| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মি. ‘M’ একজন…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭ – সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

মি. ‘M’ একজন প্রবীণ সংবাদকর্মী। তিনি একদিন একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ পাঠ করছিলেন। প্রবন্ধটিতে দেখা যায় ‘ক’ নামক রাষ্ট্রের রাজধানীতে কিছু উন্নয়ন হলেও দেশটিতে আইনের শাসন, রাজনৈতিক স্থিতিহীনতা, স্বজনপ্রীতি, যথাযথ শিক্ষার অভাব ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়। অন্যদিকে, ‘খ’ নামক রাষ্ট্রে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আইনের শাসন বিদ্যমান।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
সরকারের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনই সুশাসন (Good Governance) |
সুশাসন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে সমাজের প্রত্যাশা ও রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের মধ্যে সুসামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায়। এই ব্যবস্থায় শাসক শুধু শাসনই করেন না বরং সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করেন।
রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন ও সুষম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করণ, সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা; ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সুশাসন নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। তাই কোনো রাষ্ট্রে যদি সুশাসন প্রতিষ্ঠিত থাকে তাহলে গণতন্ত্রও বজায় থাকবে। আর ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই সুশাসনের লক্ষ্য। এ সকল কারণে বলা হয় সুশাসন গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রে সুশাসনের অভাব রয়েছে।
কোনো রাষ্ট্রের প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা, বৈধতা, স্বচ্ছতা থাকে, এতে যদি জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন, আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা থাকে তাহলে সে শাসনকে সুশাসন বলে।
উদ্দীপকে প্রবীণ সংবাদকর্মী মি. 'M' এর পঠিত প্রবন্ধে দেখা যাচ্ছে, তিনি 'ক' নামক রাষ্ট্রের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। রাজধানীতে কিছু উন্নয়ন হলেও দেশে আইনের শাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্বজনপ্রীতি, যথাযথ শিক্ষার অভাব লক্ষ করা যায়। এ সকল অবস্থার স্বারা প্রতীয়মান হয় যে, দেশটিতে সুশাসন নেই। কেননা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হলো- সরকারের স্বচ্ছতা, সততা, বৈধতা, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, দক্ষতা, রাষ্ট্রে জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, জনপ্রশাসনের সেবাধর্মী মনোভাব, স্বাধীন বিচার বিভাগ, সুশীল সমাজ, প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা প্রভৃতি বিদ্যমান থাকবে। কিন্তু 'ক' রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সুশাসনের উল্লিখিত কোনো বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান নেই। যার ফলে একথা স্পষ্টভাবে বলা যায়, 'ক' নামক রাষ্ট্রে সুশাসনের অভাব রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রটির অবস্থা বিশ্লেষণ করে বলা যায় এখানে সুশাসন অনুপস্থিত। অপরদিকে 'খ' রাষ্ট্রটিতে আইনের শাসন বিদ্যমান। আর যেখানে আইনের শাসন বিদ্যমান সেখানে সুশাসন থাকবে এটাই স্বাভাবিক। অতএব বলা যায়, দুটি রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় বেশ পার্থক্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে 'খ' নামক রাষ্ট্রে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আইনের শাসন বিদ্যমান। আর যেখানে আইনের শাসন বিদ্যমান সেখানে সুশাসনের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও সমানভাবে কাজ করবে। সুশাসনের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- প্রতিনিধিত্বশীল শাসন ব্যবস্থা, ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ, দায়বদ্ধ শাসন বিভাগ, আইন বিভাগের কার্যকর ভূমিকা, স্বাধীন বিচার বিভাগ, দক্ষ আমলাতন্ত্র, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কার্যকর গণতান্ত্রিক দলব্যবস্থা, সক্রিয় সুশীল সমাজ প্রভৃতি।
অতএব বলা যায়, 'খ' রাষ্ট্রটিতে সুশাসন বিদ্যমান। অপরদিকে 'ক' রাষ্ট্রটির অবস্থা 'খ' রাষ্ট্রের পুরোপুরি বিপরীত। অর্থাৎ 'ক' রাষ্ট্রে সুশাসনের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এই রাষ্ট্রটিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে, স্বজনপ্রীতি রোধ করতে হবে। পাশাপাশি সুশাসনের অন্যান্য যে সকল উপাদান রয়েছে। সেগুলোর চর্চাও করতে হবে। তাহলে 'ক' রাষ্ট্রটিতেও 'খ' রাষ্ট্রের মতো সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।