায় “ভারতীয় ধনৈশ্বর্য “ সংগ্রহ সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের মুখ্য উদ্দেশ্য।
নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সুলতান মাহমুদের ভারত আক্রমণের পেছনে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই মুখ্য ছিল।মূলত সুলতান মন্দিরগুলোকে আক্রমণ করেছিল মন্দিরের রক্ষিতধনৈশ্বর্যেরজন্য।এজন্য তাকে অনেকে হিন্দু ধর্ম বিদ্বেষী বলে দাবিকরলেওমূলত ধর্মের ক্ষেত্রে কোন বিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করতেন না। ভারতের বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ করে তিনি বিপুল ধন সম্পদসংগ্রহ করে তিনি তার বিপুল সেনাবাহিনীর ব্যয় ভার বহন করতেন এবং এ সম্পদ দিয়ে তিনি গজনিকে গড়ে তুলেছিলতুলনামূলক উন্নত শহর হিসেবে।সুলতান মাহমুদের যুদ্ধকে ধর্মযুদ্ধ নয় বরং গৌরব ও স্বর্ণের লোভে পরিচালিত পার্থিব যুদ্ধ বলা হয়।সদা প্রতিষ্টিত গজনী রাজ্যের সুদৃঢীকরণ রাজ্য নিজকর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম- নৃপতিদের মধ্যে নিজের প্রমাণ বিশাল সেনাবাহিনীর ব্যয় নির্বাহ মধ্য এশিয়া অভিযান রাজধানী গজনীকে সমৃদ্ধশালী ও সুসজ্জিত করণ এবং জ্ঞান বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা ইত্যাদি কারণে সুলতানের প্রচুর অর্থের প্রয়োজন ছিল।ভারতবর্ষ ছিল ধনেশ্বর্যসমৃদ্ধ একটি দেশ।অর্থ সংগ্রহই ছিল মন্দির সমূহ অভিযানের শীর্ষ কারণ।