| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মি. ‘ক’ একটি…’ ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ ২০২৬ – স্থানীয় শাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

মি. ‘ক’ একটি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান। উক্ত প্রতিষ্ঠানের মোট সদস্য ১৩ জন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবিধান সংশোধন হলো রাষ্ট্রের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে সংবিধানের কোনো ধারা বা বিধানের পরিবর্তন, পরিমার্জন বা সংযোজন করার প্রক্রিয়া।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪২নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হয়। এটি একটি দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান হওয়ায় এটি পরিবর্তনের জন্য জাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়। সংশোধনী বিলটি সংসদে পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হয় এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতির মাধ্যমেই তা কার্যকর হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্থাটি হলো ইউনিয়ন পরিষদ। এই সংস্থাটি গ্রামাঞ্চলে সার্বিক উন্নয়নে নানাবিধ কাজে করে।
জনকল্যাণ সাধনই ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান লক্ষ্য। রাস্তাঘাট খেলাধুলার মাঠ, পার্ক, গোরস্থান, পুকুর ইত্যাদি নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ ইউনিয়ন পরিষদ করে থাকে। ইউনিয়নকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্দেশ্যে সব ধরনের পদক্ষেপ ইউনিয়ন পরিষদ গ্রহণ করে থাকে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিভিন্ন সেবামূলক কাজ প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সম্পন্ন করে। বৃক্ষরোপণ, প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন, কৃষি ও শিল্পের উন্নয়ন সাধনে এ প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিভিন্ন বিনোদনমূলক কাজও প্রতিষ্ঠানটি করে থাকে। যেমন— মেলা ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা গ্রহণ, জাতীয় উৎসবের আয়োজন ইত্যাদি। ইউনিয়ন পরিষদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো— শিক্ষার উন্নয়নকল্পে সাহায্য দান, পাঠাগার ও পাঠশালা প্রতিষ্ঠা, যুবপ্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রশিক্ষণ, জন্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রচারণা চালানো ইত্যাদি। আর এসব কাজের ফলে অবহেলিত গ্রামীণ জনগোষ্ঠী উন্নত জীবনযাপনের ছোঁয়া পায় এবং গ্রামীণ উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। গ্রামীণ উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা অপরিসীম।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক উন্নয়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় স্থানীয় সরকার হলো জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত। সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় শাসন পরিচালনার দায়িত্ব স্থানীয় প্রতিনিধিদের ওপর ন্যস্ত থাকলেও জনগণের সহযোগিতা ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হয় না।
উদ্দীপকের মি. 'ক'-এর নেতৃত্বাধীন ইউনিয়ন পরিষদটি ১৩ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হলেও এর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সফল করতে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, বাজেট প্রণয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঠিক সুবিধাভোগী নির্বাচনে জনগণের মতামত নেওয়া হলে দুর্নীতির সুযোগ কমে যায়। স্থানীয় সম্পদ সংগ্রহ এবং কর প্রদানে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে জনগণের অংশগ্রহণ হলো গণতন্ত্রের প্রাণ। যখন স্থানীয় মানুষ উন্নয়নমূলক কাজে শ্রম, মেধা বা পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে, তখন প্রকল্পের মালিকানা বোধ তৈরি হয় এবং সম্পদের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত হয়। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া স্থানীয় সমস্যাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব নয়, ফলে উন্নয়ন পরিকল্পনা অনেক সময় বাস্তবসম্মত হয় না। তাই ইউনিয়ন পরিষদের মতো তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং একটি সমৃদ্ধ গ্রামীণ সমাজ গঠনে জনগণের অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।