| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মি. ডন তার…’ সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ ২০২৬ – সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

মি. ডন তার বাংলাদেশি বন্ধুর সাথে ইংল্যান্ড থেকে বেড়াতে আসেন। এখানে এসে তিনি সামাজিক জীবনে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখতে পান। রাস্তার পাশে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, নির্মাণ সামগ্রী রাস্তায় স্তুপ করে রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়া এবং রাস্তার পাশে ভ্রাম্যমাণ বাজার ব্যবস্থা জনজীবনে দুর্ভোগ নিয়ে আসে এসব দেখে তিনি হতাশ হন। এখানকার শাসন ব্যবস্থাতেও তিনি কোনো পরিচ্ছন্নতা খুঁজে পাননি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো- 'Good Governance' ।
স্বচ্ছতা হলো সুশাসনের পূর্বশর্ত।
স্বচ্ছতা বলতে কোনো কাজ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে স্পষ্ট ও উন্মুক্ত রাখাকে বোঝায়। যখন প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা বজায় থাকে, তখন দুর্নীতির সুযোগ কমে যায় এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। স্বচ্ছতা থাকলে নাগরিকরা সরকারের কাজ সম্পর্কে জানতে পারে, যা জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।
উদ্দীপকের আলোকে সুশাসনের পথে প্রধান সমস্যাগুলো হলো আইনের শাসনের অভাব, প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং নাগরিক সচেতনতার অভাব।
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, জবাবদিহিতার অভাব এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। যখন একটি রাষ্ট্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ থাকে না এবং প্রশাসন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, তখন সুশাসন বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া জনগণের অংশগ্রহণের অভাব ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সুশাসনকে ব্যাহত করে।
উদ্দীপকে মি. ডন বাংলাদেশে এসে সামাজিক জীবনে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখতে পান। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, রাস্তায় নির্মাণ সামগ্রী রাখা এবং ভ্রাম্যমাণ বাজারের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়া প্রমাণ করে যে এখানে আইনের শাসনের অভাব রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব বিশৃঙ্খলা দমনে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকা এবং শাসন ব্যবস্থায় পরিচ্ছন্নতার অভাব সুশাসনের পথে বড় অন্তরায়। এই বিশৃঙ্খলাগুলো মূলত প্রশাসনিক দুর্বলতা ও জবাবদিহিতার অভাব থেকেই সৃষ্টি হয়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত।
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান বাস্তবতার আলোকে বাংলাদেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ সুশাসনের দেশ বলা কঠিন।
সুশাসন একটি আদর্শ অবস্থা যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার নিশ্চিত থাকে। একটি রাষ্ট্রে যখন প্রশাসন জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে এবং সকল ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, তখনই তাকে সুশাসনের দেশ বলা যায়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দুর্নীতির অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। উদ্দীপকে মি. ডন ইংল্যান্ডের তুলনায় বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় কোনো পরিচ্ছন্নতা খুঁজে পাননি। সামাজিক জীবনে বিশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগের চিত্রটি মূলত সুশাসনের অভাবকেই নির্দেশ করে। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকলেও দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উদ্দীপকের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে নাগরিক অধিকার ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন এখনো পুরোপুরি সফল নয়। পরিশেষে বলা যায়, যদিও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি করেছে, কিন্তু সুশাসনের মানদণ্ডে এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশকে সুশাসনের দেশ বলা যৌক্তিক হবে না। উদ্দীপকের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ সুশাসন অর্জনের পথে থাকলেও একে এখনো একটি আদর্শ সুশাসনের দেশ হিসেবে গণ্য করা যায় না।