| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মেজবাহ ও বিলকিছ…’ চট্টগ্রাম কলেজ ২০২৫ – নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

মেজবাহ ও বিলকিছ চাচাতো ভাই-বোন। তাদের উভয়ের ভোট প্রদান, পেশা বাছাই ও ধর্মাচারের সমান অধিকার রয়েছে। তারা একই অফিসে কাজ করে। তাদের কাজের ধরন একই। কিন্তু মেজবাহর মজুরি বিলকিছের চেয়ে বেশি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
রাষ্ট্রের কাজে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নাগরিকরা যেসব অধিকার ভোগ করে সেসব অধিকারের সমষ্টিই হচ্ছে রাজনৈতিক অধিকার।
বিশ্বের নাগরিক হিসেবে নাগরিকগণ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে সকল অধিকার ভোগ করে তাই মানবাধিকার। মূলত মানবাধিকার অধিকারেরই একটি বিস্তৃত রূপ, যা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। মানবাধিকার কোনো দেশ বা কালের সীমানায় আবদ্ধ নয় বরং এ অধিকার সব দেশের সব কালের।
উদ্দীপকে বর্ণিত অধিকার ছাড়াও নাগরিকের আরও কিছু রাজনৈতিক অধিকার রয়েছে।
নাগরিকগণ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের জন্য যে সমস্ত অধিকার ভোগ করে থাকে তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। গণতান্ত্রিক সরকারের ভিত্তিতে রাজনৈতিক অধিকার স্বীকৃত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মেজবাহ ও বিলকিছ চাচাতো ভাইবোন এবং তাদের উভয়ের ভোট প্রদান, পেশা বাছাই ও ধর্মচর্চার সমান অধিকার রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত রাজনৈতিক অধিকার ছাড়াও একজন নাগরিকের নির্বাচিত হওয়ার অধিকার রয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ভোটদানের পাশাপাশি নির্বাচিত পদের জন্য প্রতিযোগিতা করতে পারবে। সরকারি কাজের সমালোচনা করা নাগরিকের অন্যতম রাজনৈতিক অধিকার। এর দ্বারা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকরা সরকারি কাজের ত্রুটিবিচ্যুতি আইনগতভাবে সমালোচনা করতে পারে। বিদেশে অবস্থানকালে নাগরিক তার নিরাপত্তার জন্য নিজ রাষ্ট্রে সাহায্য প্রার্থনা করতে পারে যা নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকারভুক্ত। এছাড়া সরকারের বিরুদ্ধে কোনো অভাব অভিযোগ থাকলে নাগরিকগণ শাসন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করতে পারে। এতে নাগরিকের অভাব-অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়। উপরিউক্ত রাজনৈতিক অধিকার ভোগের মাধ্যমেই নাগরিকগণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত অধিকারগুলো ছাড়াও নাগরিকগণের আরও বেশকিছু রাজনৈতিক অধিকার রয়েছে।
বিলকিছ যে ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে তা হলো অর্থনৈতিক অধিকার। আইনের সুষ্ঠু ও যথাযথ প্রয়োগ এবং সাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিলকিছের সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে আমি মনে করি।
যে অধিকার ব্যক্তিকে অভাব ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়ে অর্থনৈতিক জীবনের নিরাপত্তা বিধান করে তাকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। উদ্দীপকে লক্ষণীয় যে, মেজবাহ ও বিলকিছ চাচাতো ভাইবোন এবং তারা একই অফিসে কাজ করে। কিন্তু তাদের কাজের ধরন এক হওয়া সত্ত্বেও মেজবাহের মজুরি বিলকিছের চেয়ে বেশি। অর্থাৎ বিলকিছ অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তার এরূপ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বা রক্ষার জন্য সর্বাগ্রে যথাযথ আইনের বাস্তবায়ন প্রয়োজন। আইনের সুষ্ঠু ও যথাযথ প্রয়োগের দ্বারাই রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা করা সম্ভব। এ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন আইনের অনুশাসন। আইনের অনুশাসনের অর্থ হলো সর্বক্ষেত্রে আইনের প্রাধান্য। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। এখানে নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব কোনো ভেদাভেদ নেই। এছাড়াও স্বাধীন বিচার বিভাগের উপস্থিতি এ সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এ ধরনের অধিকার রক্ষার প্রধান হাতিয়ার হলো জনগণের সচেতনতা ও সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা। জনগণ যদি তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় তাহলে অন্য কেউ তা খর্ব করতে পারবে না। আর সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা পেলে নারী-পুরুষ উভয় তাদের ন্যায্য সমতা ভোগ করতে পারবে। যা সমাজে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারী পুরুষের এ ধরনের বৈষম্য দূর করতে সহায়তা করবে।
পরিশেষে বলা যায়, নারীর ক্ষমতায়ন, সমমর্যাদা, সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিলকিছের মতো নারীদের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।