| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মহুয়া শহরে একটি…’ a – বিলাসী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মহুয়া শহরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। তার শহরে কাজ করার বিষয়টি গ্রামের কিছু মানুষ পছন্দ করে না। উপরন্তু তার নামে দুর্নাম রটনা করে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসলে গ্রামের মানুষগুলো মহুয়ার নামে বিচার বসায়। তারা মহুয়াকে জোর করে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মহুয়া তাতে প্রতিবাদ করে। অসুস্থ মাকে রেখে সে কিছুতেই কোথাও যাবে না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
এডেন সামুদ্রিক লবণ তৈরির জন্য বিখ্যাত।
উদ্ধৃত উক্তিটির মাধ্যমে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জারের সেবায় রত বিলাসীর কৃষ্ণ শারীরিক অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে। "বিলাসী' গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে পড়লে বিলাসী রাতের পর রাত জেগে তার সেবা-শুশ্রূষা করে। এই নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমে বিলাসী সে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তার সারা শরীরে একটা অপরিসীম ক্লান্তি ও নিরবচ্ছিন্ন রাত জাগার ছাপ পড়ে যায়। তার এ সজীবতাহীন ও অবসন্ন শরীরকে গল্পের কথক তুলে ধরেছে উক্তিটির মাধ্যমে।
বিলাসী চরিত্রের মানবসেবাধর্ম ও উপার্জনক্ষমতার দিকটি মহুয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'বিলাসী' গল্পে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীর সাথে উচ্চবর্ণের ছেলে মৃত্যুঞ্জয় প্রণয় ও পরিণয়ে আবদ্ধ হয়। বিশেষত মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতায় বিলাসীর সেবা মৃত্যুঞ্জয়কে তথাকথিত সামাজিক ও ধর্মীয় বিধি-নিষেধ ভাঙতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সমাজ বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি এবং বিলাসীর সাথে মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার নেতৃত্বে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। কিন্তু বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়কে আলাদা করা সম্ভব হয়নি।
উদ্দীপকে মহুয়া মায়ের ভালোবাসায় সমাজের সকল অপঘাতে বিরুদ্ধাচারণ করে প্রতিবাদী হয়ে উঠে গ্রাম ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়। মায়ের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চায়। এদিকটি "বিলাসী" গল্পের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
আবার, বিলাসী গল্পের বিলাসী ও উদ্দীপকের মহুয়া উভয়ই স্বনির্ভর উপার্জনে সক্ষম নারী। এদিক থেকেও তাদের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের মহড়া প্রতিবাদী চরিত্র হলেও "বিলাসী" গল্পের বিলাসী প্রতিবাদী নয়।
'বিলাসী' গল্পের নাম চরিত্র বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে। তার নিবিড় সেবা-যত্নে মৃত্যুঞ্জয় কঠিন রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করে। এরপরই মৃত্যুঞ্চায়ের সঙ্গে . বিলাসীর বিয়ে দেয় বিলাসীর পিতা। মৃত্যুঞ্জয়ের স্বার্থান্বেষী গুঁড়া এ বিয়ে 'ও বিলাসীর হাতে মৃত্যুঞ্জয়ের ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামের লোকদের খেপিয়ে তোলে। গ্রামের লোকেরা নির্যাতন করে বিলাসীকে বাড়ি ছাড়া করে। কিন্তু বিলাসী তাতে কোন প্রতিবাদ করে না।
অপরদিকে উদ্দীপকের মহুয়া শহরে পোশাকখানায় কাজ করে ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসলে গ্রামের মানুষগুলো মহুয়ার নামে বিচার বসায়। কারণ তার শহরে কাজ করার বিষয়টি গ্রামের কিছু মানুষ পছন্দ করে না। তারা মহুয়াকে জোর করে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মহুয়া তাতে প্রতিবাদ করে। অসুস্থ মাকে রেখে সে কিছুতেই কোথাও যাবে না। সে সমস্বরে প্রতিবাদ জানায়। এ থেকে বোঝা যায়, মহুয়া একটি প্রতিবাদী নারী চরিত্র।
বিলাসী গল্পে সংকীর্ণ সমাজ দৃষ্টির উর্ধ্বে মানব মানবীর প্রেমের স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে উদ্দীপকে নারী ক্ষমতায়নের বিপক্ষ শক্তির অবস্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে। আবার উদ্দীপকে মা-মেয়ের ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে।
তাই বলা যায়, "বিলাসী ও মহুয়া পরস্পর বিপরীত চরিত্রের মানুষ।”— মন্তব্যটি যথার্থ।