| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মি. ‘ক’ বাংলাদেশের…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭ – নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

মি. ‘ক’ বাংলাদেশের নাগরিক। রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও রাষ্ট্রের প্রতি করণীয় সম্পর্কে তিনি অসচেতন। তিনি নির্বাচনে ভোটদানে অংশগ্রহণ করেন না। সম্প্রতি তিনি তার প্রতিবেশীকে বিনা কারণে প্রহার করায় আদালত কর্তৃক শাস্তি ভোগ করেছেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
অধিকার হলো সমাজের সকলের জন্য কল্যাণকর কতকগুলো সুযোগ-সুবিধা, যা ব্যতীত ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে না।
যে সকল অধিকার একজন নাগরিককে রাষ্ট্রীয় কার্যে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয় সেগুলোকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। রাজনৈতিক অধিকার সংবিধান অথবা আইন দ্বারা স্বীকৃত। নাগরিকের চারটি রাজনৈতিক অধিকার হলো: ১. ভোটদানের অধিকার ২. নির্বাচিত হওয়ার অধিকার ৩. সরকারি চাকুরি লাভের অধিকার ৪. সরকারের সমালোচনা করার অধিকার।
উদ্দীপকের মি. 'ক' রাষ্ট্রপ্রদত্ত সকল প্রকার নাগরিক অধিকার বা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে।
অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা, যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। প্রতিটি নাগরিকের সুন্দর সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্য কতগুলো সামাজিক ও রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধার যেমন প্রয়োজন, তেমনি অর্থনৈতিক স্বাধীনতারও প্রয়োজন। যেমন- অন্ন, বস্তু ও কর্মের সংস্থান এবং অভাব থেকে মুক্তি। উদ্দীপকের মি. 'ক' রাষ্ট্রপ্রদত্ত এসকল অধিকার ভোগ করে থাকেন।
মি. 'ক' রাষ্ট্রপ্রদত্ত আইনগত অধিকার যেমন- সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা বা অধিকার ভোগ করে থাকেন। সামাজিক অধিকারের মধ্যে জীবনধারণ, চলাফেরা, সম্পত্তি ভোগ, চুক্তি, মত প্রকাশ, সভা-সমিতি, ধর্মীয়, আইনের দৃষ্টিতে সমতা, পরিবার গঠন, ভাষা ও কৃষ্টি সংরক্ষণ, শিক্ষা, খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার ইত্যাদি ভোগ করে। রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস, নির্বাচন, সরকারি চাকরি লাভ, চাকরির আবেদন করা, বিদেশে অবস্থানকালে নিরাপত্তা, সরকারি কার্যকলাপের সমালোচনা করার অধিকার ইত্যাদি ভোগ করে। অর্থনৈতিক অধিকারের মধ্যে কর্মের অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, অবকাশ লাভের অধিকার, শ্রমিক সংঘ গঠনের অধিকার ইত্যাদি ভোগ করে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. 'ক'-এর বর্জনীয় কাজ দুইটি রাজনৈতিক কর্তব্যের পর্যায়ভুক্ত।
রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে নাগরিকগণ আবশ্যিকভাবে রাষ্ট্রের প্রতি যেসব কর্তব্য পালন করে তাকে রাজনৈতিক কর্তব্য বলে। রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা, রাষ্ট্রের আইন মেনে চলা, রাষ্ট্রের সেবা করা, সততার সাথে ভোট দান করা ইত্যাদি নাগরিকের রাজনৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত। তাই উদ্দীপকের মি. 'ক' এর নির্বাচনে ভোট না দেওয়া এবং আইন অমান্য করা রাজনৈতিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।
উদ্দীপকের মি, 'ক' নির্বাচনে ভোটদানে অংশগ্রহণ করেন না। এ ছাড়াও সম্প্রতি তিনি তার প্রতিবেশীকে বিনা কারণে প্রহার করায় আদালত কর্তৃক শাস্তিভোগ করেছেন। তার এই প্রতিবেশীকে প্রহার করার মাধ্যমে আইন অমান্য করার দিকটি ফুটে উঠেছে। তার বর্জিত এ কাজ দুটি নাগরিকের রাজনৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত। আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ভোটাধিকার নাগরিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার স্বীকৃত। সকল স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচনে ভোটদানের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করা একজন সুনাগরিকের রাজনৈতিক কর্তব্য। এ ছাড়াও রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা তথা আইন মান্য করা প্রতিটি নাগরিকের অন্যতম কর্তব্য। সকল নাগরিকের উচিত রাষ্ট্রের সকল আইন মেনে চলার মাধ্যমে রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং জনজীবনকে অর্থবহ করে তোলা।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, মি. 'ক' এর বর্জনীয় দুটি কাজ অর্থাৎ ভোট প্রদান ও আইন অমান্য করা নাগরিকের রাজনৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।