| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মি. আহসান দীর্ঘ…’ a – বারিমণ্ডল, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

মি. আহসান দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ নৌবাহিনীতে চাকরি করছেন। নৌপথে পরিভ্রমণে তিনি বিভিন্ন দেশ পাড়ি জমিয়েছেন। তন্মধ্যে ইউরোপ, উত্তর, ও দক্ষিণ, আমেরিকায় তিনি বেশি পরিভ্রমণ করেছেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর সমুদ্রখাতের সংখ্যা সর্বাধিক।
আগ্নেয়গিরি থেকে 'লাভা নির্গত হয়ে সমুদ্রগর্ভে সঞ্চিত শৈলশিলাকে নিমজ্জিত শৈলশিরা বলে।
আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে শৈলশিরার সৃষ্টি হয়। পৃথিবীর মহাদেশীয় উঁচু ভূভাগের ন্যায় মহাসাগরের তলদেশেও অনেক শৈলশিরা অবস্থিত। যেমন- প্যাসিফিক এন্টার্কটিকা শৈলশিরা, মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা, ডলফিন শৈলশিরা, গ্রিনল্যান্ড শৈলশিরা প্রভৃতি। নিমজ্জিত শৈলশিরার মধ্যে মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। শৈলশিরা মহাসাগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। তাছাড়া শৈলশিরার ওপর ভিত্তি করে অনেক দ্বীপ গঠিত হয়। ফলে সেখানে ব্যবসায়-বাণিজ্য ও বসতি গড়ে ওঠে।
নৌপথে পরিবহনে মি. আহসানের মতো নাবিকদের পৃথিবীর মহাসাগরীয় মানচিত্র বা গতিপথ সম্পর্কিত জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।
পৃথিবীর প্রায় ৭১% জল এবং অবশিষ্ট ২৯% প্রায় স্থল। পৃথিবীর এ বিশাল জলরাশির একটি বড় অংশ হলো মহাসাগর। মহাদেশগুলোকে আবৃত করে যেসব জলরাশি অবস্থিত সেগুলোই মহাসাগর হিসেবে পরিচিত। পৃথিবীতে এরূপ পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে।
উদ্দীপকের মি. আহসানের মতো নাবিকদের নৌপথে পরিভ্রমণে সর্বপ্রথম নৌপথের গতিপথ বা মানচিত্রবিষয়ক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। কারণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য এর গতিপথ সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে তাতে ভোগান্তিরই শিকার হতে হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কোনো যাত্রাগামী জাহাজ যদি উত্তর আমেরিকা থেকে সমুদ্রপথে দক্ষিণ আমেরিকায় যেতে চায় তাহলে তাকে আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে পাড়ি জমাতে হবে। এজন্য মি. আহসানের মতো নাবিকদের নৌপথে পরিবহনের মহাসাগরের মানচিত্র বা গতিপথ সম্পর্কে তীক্ষ্ণ অভিজ্ঞতার প্রয়োজন পড়ে।
নৌপথে পরিভ্রমণে মি. আহসান বেশিরভাগ সময় আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে চলাচল বা যাত্রা করেছেন।
আটলান্টিক মহাসাগর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর। এ মহাসাগরের আয়তন সমগ্র ভূভাগের প্রায় ১৬% ভাগ এবং প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় অর্ধেক। এ মহাসাগরের পশ্চিমে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং পূর্বদিকে ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ।
উদ্দীপকের দীর্ঘ অভিজ্ঞ নাবিক মি. আহসান আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে বেশিরভাগ সময় সমুদ্রযাত্রা করেছেন। কারণ তিনি বেশি পরিভ্রমণ করেছেন উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ইউরোপ মহাদেশে। আর ইউরোপ ও আমেরিকা মহাদেশে যাত্রার অন্যতম প্রধান নৌপথ হলো আটলান্টিক মহাসাগর। অর্থাৎ আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং পূর্বে ইউরোপ ও আফিকা মহাদেশ।
সুতরাং বলা যায়, মি. আহসানের পরিভ্রমণকৃত মহাসাগর হলো আটলান্টিক মহাসাগর। যে মহাসাগরের বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্য সমগ্র বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।