| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মি. ‘ক’ ও…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫ – রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

মি. ‘ক’ ও মি. ‘খ’ একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক। তারা উভয়ে ভিন্ন ভিন্ন সংগঠনের কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত। মি. ‘ক’-এর সংগঠনটি জনকল্যাণের প্রতি লক্ষ রেখে কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। অপরদিকে, মি. ‘খ’-এর সংগঠনটি প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনে অংশ নেয় না, কিন্তু নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্য সরকারের সিদ্ধান্তসমূহ প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে যখন কিছু সদস্য দলীয় নীতি ও কর্মসূচির বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণ করে কিংবা সাধারণ স্বার্থের কথা ভুলে গিয়ে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাকে উপদল বলে।
কোনো বিশেষ নেতা যখন তার বক্তব্য ও কাজ দ্বারা জনগণকে ভীষণভাবে সম্মোহিত, অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হন তখন সেই নেতৃত্বকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলা হয়। সম্মোহনী নেতৃত্বের ভূমিকা জনগণকে মুগ্ধ করে, আবেগাপ্লুত করে এবং অন্ধ অনুকরণে অনুপ্রাণিত করে। বাংলাদেশে শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখের নেতৃত্বকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলা হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে বর্ণিত মি. 'খ'-এর সংগঠনটি হলো 'চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী'। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সুশাসন প্রতিষ্ঠার বহুমুখী ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে 'মি. 'খ'-এর সংগঠনটি প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে না। কিন্তু নিজেদের স্বার্থরক্ষায় সরকারের সিদ্ধান্তসমূহ প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। যা চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে নির্দেশ করে। আর সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ভূমিকা অনেক।
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এমন এক গোষ্ঠী যার সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা আবদ্ধ থাকে। যারা সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে সরকারের সিদ্ধান্তকে নিজের অনুকূলে আনার চেষ্টা করে। ব্যবসায়ী সংগঠন, শিক্ষক সমিতি, কর্মচারী ইউনিয়ন, লেখক ফোরাম, শ্রমিক ইউনিয়ন ইত্যাদি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর আওতাভুক্ত। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ হলো সরকারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করা। এই গোষ্ঠীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই তবে পর্দার আড়ালে থেকে তারা নিজেদের স্বার্থরক্ষাকারী রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীগুলো সরকারের সকল কর্মকাণ্ডে সতর্ক দৃষ্টি রাখে এছাড়াও আইন প্রণয়ন, সরকারি নীতি প্রণয়ন ও এসবের বাস্তবায়নে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বিশেষভাবে হস্তক্ষেপ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উপরিউক্ত আলোচনার মাধ্যমে বলাই বাহুল্য যে, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় - চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ভূমিকা অনেক।
উদ্দীপকে বর্ণিত মি. 'ক'-এর সংগঠনটি হলো 'রাজনৈতিক দল'। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অপরিসীম।
উদ্দীপকে মি. 'ক' একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক। তিনি একটি সংগঠনের কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত। তার সংগঠনটি জনকল্যাণের প্রতি লক্ষ রেখে কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। যা একটি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডকে নির্দেশ করে।
আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল অপরিহার্য। গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা সংরক্ষণে রাজনৈতিক দল সক্রিয় এবং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে সুদৃঢ়করণে রাজনৈতিক দলের কোনো বিকল্প নেই। রাজনৈতিক দলগুলো সভা-সমিতি, আলাপ-আলোচনা, দলীয় মিছিল, প্রচারকার্য প্রভৃতি রাজনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলে। আধুনিক গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা মূলত দলীয় শাসনব্যবস্থা। রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করলে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রে এখনো সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। এর মূল কারণ, অদক্ষ ও অসংগঠিত, রাজনৈতিক দলের বিতর্কিত কার্যক্রম। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দল সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি বহুমুখী।
পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অপরিসীম।