| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মধুরিমার বাবা একজন…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৬ – আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মধুরিমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য তিনি প্রাণবাজি রেখে হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তাঁর কাছেই শুনেছি ও শিখেছি- ব্যক্তির চেয়ে দেশ বড়ো। বাঙালি বীরের জাতি, তারা থেকে গিয়ে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে জানে না। এজনাই তারা ১৯৭১ সালে ন্যায়সংগত স্বাধীনতার জন্য ঘাতকের বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিল। মধুরিমার বাবা বেঁচে নেই এখন। কিন্তু এই দেশপ্রেমিক যোদ্ধার মতো নাম না জানা শহিদদের আত্মত্যাগ ও আত্মবিসর্জন আমাদেরকে দেশগঠনের অনুপ্রেরণা জোগায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৩
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় 'কবিতা' শব্দটি কবি-একান্ত প্রত্যাশিত মুক্তির প্রতীক
"আমি বিচলিত স্নেহের কথা বলছি" কথাটি দ্বারা আপনজনের স্নেহ-মমতা ও উৎকণ্ঠার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা বলেছেন। তিনি বাঙালি জাতির সংগ্রামের এবং জাতিগত ঐতিহ্যের দিক সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। এসবের মাঝে কবিতায় আপনজনের ভালোবাসার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। এ দেশের মুক্তিকামী মানুষের জন্য তাদের আপনজনের উৎকণ্ঠা ও ভালোবাসায় এক সত্তা তৈরি হয়েছিল। কবি কবিতায় এই সত্তা ও ভালোবাসাকে 'বিচলিত স্নেহ' নামে আখ্যায়িত করেছেন। প্রশ্নোক্ত উক্তিতে স্বজনদের প্রতি এই উৎকণ্ঠিত ভালোবাসার কথাই বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বারা চরিত্রের সাথে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কবিতার কবির পূর্বপুরুষের সংগ্রামী মানসিকতার সাদৃশ্য রয়েছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় প্রকাশিত হয়েছে হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির দিক। কবি তাঁর পূর্বপুরুষের সংগ্রামের চিত্র, তাদের পিঠে অত্যাচারের ক্ষত ও পায়ে সংগ্রামের ক্ষতের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন।
উদ্দীপকের মধুরিমার বাবা মুক্তিযুদ্ধে আপ্রাণ সংগ্রামের কথা বলেছেন। সেই সাথে তিনি বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সংস্কৃতির নানা বিষয়ের গল্প করেছেন 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি বাঙালি জাতির হাজার বছরের সংস্কৃতির ইতিহাস তুলে ধরেছেন। তিনি এ জাতির সংগ্রামের পৌনঃপুনিক ঐতিহ্য বর্ণনা করেছেন। এ দিক থেকে উদ্দীপকের বাবা সাথে আলোচ্য কবিতার কবির পূর্বপুরুষের সংগ্রামী মনোভাবের দিকটির সাদৃশ্য বিদ্যমান।
উদ্দীপক ও 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতা উভয় ক্ষেত্রের বাঙালির হাজার বছরের সংগ্রামের ঐতিহ্য ফুটে উঠেছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার প্রেক্ষাপটে আছে বাঙালি সংস্কৃতির হাজার বছরের ইতিহাস, এ জাতির সংগ্রাম, বিজয় ও মানবিক উদ্ভাষণের অনিন্দ্য অনুষঙ্গসমূহ। তিনি এই কবিতায় পৌনঃপুনিকভাবে মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষায় সোচ্চার।
উদ্দীপকের মধুরিমার মুক্তিযোদ্ধা বাবার কণ্ঠে বাঙালি জাতির সংগ্রাম ও গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকাশিত হয়েছে। জীবন বাজি রেখে সংগ্রামেও বাঙালি কখনো পিছপা হয়নি। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায়ও কবি বাঙালি ভূমিজীবী অনার্য ক্রীতদাসদের সংগ্রামে ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জনের দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন।
উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতার মতোই বাঙালি সংস্কৃতির সম্পূর্ণ দিক প্রকাশ পেয়েছে। ভূমিজীবী অনার্য ক্রীতদাসের সংগ্রাম থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ সর্বত্র ধ্বনিত হয়েছে বাঙালির আপসহীন সংগ্রাম। কবি জানেন মুক্তির পূর্বশর্ত যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে পরিবার-পরিজন ছেড়ে দূরে সরে যেতে হয়। ভালোবাসার জন্য তাদের মুক্তির জন্যই তাদের ছেড়ে যেতে হয়। এই অমোঘ সত্য কবি জেনেছেন স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস থেকে। উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা উভয় ক্ষেত্রেই বাঙালি জাতির আপসহীন সংগ্রাম চিত্রিত হয়েছে।