| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মি. ‘ম’ একজন…’ ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৫ – রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

মি. ‘ম’ একজন জগৎ বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতা। তার দেশের জনগণের অধিকার আদায়ে জীবনের অনেক সময় জেল খেটেছেন। তার ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধি ও উদারতার কারণে মি. ‘ম’ কে তার দেশের জনগণ তাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস ও ভালোবাসত।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
নেতৃত্ব হলো কোনো নেতার সেসব গুণ, যা অন্যকে প্রভাবিত ও পরিচালিত করে এবং অভীষ্ট লক্ষ্যার্জনে সহায়তা করে।
মৌলিক অধিকার হলো এমন অধিকার, যা প্রতিটি মানুষের জন্মগতভাবে প্রাপ্য এবং যা রাষ্ট্র বা সমাজ কর্তৃক সংরক্ষিত ও সুরক্ষিত। এগুলো ব্যক্তির স্বাধীনতা, সমতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে। সাধারণত মৌলিক অধিকারের মধ্যে বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমতার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, আইনের সমান আশ্রয় এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার অন্তর্ভুক্ত থাকে। এগুলো সংবিধান বা আইনের মাধ্যমে স্বীকৃত এবং রাষ্ট্রের যেকোনো অন্যায় বা নির্যাতনের বিরুদ্ধে নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদান করে। মৌলিক অধিকার। গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত মি. 'ম'-এর নেতৃত্ব সম্মোহনী নেতৃত্বকে নির্দেশ করে।
কোনো বিশেষ নেতা বা নেত্রী যখন তার বক্তব্য ও কাজ দ্বারা জনগণকে ভীষণভাবে সম্মোহিত, অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম তখন সেই নেতৃত্বকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলা হয়। এ ধরনের নেতৃবৃন্দ তীব্র আকর্ষণ শক্তির অধিকারী এবং জনগণ তাদের প্রতি অন্ধ আনুগত্য প্রদর্শন করে। এ ধরনের নেতা তার আচরণ, ব্যক্তিত্ব, বক্তৃতা, কর্মসূচি দ্বারা জনগণকে মোহাচ্ছন্ন, আপ্লুত ও বিমুগ্ধ করে তোলেন। এ ধরনের নেতৃত্বগুণে অনুসারীগণ নেতার প্রতি এতই আবেগে আপ্লুত থাকে যে নেতার নির্দেশে জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকে। এ ধরনের নেতৃত্বে নেতা জনগণকে নিজের প্রতি এমনভাবে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় করে তোলেন যে জনগণ উক্ত নেতার কথা মানার পাশাপাশি নেতাকে নিজেদের অন্তরের মণিকোঠার সর্বোচ্চ স্থান দেয় এবং নেতার ইতিবাচক কর্মকাণ্ড ব্যতীত অন্যকোনো কর্মকান্ড তার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। এ ধরনের নেতৃত্বের গুণের অধিকারী নেতা তার সম্মোহনী নেতৃত্ব দ্বারা জনগণের মন জয় করতে পারে এবং সফল রাজনৈতিক নেতৃত্ব অর্জন করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত মি. 'ম'-এর নেতৃত্বে যে সমস্ত বিষয় ফুটে উঠেছে তা থেকেই এ নেতৃত্বকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলা হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত মি. 'ম-এর মাঝে নেতৃত্বের যে গুণাবলি। বর্ণিত হয়েছে তা হলো সম্মোহনী নেতৃত্ব।
নেতৃত্ব এমন একটা বিষয় যা সম্পূর্ণভাবেই অসাধারণ। যে ব্যক্তি নেতৃত্বের অধিকারী হয় তাকে অনেক গুণে গুণান্বিত হতে হয়। নেতৃত্বের গুণাবলি বিশ্লেষণ করলে একজন নেতার মধ্যে উদ্দীপকে বর্ণিত গুণাবলি ছাড়াও আরও অনেক গুণাবলি পরিলক্ষিত হয়।
বুদ্ধিমত্তা নেতৃত্বের আবশ্যকীয় গুণ। নেতাকে অবশ্যই তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন হতে হবে। তিনি সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তীক্ষ্ণ বুদ্ধি প্রয়োগ করে জনগণের নিকট নিজেকে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেন। একজন নেতাকে অবশ্যই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য বিধানে সাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হতে হবে। নেতার অবশ্যই দক্ষতা থাকতে হবে। তার দক্ষতার উপর সমগ্র জাতির সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ভর করে। যেকোনো লক্ষ্য যাতে সার্থকভাবে বাস্তবায়িত হয় সে বিষয়ে নেতার অবশ্যই দক্ষতা থাকতে হবে। নেতা হবেন নিজস্ব বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা ও প্রজ্ঞার অধিকারী। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ে রাজনীতির তত্ত্বগত এবং প্রায়োগিক দিক সম্পর্কেও রাজনৈতিক নেতার পড়াশোনা থাকতে হবে। জ্ঞান আহরণের জন্য থাকতে হবে গভীর আগ্রহ। নেতাকে সাহস ও দৃঢ় মনোবলের অধিকারী হতে হবে। নেতা সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী বা দৃঢ় মনোবলের অধিকারী না হলে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। দলের ভিতরে ও বাইরে বিরোধীপক্ষ দলগুলো তাকে ধ্বংস করতে চাইবে। এক্ষেত্রে অনেক সাহসের সঙ্গে নেতাকে বিরোধীপক্ষের মোকাবিলা করতে হয়।
এ সমস্ত গুণাবলি ছাড়াও একজন নেতার মধ্যে অবশ্যই উদারতা, নিরপেক্ষতা, ধৈর্য ও সহনশীলতা, ন্যায়-নীতিপরায়ণ, দায়িত্ববোধ, সচেতনতা ইত্যাদি গুণাবলি থাকতে হবে। এ সমস্ত গুণাবলি থাকলেই
একজন নেতা পরিপূর্ণ নেতায় পরিণত হবে।