| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মি. জেমস জাতীয়…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭ – বাংলাদেশের সরকার ও প্রশাসনিক কাঠামো, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

মি. জেমস জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী দলের আস্থাভাজন ব্যক্তি। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আস্থা অর্জন করায় রাষ্ট্রপতি তাকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করেন। পদমর্যাদা অনুযায়ী তিনি দেশের প্রকৃত শাসক। তার ক্ষমতা ও কার্যাবলি ব্যাপক।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
বাংলাদেশে সরকারের প্রধান আইনজীবী হলেন এটর্নি জেনারেল।
সচিবালয় বলতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও তার বিভাগসমূহ নিয়ে গঠিত প্রশাসনিক সংস্থাকে বোঝায়।
সচিবালয় হলো একটি দেশের তথা প্রশাসন ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র। সরকারি যাবতীয় কর্মসূচি ও সিদ্ধান্ত সর্বপ্রথম সচিবালয়ে গৃহীত হয়। সচিবালয় বিভিন্ন প্রকল্পও বাস্তবায়ন করে। সর্বোপরি দেশের প্রশাসন যন্ত্রকে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় কার্য সম্পাদনকারী দপ্তরই হলো সচিবালয়।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের নিয়োগ ও পদমর্যাদার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই এদেশ পরিচালনা করেন। এই সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই একজন প্রধানমন্ত্রী হন। আর তিনিই দেশের শাসনব্যবস্থার মূল স্তম্ভ। উদ্দীপকটিতে উল্লিখিত নিয়োগ পদ্ধতি ও পদমর্যাদা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
উদ্দীপকের মি জেমস সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আস্থা অর্জন করেছেন। এ কারণে রাষ্ট্রপতি তাকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগ দিয়েছেন। পদমর্যাদা অনুযায়ী তিনি দেশের প্রকৃত শাসক। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী দলের আস্থাভাজন ব্যক্তি। সাধারণ নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি তাকে নিয়োগ দান করেন। যদি কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয় তবে রাষ্ট্রপতি এমন একজন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেন যিনি সংসদের সমর্থন লাভ করেন। নিয়োগ লাভের পর প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির নিকট শপথ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ সরকার তথা সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। তিনিই বাংলাদেশ সরকারের প্রধান। তাঁর নির্দেশ ও পরামর্শেই মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী যদিও রাষ্ট্রপতি দ্বারা মনোনীত হন তবুও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কাজ করেন। মোটকথা প্রধানমন্ত্রী সরকার প্রধান, সংসদের নেতা ও মন্ত্রিসভার প্রধান। অর্থাৎ দেশের শাসনব্যবস্থার মূল স্তম্ভ। সুতরাং, দেখা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত মি. জেমস এর নিয়োগ ও পদমর্যাদা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ ও পদমর্যাদার সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যক্তি অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী পদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি নিচে পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
সংবিধান অনুসারে প্রধানমন্ত্রী হলেন বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করেন। প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার যে তালিকা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করেন তারাই মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। প্রজাতন্ত্রের প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিপরিষদের হাতে ন্যস্ত থাকে। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রজাতন্ত্রের উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের নিয়োগ দান করেন। আইন, বিচার, শাসন ও পররাষ্ট্রবিষয়ক সকল কর্তৃত্ব প্রকৃতপক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণাধীনে থাকে। মন্ত্রিসভার নেতা হিসেবে মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন এবং কতজন থাকবেন তা প্রধানমন্ত্রীই নির্ধারণ করেন। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের নেতা। প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে স্পিকার সংসদের কার্যসূচি নির্ধারণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সরকারি উচ্চপদে কর্মচারী, বিচারক, রাষ্ট্রদূত ও সাংবিধানিক পদে নিয়োগ দান করেন। প্রধানমন্ত্রী কেবল সংসদের নেতা নন, তিনি তার নিজ দলেরও প্রধান। দলের স্বার্থ রক্ষা, ঐক্য ধরে রাখা, দলের সাফল্য প্রভৃতি বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা তার কর্তব্য। প্রধানমন্ত্রী জাতির নেতা ও পথপ্রদর্শক। এ জন্য তিনি সরকারি কর্মসূচি জনসমক্ষে প্রকাশ করেন এবং সময়োপযোগী বিবৃতি ও বক্তৃতা প্রদান করেন।
পরিশেষে বলা যায়, সংসদীয় সরকারের সফলতা প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ও কার্যকলাপের ওপর নির্ভর করে। তাই বাংলাদেশের সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তুত ক্ষমতা ও মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।