| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মি. আমিন বাংলাদেশের…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭ – সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

মি. আমিন বাংলাদেশের একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ পদে কর্মরত। প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কর্মে যোগ্য নাগরিকদের নিয়োগের সার্বিক কাজ তাঁর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। তাঁর বন্ধু মি. আতিক তার পুত্রের জন্য একটি চাকরির সুপারিশ করেন। মি. আমিন তাঁর বন্ধুকে জানিয়ে দেন তিনি যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। সততার সাথে উপযুক্ত ও দক্ষ লোকের নিয়োগ প্রদান করাই এ প্রতিষ্ঠানের কাজ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
জাতীয় সংসদের সদস্য সংখ্যা ৩৫০।
বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার একটি বৈশিষ্ট্য হলো প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের অস্তিত্ব।
বাংলাদেশের সংবিধানে ১১৭ নং অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এটি একটি স্বতন্ত্র বিচার ব্যবস্থা, যা সুপ্রিম কোর্টের অধীনে নয়। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা ও প্রকৃতি, ট্রাইব্যুনালের সদস্যসংখ্যা, সদস্যদের নিয়োগ পদ্ধতি ও কর্মের শর্তাবলি সংসদ আইন দ্বারা নির্ধারিত হয়।
মি. আমিন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সভাপতির পদে কর্মরত।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রশাসন ব্যবস্থায় সুদক্ষ সরকারি কর্মকর্তা সংগ্রহ ও নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে। উদ্দীপকে এ প্রতিষ্ঠানটিরই ইঙ্গিত লক্ষণীয়।
মি. আমিন প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কর্মে যোগ্য নাগরিকদের নিয়োগের সার্বিক কাজ করে থাকেন। তার প্রতিষ্ঠানটি নিরপেক্ষভাবে সততার সাথে উপযুক্ত ও দক্ষ লোক নিয়োগ করে। আমরা জানি, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনই এ কাজ করে থাকে। একজন সভাপতি এবং কয়েকজন সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম-কমিশন গঠিত। রাষ্ট্রপতির ৫৭ নং অধ্যাদেশ বলে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য সংখ্যা সভাপতিসহ অন্যূন ৬ জন এবং অনুর্ধ্ব ১৫ জন নির্ধারিত হয়। বর্তমানে কর্মকমিশনে একজন সভাপতি ও ১২ জন সদস্য রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীনভাবে নিজস্ব কাজ করে। এর ওপর দেশের
জনগণের আস্থা বিদ্যমান। কমিশনের সদস্যগণ চাকরি প্রার্থীর যোগ্যতা নিরপেক্ষভাবে বিচার করে সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করেন। এর সভাপতি ও সদস্যগণ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত। তারা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সমান মর্যাদার অধিকারী। এ আলোচনার মাধ্যমে বোঝা যায় যে, মি. আমিন বাংলাদেশ সরকারি
কর্মকমিশনের সভাপতি হিসেবে কর্মরত।
উদ্দীপক দ্বারা ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠান তথা বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সকল কার্যক্রম উদ্দীপকে বর্ণিত হয় নি।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন একটি বিশেষ মর্যাদা ও ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কর্মে যোগ্য নাগরিকদের নিয়োগের সার্বিক কাজ করে থাকে। এই কাজটির কথাই উদ্দীপকে বলা হয়েছে। অথচ এ কাজটি ছাড়াও বাংলাদেশ কর্মকমিশন বহুবিধ কাজ করে।
বিভন্ন প্রয়োজনীয় বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ প্রদান, আইনের দ্বারা নির্ধারিত বিভিন্ন দায়িত্বপালন, সরকারি কর্ম কমিশনের ওপর ন্যস্ত। এ কমিশন প্রতিবছর মার্চ মাসের প্রথম দিবসে বা তার পূর্ববর্তী ৩১-এ ডিসেম্বরে সমাপ্ত ১ বছরের স্বীয় কার্যাবলি সংশ্লিষ্ট একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করে রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করে, রিপোর্টের সাথে কমিশন একটি স্মারকলিপি পেশ করে। কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের কোনো পরামর্শ গৃহীত না হয়ে থাকলে সেক্ষেত্রে তার কারণ স্মারকলিপিতে লিপিবদ্ধ থাকে। কর্মকমিশন বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন সার্ভিস বা পদে নিয়োগের জন্য যোগ্যতা ও পদ্ধতি, পদোন্নতি এবং বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ প্রদান করে। ক্যাডার সার্ভিস বা কোনো পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোও কর্মকমিশন কর্তৃক পরিচালিত হয়। পরিশেষে বলা যায়, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন প্রভৃত ক্ষমতা ও মর্যাদার অধিকারী। এই ক্ষমতাবলে এ প্রতিষ্ঠানটি প্রজাতন্ত্রের সরকারি কর্মে নিয়োগসংক্রান্ত সকল কাজ করে থাকে।