| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মেন্ডেলের ১ম সূত্রের…’ সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ২০২৫ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মেন্ডেলের ১ম সূত্রের ব্যতিক্রমের ফলে প্রথম দুটি অনুপাত হয় ১:২: ১ এবং তৃতীয় অনুপাত দাঁড়ায় ২:১।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
মেন্ডেলের দ্বিলক্ষণ সংকরায়ন নিয়ে গবেষণা ও ফলাফলকে সামগ্রিকভাবে মেন্ডেলিয়ান ইনহেরিট্যান্স বলে।
লোহিত রক্তকণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত কতকগুলো অ্যান্টিজেন এর উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে বিজ্ঞানী ল্যান্ডস্টেইনার মানুষের রক্তের যে শ্রেণিবিন্যাস করেন তাকে ABO ব্লাড গ্রুপ বলে। মানুষের রক্তে A ও B এই দুইরকম অ্যান্টিজেন থাকতে পারে। A অ্যান্টিজেন থাকলে তাকে A ব্লাড গ্রুপ, B অ্যান্টিজেন থাকলে তাকে B ব্লাড গ্রুপ, A ও B উভয় থাকলে তাকে AB ব্লাড গ্রুপ আর কোনো অ্যান্টিজেন না থাকলে তাকে ০ ব্লাড গ্রুপ বলে। সুতরাং মানুষের রক্তের চারটি সুনির্দিষ্ট রক্ত গ্রুপ রয়েছে। এ চারটি গ্রুপ হচ্ছে: A, B, AB এবং O। এই চারটি রক্ত গ্রুপের সমন্বিত রূপ হচ্ছে ABO ব্লাড গ্রুপ।
উদ্দীপকে উল্লেখিত তৃতীয় অনুপাতটি হলো ২: ১ যা মেন্ডেলের ১ম সূত্রের ব্যতিক্রম। তৃতীয় অনুপাতে অর্থাৎ ২: ১ অনুপাতে সন্তান মৃত হওয়ার কারণ হলো লিথাল জিনের প্রভাব। নিচে ২: ১ অনুপাতে একটি সন্তান মৃত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
যেসব জিন হোমোজাইগাস অবস্থায় উপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট জীবের মৃত্যু ঘটে সেসব জিনকে লিথাল জিন বলে।
ধরা যাক, ইঁদুরের গায়ের হলুদ লোমের জন্য দায়ী জিন Y এবং অ্যাগাউটি বর্ণের লোমের জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন জিন y..
মেন্ডেলের সূত্রানুসারে বিশুদ্ধ হলুদ বর্ণের ইঁদুরের জিনোটাইপ YY এবং বিশুদ্ধ অ্যাগাউটি বর্ণের ইঁদুরের জিনোটাইপ yy. কিন্তু প্রকৃতিতে যেসব হলুদ বর্ণের ইঁদুর পাওয়া যায় তার কোনোটিই বিশুদ্ধ নয়। কারণ Y জিন হোমোজাইগাস অবস্থায় লিথাল জিন হিসেবে কাজ করে ভূণ অবস্থায় ইঁদুরের মৃত্যু ঘটায়। তাই প্রকৃতিতে যেসব হলুদ বর্ণের ইঁদুর পাওয়া যায় তারা সবাই হেটারোজাইগাস। অর্থাৎ সংকর
(Yy) প্রকৃতির।
পিতামাতা:
ক্যুঁয়েনোর উল্লেখিত বিশ্লেষণে জানা যায় যে, হোমোজাইগাস প্রকট জিনোটাইপধারী (YY) শাবকগুলো ভ্রূণাবস্থায় মারা যায়। ফলে অপত্য বংশে হলুদাভ ও হলুদবিহীন ইদুরের অনুপাত ৩: ১ না হয়ে ২: ১ হয়।
উদ্দীপকের প্রথম দুটি অনুপাত হলো ১:২:১ যা মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রম অসম্পূর্ণ প্রকটতা এবং সমপ্রকটতাকে নির্দেশ করে। এই অনুপাত দুটি একই হলেও ঘটনা দুটি ভিন্ন নিচে আলোচনা করা হলো-
১. অসম্পূর্ণ প্রকটতা: যখন একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন দুটি জীবে সংকরায়ণ (ক্রস) ঘটে কিন্তু বংশধরে (F; জনুতে) প্রকট ফিনোটাইপ পূর্ণ প্রকাশে ব্যর্থ হয় এবং উভয় বৈশিষ্ট্যের মাঝামাঝি এক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটে তখন তাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলে। অসম্পূর্ণ প্রকটতার জন্য দায়ী জিনগুলোকে ইন্টারমিডিয়েট জিন বলে। অসম্পূর্ণ প্রকটতার কারণে মেন্ডেলের মনোহাইব্রিড ক্রসের অনুপাত ৩:১ এর পরিবর্তে ১: ২:১ হয়।
২. সমপ্রকটতা: সমসংস্থ ক্রোমোজোমের একই লোকাসে অবস্থিত বিপরীত বৈশিষ্ট্যের দুটি অ্যালিল হেটারোজাইগাস অবস্থায় যখন প্রকট-প্রচ্ছন্ন সম্পর্কের পরিবর্তে উভয়েই সমানভাবে প্রকাশিত হয়, তখন জিনের এ ধরনের স্বভাবকে সমপ্রকটতা বলে। অন্যভাবে বলা যায়, সংকর জীবে যখন দুটি বিপরীতধর্মী জিনের দুটি বৈশিষ্ট্যই সমানভাবে প্রকাশিত হয় তখন তাকে সমপ্রকটতা বলে। এতে মেন্ডেলিয়ান ৩:১ অনুপাতটি পরিবর্তিত হয়ে ১:২:১ রূপে প্রকাশ পায়।
অতএব উল্লেখিত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, প্রথম দুটি অনুপাত অর্থাৎ অসম্পূর্ণ প্রকটতা ও সমপ্রকটতার অনুপাত একই হলেও ঘটনা দুটি ভিন্ন।