| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মি. ‘ক’ একজন…’ নটরডেম কলেজ ২০২৬ – নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

মি. ‘ক’ একজন বাংলাদেশি নাগরিক। তিনি রাষ্ট্রের দেওয়া বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করেন, কিন্তু নাগরিক দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহী। তিনি কখনোই ‘ভোটদানে অংশগ্রহণ করেন না এবং সম্প্রতি এক প্রতিবেশীকে বিনা কারণে শারীরিকভাবে আঘাত করার কারণে আদালতের মাধ্যমে শাস্তি ভোগ করেছেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
রাষ্ট্র যেসব নিয়ম তৈরি করে, অনুমোদন দেয় এবং বলবৎ করে সেগুলোকে আইন বলা হয়।
স্বাধীনতার রক্ষাকবচ বলতে সেই সকল ব্যবস্থা বা পদ্ধতিকে বোঝায় যা নাগরিকের স্বাধীনতাকে রক্ষা করে এবং অন্যের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখে।
স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য কিছু অপরিহার্য শর্ত বা রক্ষাকবচ প্রয়োজন। যেমন- আইন, সংবিধান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন। আইন স্বাধীনতার প্রধান রক্ষাকবচ, কারণ আইন না থাকলে সবল দুর্বলের ওপর অত্যাচার করত। আবার বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে নাগরিকরা তাদের অধিকার ফিরে পায় না। মূলত এই রক্ষাকবচগুলোই নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করে।
উদ্দীপকের মি. 'ক' যে রাষ্ট্রীয় সুবিধাগুলো ভোগ করেন, সেগুলো হলো নাগরিক অধিকার।
নাগরিক অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত সেই সকল সুযোগ-সুবিধা, যা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য। নাগরিক অধিকার ছাড়া মানুষ তার সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করতে পারে না। নাগরিক অধিকার প্রধানত দুই প্রকার- নৈতিক অধিকার ও আইনগত অধিকার। আইনগত অধিকারের মধ্যে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার অন্তর্ভুক্ত। যেমন- জীবনধারণের অধিকার, চলাফেরার অধিকার, মতপ্রকাশের অধিকার ইত্যাদি।
উদ্দীপকে মি. 'ক' একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের দেওয়া বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। তিনি স্বাধীনভাবে চলাফেরা করেন, সমাজে বসবাস করেন এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা লাভ করেন। এগুলো তার সামাজিক অধিকার। আবার তিনি যদি কোনো অন্যায়ের শিকার হন করেন, তবে আদালতের মাধ্যমে বিচার পাওয়ার অধিকারও তার রয়েছে। যদিও তিনি দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহী, তবুও রাষ্ট্র তাকে নাগরিক হিসেবে জীবন ধারণের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা প্রদান করছে। সুতরাং বলা যায়, মি. 'ক' রাষ্ট্রপ্রদত্ত নাগরিক অধিকারসমূহ ভোগ করে।
উদ্দীপকের মি. 'ক'-এর বর্জনীয় কাজ দুইটি রাজনৈতিক কর্তব্যের পর্যায়ভুক্ত।
রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে নাগরিকরা রাষ্ট্রের প্রতি যেসব কর্তব্য পালন করে তাকে রাজনৈতিক কর্তব্য বলে। রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা, রাষ্ট্রের আইন মেনে চলা, রাষ্ট্রের সেবা করা, সততার সাথে ভোট দান ইত্যাদি নাগরিকের রাজনৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত। তাই উদ্দীপকের মি. 'ক' এর নির্বাচনে ভোট না দেওয়া এবং আইন অমান্য করা রাজনৈতিক কর্তব্য বর্জনের মধ্যে পড়ে।
মি. 'ক' নির্বাচনে ভোট দেন না। এছাড়া সম্প্রতি তিনি তার প্রতিবেশীকে বিনা কারণে প্রহার করায় আদালতের মাধ্যমে শাস্তিভোগ করেছেন। প্রতিবেশীকে প্রহার করার মাধ্যমে তার আইন অমান্য করার দিকটি ফুটে উঠেছে। তাই মি. 'ক'-এর বর্জন করা কাজ দুটি নাগরিকের রাজনৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ভোটাধিকার নাগরিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার স্বীকৃত। সব স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে ভোটদানের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করা একজন সুনাগরিকের রাজনৈতিক কর্তব্য। এ ছাড়াও রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা তথা আইন মান্য করা প্রতিটি নাগরিকের অন্যতম রাজনৈতিক কর্তব্য। সব নাগরিকের উচিত রাষ্ট্রের সব আইন মেনে চলার মাধ্যমে রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং জনজীবনকে নিরাপদ রাখা।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মি. 'ক'-এর বর্জনীয় দুটি কাজ অর্থাৎ ভোট না দেওয়া ও আইন অমান্য করার সঙ্গে নাগরিকের রাজনৈতিক কর্তব্যের সম্পর্ক রয়েছে।