| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মহিমা একাদশ শ্রেণিতে…’ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৬ – পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

মহিমা একাদশ শ্রেণিতে পাঠ্যসূচিভুক্ত এমন একটি বিষয় নিয়েছে যেটি সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পাশাপাশি রাষ্ট্র, সরকার, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে আলোচনা করে ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। অন্যদিকে তার বন্ধু জিতুর পাঠ্য বিষয়টি শিক্ষা দেয় সীমিত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে মানুষের অসীম অভাব দূর করা যায়। এছাড়াও বিষয়টি সম্পদ, উৎপাদন, বণ্টনব্যবস্থা, বাজেট ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
পৌরনীতি সম্পর্কে ই. এম. হোয়াইট বলেন, "পৌরনীতি হলো মানবজ্ঞানের সেই মূল্যবান শাখা, যা নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং স্থানীয়, জাতীয় ও মানবতার সাথে জড়িত প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে"।
পৌরনীতি শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Civics', যা ল্যাটিন শব্দ 'Civis' এবং 'Civitas' থেকে উদ্ভূত হয়েছে। সংস্কৃত শব্দ 'পুর' বা 'পুরী' থেকে 'পৌর' শব্দটি এসেছে, যার অর্থ নগর। অন্যদিকে ল্যাটিন 'Civis' অর্থ নাগরিক এবং 'Civitas' অর্থ নগররাষ্ট্র। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্রে নাগরিকদের আচার-আচরণ ও কার্যাবলি কেন্দ্রিক যে জ্ঞানের শাখা গড়ে উঠেছিল, তার নামই পৌরনীতি।
উদ্দীপকে মহিমার পঠিত বিষয়টি হলো 'পৌরনীতি ও সুশাসন', যা একজন ব্যক্তিকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মহিমার বিষয়টি অর্থাৎ পৌরনীতি ও সুশাসন সুনাগরিকের গুণাবলি যেমন- বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম অর্জনে সহায়তা করে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সফল করতে শেখায়। এ বিষয়টি পাঠের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের রাষ্ট্রীয় ও মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের প্রতি পালনীয় দায়িত্ব সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করতে পারে। একইসাথে এ বিষয়টি পাঠের মাধ্যমে রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানার মাধ্যমে নাগরিকদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। বিষয়টি পাঠের মাধ্যমে নাগরিকরা দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জেনে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয় এবং স্বাধীনতা রক্ষায় সৈনিক হিসেবে প্রস্তুত থাকে। এটি মনের সংকীর্ণতা ও গোঁড়ামি দূর করে ভ্রাতৃত্বরোধ ও মানবতাবোধ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মহিমার পাঠ্য বিষয় 'পৌরনীতি ও সুশাসন' এবং জিতুর পাঠ্য বিষয় 'অর্থনীতি' উভয়ই সমাজবিজ্ঞানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মানুষের কল্যাণ সাধনে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে। উভয় শাস্ত্রই পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি উভয় শাস্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকের উন্নয়ন ও সর্বাধিক মঙ্গল সাধন করা। পৌরনীতি নাগরিকের রাজনৈতিক আচরণ ও অধিকার নিয়ে কাজ করে, আর অর্থনীতি সীমিত সম্পদের সুষম বণ্টন ও অর্থনৈতিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে। মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবন একে অপরের পরিপূরক। নাগরিকরা যখন অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হয় এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহার জানে, তখনই তারা সুনাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। আবার সুশাসন ও শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামো ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমান জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রগুলো উৎপাদন, বণ্টন, বাজেট প্রণয়ন এবং আমদানি-রপ্তানির মতো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরাসরি পরিচালনা করে। শাসনকার্যে সফল হতে হলে একজন নেতাকে অবশ্যই অর্থনৈতিক বিষয়াদি যেমন- মুদ্রাব্যবস্থা ও সামাজিক উন্নয়ন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখতে হয়। অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদরা যদি জাতীয় চরিত্র ও নাগরিক আচরণের দিকে লক্ষ না রেখে পরিকল্পনা করেন, তবে তা সফল হয় না।
পরিশেষে বলা যায়, সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন আবশ্যক। সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার ও উপযোগ লাভ করার শিক্ষা অর্থনীতি থেকেই আসে, যা ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা অসাধ্য। এ প্রসঙ্গে ম্যাকাইভার বলে, সকল শাসন পদ্ধতি তার অনুরূপ সম্পত্তি ব্যবস্থার রূপ পরিগ্রহ করে। সুতরাং, একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত সমাজ বিনির্মাণে পৌরনীতি ও অর্থনীতির মধ্যকার নিবিড় সমন্বয় একান্ত জরুরি।