| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মধ্যযুগে ইংল্যান্ডে সামন্তবাদী…’ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ – শিল্প বিপ্লব, ইতিহাস, ইতিহাস ২য় পত্র (এইচএসসি)

মধ্যযুগে ইংল্যান্ডে সামন্তবাদী সমাজে ভূস্বামীদের প্রভাব ছিল অধিক। ভূমিই ছিল উৎপাদনের মৌলিক উপাদান। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের আশীর্বাদে ভূমির স্থান দখল করে নেয় পুঁজি। পুঁজিই হয় উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি। সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থার স্থলে পুঁজিবাদী সমাজের সূচনা হয়। ভূস্বামীরা হয়ে যায় বড় বড় কারখানার মালিক। সমাজে উঁচু শ্রেণির উদ্ভব হয়। ধনী-গরিবের বৈষম্য বাড়তে থাকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
লুই অগাস্ট ব্লাস্কি শিল্প বিপ্লব কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন।
ব্রিটেনের কৃষি ব্যবস্থাতে পাঁচ থেকে পনের শতক পর্যন্ত। মধ্যযুগীয় ম্যানর প্রথা কার্যকর ছিল। সাধারণত প্রতিটি গ্রামের সমস্ত জমি নিয়ে এক একটি ম্যানর গড়ে উঠত। নিজেদের প্রয়োজনীয়তার দিকে লক্ষ রেখে ম্যানরের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হতো।। ম্যানরগুলোতে টাকার প্রচলন ছিল না, দ্রব্যের সঙ্গে দ্রব্যের সরাসরি বিনিময় প্রথা ছিল। এসব ম্যানরগুলোতে জমিদারদের কর্তৃত্ব ছিল।
➤ শিল্প বিপ্লব ইংল্যান্ডের সমাজে বিভিন্নভাবে পরিবর্তন ঘটাতে। সহায়তা করে।
➤ উদ্দীপকে উল্লিখিত ইংল্যান্ডের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে শিল্পনির্ভর অর্থনীতিতে প্রবেশ করার মধ্য দিয়ে সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়। যারা ভূস্বামী ছিল তারা পুঁজিপতি হওয়ার ফলে নিম্নশ্রেণির মানুষ আরও বেশি শোষিত হতে থাকে। তেমনি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বলা যায়, শিল্প বিপ্লবের অনিবার্য প্রভাব ইংল্যান্ডের সমাজজীবনে পরিলক্ষিত হয়। কলকারখানা প্রতিষ্ঠার ফলে নতুন নতুন শিল্প-শহর গড়ে ওঠে। গ্রাম থেকে অসংখ্য মানুষ দল বেঁধে কাজের সন্ধানে শহরে চলে আসে। তবে শহরগুলো এত মানুষকে। আশ্রয় দিতে অক্ষম ছিল, কারখানাগুলোও তাদেরকে কাজ দিতে ব্যর্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু গ্রামছাড়া মানুষদের ভিড়ে শহরগুলোকে যে হতশ্রী পরিবেশ সৃষ্টি করে তা ইংল্যান্ডের ঐশ্বর্যকেই যেন পরিহাস করছিল। তবে ইংল্যান্ডের সমাজ ব্যবস্থায় এর ফলে নতুন মেরুকরণও ঘটতে থাকে। আগে সমাজ যেখানে কৃষক ও লর্ড-জমিদার- এ দুই পরস্পর বিরোধী শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল, শিল্প বিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ডে বুর্জোয়া । এবং শ্রমিক-কারিগর শ্রেণিরও অভ্যুদয় ঘটতে থাকে। বুর্জোয়াদের মধ্যেও ধনী, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তের মানুষ ছিলেন। অপরদিকে, শ্রমিকদের জীবন বেশ দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। অধিক পরিশ্রম করেও একজন শ্রমিক ন্যায্য মজুরি পেত না।
➤ সর্বোপরি বলা যায়, শিল্প বিপ্লব যে ইংল্যান্ডের সমাজ পরিবর্তনে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
➤ হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্প বিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ডের সমাজ পরিবর্তনের ফলাফল শুধুই সুফল বয়ে আনেনি বরং শিল্প বিপ্লব পরবর্তী সমাজব্যবস্থায় কিছু কুফলও বয়ে এনেছিল।
➤ উদ্দীপকে উল্লিখিত সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থায় ভূমিই ছিল উৎপাদনের মৌলিক উপাদান। কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আশীর্বাদে ভূমির স্থান দখল করে নেয় পুঁজি। অর্থাৎ শিল্প বিপ্লবের ফলে সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থা পুঁজিবাদী সমাজে রূপ নেয়। অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে শিল্প বিপ্লবের ইতিবাচক ভূমিকার পাশাপাশি বেশকিছু নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে।
➤ অর্থাৎ শিল্প বিপ্লবের সুফল, কুফল দু-ই রয়েছে। শিল্প বিপ্লবের ফলে গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থা পরিবর্তিত হয়ে যন্ত্র নির্ভর ও নগরকেন্দ্রিক সভ্যতার সৃষ্টি হয়। শিল্প বিপ্লব সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থনীতিসহ সকল ক্ষেত্রে জটিলতা ও সংকটও সৃষ্টি করে। সমাজে শ্রমিক ও মালিক নামে দুটি শ্রেণির সৃষ্টি করে। শহরগুলোতে হঠাৎ লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জল সরবরাহ এবং বাসস্থান ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সমস্যা দেখা দেয়। পারিবারিক স্বাস্থ্যরক্ষার ব্যবস্থা না থাকায়, শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা না থাকায় বস্তিগুলো ধীরে ধীরে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে চলে যায়। যন্ত্রের দ্বারা উৎপাদন শুরু হলে যেসব কারিগর নিজ হাতে শিল্পদ্রব্য উৎপাদন করত তারা বেকার হয়ে পড়ে। এছাড়াও শিল্প বিপ্লবের ফলে কুটির শিল্প ধ্বংস হয়ে যায়, শিশুশ্রম বৃদ্ধি পায়, বুর্জোয়া শ্রেণির উদ্ভব ঘটে, গ্রাম শ্রীহীন হয়ে পড়ে, ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার উদ্ভব ঘটে, মালিক-শ্রমিক ও ধনী-গরিবের ব্যবধান ও বৈষম্য বৃদ্ধি পায়, সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের উদ্ভব ঘটে।
➤ তাই বলা যায়, শিল্প বিপ্লব শুধু সুফল বয়ে আনেনি, কুফলও বয়ে এনেছিল।