| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’মেঘনাদবধ-কাব্যে’র দেশপ্রেমিক রাক্ষসরাজ…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৮ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

‘মেঘনাদবধ-কাব্যে’র দেশপ্রেমিক রাক্ষসরাজ রাবণ দেশে শত্রুবেষ্টিত ও অবরুদ্ধ। রামচন্দ্র ও তার বানর সৈন্য লঙ্কা নগরীকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। রাবণের অনুজ বিভীষণ শত্রুসেনাদের সাথে যোগ দিয়ে রাবণের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। চারিদিকে অবিশ্বাস, প্রতারণা ও বিপর্যয়ের হাতছানি। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বীর পুত্রদের মৃত্যুর খবর আসে তাঁর কানে। বিষণ্ণ ও দ্রোহক্ষুব্ধ রাবণ শত্রুর মোকাবিলা করার জন্য যুদ্ধসাজ নিয়ে রণক্ষেত্রে অগ্রসর হয়। দেশের জন্য এ সংগ্রাম প্রকৃত বীরত্বের মহিমায় উজ্জ্বল।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
মিরনের নির্দেশে সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করা হয়।
শওকতজঙ্গ ঘসেটি বেগমের আস্থাভাজন হওয়ায় সে নবাব হলে ষড়যন্ত্রকারীদের স্বার্থসিদ্ধি ঘটবে, এমনটিই প্রকাশ পেয়েছে প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে।
আলিবর্দি খানের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন তার দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলা। কিন্তু ঘসেটি বেগমসহ অন্যান্য চক্রান্তকারী এটি মেনে নিতে পারে না। তারা সিরাজউদ্দৌলার খালাতো ভাই শওকত জঙ্গকেই যোগ্য উত্তরাধিকারী মনে করে। কেননা, সিরাজউদ্দৌলা নবাব হওয়ায় তাদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। ফলে ঘসেটি বেগমের স্নেহধন্য শওকতজজাকে নবাব বানাতে পারলে নিজেদের স্বেচ্ছাচারিতায় কোনো অন্তরায় থাকবে না বলে মনে করে ষড়যন্ত্রকারীরা। আর এজন্যই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে।
বিপর্যস্ত অবস্থার দিক থেকে উদ্দীপকের রাবণ চরিত্রটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আলোচ্য নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে আসীন হয়েই নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন। তিনি অমাত্যদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং প্রাসাদ-ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বিপর্যয়ের মধ্যে পতিত হন। তারপরও শত্রুর কাছে মাথা নত করেননি। স্বল্পসংখ্যক বিশ্বস্ত সৈন্য নিয়েই তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোনো সন্ধির পথ বেছে নেননি। বরং মৃত্যুকেই আলিঙ্গন করে নিয়েছেন অবলীলায়।
উদ্দীপকে রাক্ষসরাজ রাবণকে নিদারুণ সংকটের মুখোমুখি হতে দেখা যায়। একদিকে শত্রুবেষ্টিত অবস্থা, অন্যদিকে আত্মীয়ের বিশ্বাসঘাতকতা তাঁকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। সর্বোপরি যুদ্ধক্ষেত্রে পুত্রদের মৃত্যুসংবাদ রাবণকে করুণ পরিস্থিতির সম্মুখীন করেছে। এ অবস্থাতেও সে শত্রুকে রুখে দিতে বদ্ধপরিকর। তাই মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে নিজেই রণসাজে সজ্জিত হয়ে যুদ্ধের ময়দানে অগ্রসর হয় রাবণ। আর রাবণ চরিত্রের এই সংকটাপন্ন দিকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান। এভাবেই চরিত্র দুটি পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে প্রতিফলিত দেশপ্রেম 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাবের স্বাধীনতা রক্ষার তাগিদের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।
আলোচ্য নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন দেশপ্রেমে বলীয়ান। তিনি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমৃত্যু লড়াই করেছেন। অমাত্যবর্গের বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রাসাদ-ষড়যন্ত্র এবং ইংরেজ বেনিয়াদের আগ্রাসন তাঁকে টলাতে পারেনি। তাই পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হয়েও তিনি দেশপ্রেমী জনতাকে আহ্বান জানিয়েছেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য।
উদ্দীপকে রাক্ষসরাজ রাবণ দেশপ্রেমের এক অনুপম দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। তিনি চারদিকের বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণার কারণে বিপর্যয়কর অবস্থায় পতিত হলেও ভেঙে পড়েননি। যুদ্ধের ময়দান। থেকে বীর পুত্রদের মৃত্যুসংবাদ শুনেও নিজের প্রতিজ্ঞায় অটল থেকেছেন। তিনি। দেশকে রক্ষার সংগ্রামে রাবণ নিজেই রণসাজে সজ্জিত হয়ে ছুটে গিয়েছেন রণাঙ্গনে। দেশের জন্য রাবণের এই ত্যাগ ও সংগ্রাম তাঁকে বীরত্বের মহিমায় উজ্জ্বল করে তুলেছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর কর্মকাণ্ডে দেশপ্রেমের যে স্বরূপ তুলে ধরেছেন তা উদ্দীপকের রাক্ষসরাজ রাবণের দেশপ্রেমের সমতুল্য। নবাব সিরাজউদ্দৌলা যেমন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর ছিলেন তেমনি রাবণও দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় ছিলেন প্রতিশ্রুতিশীল। তাঁরা উভয়ই দেশমাতৃকার জন্য মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে ছুটে গিয়েছেন রণাঙ্গনে। তাই বলা যায়, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার দেশাত্মবোধের মধ্য দিয়ে উদ্দীপকে প্রকাশিত দেশপ্রেমের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।