| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মেধাবী রুবিনার বাবা…’ ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – নেকলেস, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মেধাবী রুবিনার বাবা খুব সামান্য বেতনে চাকরি করেন। তার সহপাঠীরা সকলেই অবস্থাপন্ন পরিবারের। সহপাঠীদের পোশাক, জীবনাচরণের সঙ্গে রুবিনার কিছুতেই খাপ খায় না। তবু তা নিয়ে সে মোটেই হীনম্মন্যতায় ভোগে না। তার ধনী সহপাঠীরাও রুবিনার বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে তার মেধাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। নিজের কঠোর পরিশ্রমে রুবিনা পরীক্ষায় খুব ভালো ফল করে। আজ সে একজন বড়ো কর্মকর্তা।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৮
বন্দুক কিনতে মসিয়ে চারশ ফ্রাঁ সঞ্চয় করেছিল।
জনশিক্ষামন্ত্রীর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার মতো কোনো ভালো পোশাক বা জড়োয়া গহনা মাদাম লোইসেলের ছিল না বলে আমন্ত্রণ-লিপিখানা তিনি টেবিলের ওপর নিক্ষেপ করেন।
'নেকলেস' গল্পে মসিঁয়ে লোইসেল অনেক কষ্টে জনশিক্ষা মন্ত্রীর বল নাচের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণলিপির ব্যবস্থা করেন এবং উল্লসিত হয়ে তা মাদাম লোইসেলকে দেন। মাদাম লোইসেল ওই আমন্ত্রণপত্র পেয়ে খুশি হননি। কারণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার মতো ভালো পোশাক ও গহনা তার ছিল না। তাই তিনি বিরক্ত ও হতাশ হয়ে আমন্ত্রণলিপিখানা টেবিলের ওপর নিক্ষেপ করেন।
রুবিনার সঙ্গে 'নেকলেস' গল্পের মাদাম লোইসেলের সাদৃশ্যপূর্ণ দিক হলো কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতার দিকটি।
'নেকলেস' গল্পটিতে জীবনের কঠিন বাস্তবতায় কল্পনাবিলাসী মানুষের মনোভাবের পরিবর্তন দেখানো হয়েছে। উচ্চাকাঙ্ক্ষী মাদাম লোইসেল বাস্তবজীবনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অনন্য হয়ে ওঠেন। দারিদ্র্যের ভয়াবহতা তাকে দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী ও ত্যাগী করে তোলে।
'নেকলেস' গল্পে প্রথম জীবনে মাদাম লোইসেল একজন উচ্চাভিলাষী নারী ছিলেন। ভাগ্য তাকে এই উচ্চাভিলাষী জীবনের আকাঙ্ক্ষা থেকে বিচ্যুত করেছে। সংসারে যখন প্রবল দারিদ্র্য উপস্থিত তখন তিনি তা জয় করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হয়েছেন। উদ্দীপকের রুবিনাও কঠোর পরিশ্রমী। নিজের দারিদ্র্য নিয়ে সে কখনো হীনম্মন্যতায় ভোগেন না; বরং কঠোর পরিশ্রম করে সফলতার দিকে ধাবিত হয়।
জীবনযাপন ও মানসিকতার দিক থেকে ভিন্নতা থাকায় বলা যায়, পারস্পরিক সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও পরিণতির দিক থেকে রুবিনা আর মাদাম লোইসেলের জীবন ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত উক্তিটি যথার্থ।
'নেকলেস' গল্পে মাদাম লোইসেলের জীবনের একটি করুণ পরিণতির চিত্র দেখানো হয়েছে। উচ্চাভিলাষ তার জীবনকে একটি উপযুক্ত শিক্ষা দেয়। ধনী ও অভিজাতদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে তাকে জীবনে একটি চরম মূল্য দিতে হয়।
'নেকলেস' গল্পে মাদাম লোইসেল দারিদ্র্য ও দেনার দায় থেকে মুক্তির জন্য কঠোর পরিশ্রম শুরু করে। তারা বাসা বদল করে। কাজের লোক বিদায় করে দিয়ে ঘরের সব কাজ সে একা করে। এভাবে দশ বছর ধরে তারা দেনা পরিশোধ করে এবং কিছু সঞ্চয় করতেও সমর্থ হন। উদ্দীপকের রুবিনাও কঠোর পরিশ্রমী। নিজের মেধা ও পরিশ্রমই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এ দিয়েই শেষ পর্যন্ত সে সফল হয়।
উদ্দীপকের রুবিনা ও 'নেকলেস' গল্পের মাদাম লোইসেল উভয়েই পরিশ্রমী। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে রুবিনা আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠে, আর মাদাম লোইসেল দেনার দায় থেকে মুক্তি পায়। এভাবে সাদৃশ্য থাকলেও তাদের জীবন ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত এবং পরিণতিও ভিন্ন। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।