| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মি. ‘ক’ ও…’ রাজশাহী বোর্ড ২০১৯ – জনসেবা ও আমলাতন্ত্র, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

মি. ‘ক’ ও মি. ‘খ’ দুইজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা। ‘ক’ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে ইতোমধ্যে সাড়া জাগিয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর এলাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভেজাল দুধ বিক্রি শুরু করে। এর ফলে এলাকার শিশু স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ে। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে ‘খ’ এর অফিসে এলাকার জনগণ বনাঞ্চল নষ্ট করে ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে অভিযোগ করে। কিন্তু তিনি কোনো অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা গ্রহণ হতে বিরত থাকেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
রাষ্ট্রের উৎপাদন, বণ্টন ও বিনিয়োগ কাজে নাগরিকের অংশগ্রহণকে অর্থনৈতিক কর্তব্য বলে।
জাতি গঠনের অন্যতম একটি উপাদান হলো বংশগত ঐক্য।
যখন কোনো জনসমাজের অন্তর্গত প্রায় সব লোকই নিজেদেরকে এক বংশোদ্ভূত বলে মনে করে তখন তাদের মধ্যে যে একাত্ববোধের সৃষ্টি হয় তাকে বংশগত ঐক্য বলা হয়। বর্তমান সময়ে বংশগত ঐক্যকে জাতি গঠনের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে মনে করা হয় না।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' এর মধ্যে আমলাতন্ত্রের বিচারসংক্রান্ত কাজের দিকটি ফুটে উঠেছে।
বিচারসংক্রান্ত কাজে অংশগ্রহণ আমলাতন্ত্রের অন্যতম কাজ। অনেক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগীয় ও আইনভঙ্গজনিত বিচার সাধারণ আদালতে হয় না। আমলাতন্ত্র বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এসব বিচার করে থাকে এবং দ্রুত জনগণের সমস্যার প্রতিকার করে থাকে। এ প্রসঙ্গে অ্যালমন্ড ও পাওয়েল বলেন, “আধুনিক রাষ্ট্রে সাধারণ আদালতের বিচার ক্ষমতার বাইরে অনেক বিষয় আছে । আমলাতন্ত্রের সদস্যরা সে বিচারকাজগুলো সমাধান করেন। " উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা। অর্থাৎ 'ক' একজন আমলা। তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীল। সম্প্রতি তার এলাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভেজাল দুধ বিক্রি শুরু করে। এর ফলে এলাকার শিশুস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ে। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করেন। অর্থাৎ একজন আমলা হিসেবে 'ক' আমলাতন্ত্রের বিচারসংক্রান্ত কাজটি সম্পাদন করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক'-এর মধ্যে আমলাতন্ত্রের বিচারসংক্রান্ত কাজের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত মি. 'ক' তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলেও মি. ‘খ’ তার দায়িত্ব পালন করেন নি । তাই মি. 'ক' ও মি. ‘খ’ এর মধ্যে মি. 'ক' এর কার্যকলাপ সুশাসনে সহায়ক।
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন দক্ষ ও কার্যকর আমলাতন্ত্র। যেকোনো রাষ্ট্রের সরকার আমলাতন্ত্র বা জনপ্রশাসনের মাধ্যমেই তার নীতির বাস্তবায়ন করে থাকে। জনপ্রশাসন বলতে সরকারের নির্বাহী বিভাগে কর্মরত বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বোঝায়। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনপ্রশাসনে নিযুক্ত ব্যক্তিদের সুশাসনমুখী হতে হবে এবং যথাযথভাবে তাদের কর্তব্য পালন করতে হবে।
উদ্দীপকে বর্ণিত মি. 'ক' ও মি. ‘খ' এর ক্ষেত্রে দেখা যায়, মি. 'ক' ও মি. ‘খ’ দু'জনই ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা। অর্থাৎ তারা দু'জনই হলেন আমলা। সম্প্রতি মি. ‘ক’ তার এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে ‘খ’ এর অফিসে এলাকার জনগণ বনাঞ্চল নষ্ট করে ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ করে। কিন্তু ‘খ’ এক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে। অর্থাৎ আমলা হিসেবে মি. 'ক' তার কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করলেও মি. ‘খ’ তা করেন নি
পরিশেষে বলা যায়, আমলাতন্ত্রের কর্তব্য পালন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই উদ্দীপকে বর্ণিত আমলাতন্ত্রের সদস্য মি. 'ক' এর কার্যকলাপ নিঃসন্দেহে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক বলা যায়।