| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মিঃ নিবিড় একটি…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৯ – স্থানীয় শাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

মিঃ নিবিড় একটি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান । উক্ত প্রতিষ্ঠানে মোট ১৩ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রয়েছেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
স্থানীয় সরকার হলো সমগ্র দেশকে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত করে ক্ষুদ্রতর পরিসরে প্রতিষ্ঠিত সরকার ব্যবস্থা।
শহরকেন্দ্রিক স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কাঠামোর মৌলিক একক হচ্ছে পৌরসভা।
প্রতিটি পৌরসভাকে কতগুলো ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়। পৌরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা নির্ধারিত হয় শহরের আয়তন ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে। সমগ্র পৌর এলাকা থেকে একজন মেয়র, প্রত্যেকটি ওয়ার্ড থেকে একজন সদস্য এবং প্রতি তিনটি ওয়ার্ড থেকে একজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। পৌরসভার সদস্যদেরকে কাউন্সিলর বলা হয় এবং এদের কার্যকাল পাঁচ বছর। বিভিন্ন কাজ ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রত্যেক পৌরসভায় একজন নির্বাহী কর্মকর্তা থাকেন।
উদ্দীপকে মিঃ নিবিড়ের প্রতিষ্ঠানটি অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে নানাবিধ কাজে করে।
জনকল্যাণ সাধনই ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান লক্ষ্য। রাস্তাঘাট খেলাধুলার মাঠ, পার্ক, গোরস্থান, পুকুর ইত্যাদি নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ ইউনিয়ন পরিষদ করে থাকে। ইউনিয়নকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্দেশ্যে সব ধরনের পদক্ষেপ ইউনিয়ন পরিষদ গ্রহণ করে থাকে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিভিন্ন সেবামূলক কাজ প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সম্পন্ন করে। বৃক্ষরোপণ, প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন, কৃষি ও শিল্পের উন্নয়ন সাধনে এ প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিভিন্ন বিনোদনমূলক কাজও প্রতিষ্ঠানটি করে থাকে। যেমন— মেলা ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা গ্রহণ, জাতীয় উৎসবের আয়োজন ইত্যাদি। ইউনিয়ন পরিষদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো— শিক্ষার উন্নয়নকল্পে সাহায্য দান, পাঠাগার ও পাঠশালা প্রতিষ্ঠা, যুবপ্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রশিক্ষণ, জন্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রচারণা চালানো ইত্যাদি। আর এসব কাজের ফলে অবহেলিত গ্রামীণ জনগোষ্ঠী উন্নত জীবনযাপনের ছোঁয়া পায় এবং গ্রামীণ উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। গ্রামীণ উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা অপরিসীম।
উদ্দীপকে মিঃ নিবিড়ের প্রতিষ্ঠানটি অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় নেতৃত্বের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলো ইউনিয়ন পরিষদ। গ্রামীণ বা পল্লির জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্ব-শাসন প্রতিষ্ঠা, নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা, জবাবদিহিমূলক স্থানীয় শাসন প্রতিষ্ঠা, শাসনব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রতিষ্ঠানে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতন্ত্রের চর্চা এবং গণতন্ত্রের ভিত আরো শক্তিশালী হয়। কেননা গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন। আর ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা।
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার আইন-২০০৯ অনুসারে, প্রত্যেক ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিগণের সমন্বয়ে ওয়ার্ডসভা গঠিত হয়। এর বার্ষিক সভায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য বিগত বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন এবং আর্থিক সংশ্লেষসহ ওয়ার্ডের চলমান সকল উন্নয়ন কার্যক্রম উপস্থাপন করে। এর ফলে ওয়ার্ড পর্যায়ে জনগণের সম্পৃক্ততা ঘটে। ফলে স্থানীয় জনগণ অধিকতর সচেতন হয়ে ওঠে। তাছাড়া বয়স্কভাতা, ভর্তুকিসহ বিভিন্ন ভাতা তাদেরকে কীভাবে দেওয়া হবে তা ওয়ার্ডসভাতে বসে ঠিক করা হয়। এছাড়াও যৌতুক, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, এসিড নিক্ষেপ, মাদকাসক্তি প্রভৃতি সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে ওয়ার্ডসভা আন্দোলন গড়ে তোলে এবং পরিষদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জনগণের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত হয়।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। আর জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের কাজে গতি আসবে, গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হবে।