| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মেড্যুলা অব লংগাটার…’ সিলেট বোর্ড ২০১৭ – সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মেড্যুলা অব লংগাটার পার্শ্বদেশ হতে সৃষ্ট একজোড়া স্নায়ু দেহের সবচেয়ে ক্ষুদ্র অস্থিসম্পন্ন একটি ইন্দ্রিয়ের অংশবিশেষ হতে উদ্দীপনা বহন করে মস্তিষ্কে নিয়ে আসে। তখন মস্তিষ্ক বিভিন্ন পেশিকে নির্দেশ দানের মাধ্যমে ইন্দ্রিয়টির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৮
মানুষের রক্তবাহিকায় অবস্থিত চাপ-সংবেদী স্নায়ুপ্রান্তগুলো, অস্বাভাবিক রক্তচাপ শনাক্ত করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বার্তা পাঠানোর প্রেক্ষিতে হৃদস্পন্দন ও শক্তি নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াই হলো ব্যারোরিফ্লেক্স।
মানুষের মস্তিষ্ক বা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র তিনটি ঝিল্লি দ্বারা আবৃত থাকে এদের মেনিনজেস বলে। মেনিনজেস জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হলে মেনিনজাইটিস রোগ হয়। মেনিনজাইটিস-এর ফলে মস্তিষ্কের অনেক ক্ষতি সাধিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ইন্দ্রিয়টি হলো মানুষের কান, যা দেহের সবচেয়ে ক্ষুদ্র অস্থিসম্পন্ন। মস্তিষ্ক থেকে আগত স্নায়ু কানের সবচেয়ে ভিতরের অংশ অর্থাৎ অন্তঃকর্ণের সাথে যুক্ত থেকে উদ্দীপনা বহন করে। নিচে অন্তঃকর্ণের গঠন বর্ণনা করা হলো:
করোটির শ্রুতিকোটরে অবস্থিত অন্তঃকর্ণের গঠনকে মেমব্রেনাস ল্যাবিরিন্থ বলে। এটি অস্থিময় ল্যাবিরিন্থ এ পরিবেষ্টিত। মেমব্রেনাস ল্যাবিরিন্থ এন্ডোলিম্ফ নামক তরলে এবং অস্থিময় ল্যাবিরিন্থ পেরিলিফ- এ পূর্ণ। প্রত্যেক অন্তঃকর্ণ দুটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। যথা- ইউট্রিকুলাস এবং স্যাকুলাস। ইউট্রিকুলাস হলো অন্তঃকর্ণের উপরদিকের গোল প্রকোষ্ঠ যেখানে তিনটি অর্ধবৃত্তাকার নালি থাকে। প্রত্যেক নালির এক প্রান্ত স্ফীত হয়ে অ্যাম্পুলা গঠন করে যার মধ্যে সংবেদী কোষ ও রোম থাকে। রোমগুলো চুনময় ওটোলিথ দানা সম্বলিত জেলির মতো ক্যুপুলা-য় আবৃত। স্যাকুলাস হলো অন্তঃকর্ণের নিচের দিকের প্রকোষ্ঠ যেখানে একটি প্যাঁচানো নালিকা বা ককলিয়া রয়েছে। এটি তিন প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। উপরে পেরিলিফে পূর্ণ স্ক্যালা ভেস্টিবুলি, মাঝে এন্ডোলিম্ফে পূর্ণ স্ক্যালা মিডিয়া এবং নিচে পেরিলিম্ফে পূর্ণ স্ক্যালা টিমপেনি। স্ক্যালা মিডিয়ার উপরে রেসনার ঝিল্লি ও নিচে বেসিলার ঝিল্লিতে আবদ্ধ। বেসিলার ঝিল্লির উপরের কিছু এপিথেলিয়াল কোষ রূপান্তরিত হয়ে সংবেদী অর্গান অব কটি গঠন করেছে। এগুলোর সংবেদী রোম ও ক্যুপুলায় আবৃত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো মানুষের-কান। ইহা দেহের সবচেয়ে ক্ষুদ্র অস্থিসমূহ- ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস নিয়ে গঠিত। মানুষের কান শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষার কাজ করে। উভয় কাজে অস্থিসমূহের ভূমিকা নিচে বর্ণনা করা হলো-
মানুষের বহিঃকর্ণ বা পিনায় গৃহীত শব্দতরঙ্গ বহিঃঅডিটরি মিটাসে প্রবেশ করে টিমপেনিক পর্দাকে আঘাত করলে তা কেঁপে ওঠে। কাঁপনে মধ্যকর্ণে অবস্থিত ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস অস্থি তিনটি এমনভাবে আন্দোলিত হয় যার ফলে প্রথমে ফেনেস্ট্রা ওভালিসের পর্দা ও পরে অন্তঃকর্ণের ককলিয়ার পেরিলিম্ফে কাঁপন সৃষ্টি হয়। এই কাঁপন ককলিয়ার অর্গান অব কর্টির সংবেদী রোম কোষগুলোকে উদ্দীপ্ত করে। স্নায়ু আবেগের সৃষ্টি করে, যা অডিটরি স্নায়ু দ্বারা মস্তিষ্কে বাহিত হলে মানুষ শুনতে পায়। ভারসাম্য রক্ষা মূলত অন্তঃকর্ণের ইউট্রিকুলাস ও স্যাকুলাসে বিদ্যমান সংবেদী লোমকোষ করে থাকে। অস্থিসমূহ পরোক্ষভাবে দেহের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। এদের মাধ্যমে শ্রবণ অনুভূতির সৃষ্টি হলে, মানুষ শব্দের উৎসের দিকে ঘুরে যায় এবং অন্তঃকর্ণের সংবেদী লোমকোষ তখন সমগ্র দেহের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
এভাবে কানের অস্থিসমূহ প্রত্যক্ষভাবে শ্রবণে এবং পরোক্ষভাবে দেহের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে।