| ㅤ | A. Nayan17 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মি. ‘P’ একজন…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫ – নাগরিক সমস্যা ও আমাদের করণীয়, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

মি. ‘P’ একজন অসাধু ব্যবসায়ী। ব্যবসায় অধিক মুনাফার জন্য তিনি পণ্যে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করেন। সম্প্রতি আদালত তাকে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের জন্য জরিমানা করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
HIV-এর বিস্তারিত পূর্ণরূপ হলো- Human Immuno deficiency Virus.
সমাজ বা রাষ্ট্রে যারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না, চাহিদা পূরণ করতে পারে না তারাই মূলত বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী।
এ বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম হলো প্রতিবন্ধী (Disability)। জাতিসংঘ কর্তৃক পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ১০% মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠীরও মৌলিক চাহিদা পূরণ, স্বাভাবিক ও সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে।
উদ্দীপকে ‘?’ চিহ্নিত নাগরিক সমস্যার সাথে আমার পঠিত যে নাগরিক সমস্যার সাদৃশ্য আছে সেটি হলো খাদ্যে ভেজাল।
খাদ্যে ভেজাল বর্তমান সমাজের এক ভয়াবহ নাগরিক সমস্যা, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। অধিক মুনাফালাভ, সস্তায় অধিক উৎপাদন ও বাজার দখলের প্রতিযোগিতা খাদ্যকে বিষে পরিণত করছে। ফলে নাগরিকরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রোগ-শোক বাড়িয়ে তুলছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত `?' চিহ্নিত উপাদানগুলো যে সমস্যাটিকে উপস্থাপন করে তা 'খাদ্যে ভেজাল' নামে পরিচিত। এই সমস্যার মূল কারণ হলো কিছু ব্যবসায়ীর সীমাহীন অর্থলিপ্সা ও নিয়ন্ত্রণহীন রাসায়নিক দ্রব্যের সহজলভ্যতা। খাদ্যপণ্যের চেহারা, স্বাদ বা সংরক্ষণ বাড়াতে তারা ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করে। এতে যেমন জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ে, তেমনি প্রকৃত ও সৎ ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হন। বাজারে টিকে থাকতে অনেকেই অনিচ্ছায় এই ভেজালের প্রতিযোগিতায় নামেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকির অভাব এবং সাধারণ ভোক্তাদের মান সচেতনতার ঘাটতি এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই নাগরিক সমস্যা শুধু ব্যক্তি নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
উক্ত নাগরিক সমস্যা তথা খাদ্যে ভেজাল নামক সমস্যা নিরসনে নানা রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।
ভেজাল খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য একটি ভয়াবহ হুমকি। এটি শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, বরং একটি সুস্থ সমাজ ও জাতি গঠনের পথেও বাধা সৃষ্টি করে। এ সমস্যা সমাধানে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রয়োজন সঠিক সাংবিধানিক পদে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের কার্যকর ভূমিকা। এই খাদ্যে ভেজাল রোধে প্রথমেই প্রয়োজন আইনের যথাযথ প্রয়োগ। নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুযায়ী ভেজালকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যা বাস্তবে কার্যকর করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, জরিমানা ও ভেজাল পণ্য ধ্বংস কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। জাতীয় খাদ্যনীতি ও হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায় অনুসারে খাদ্যের মান বজায় রাখতে 'বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য প্রতিষ্ঠান' ও 'খাদ্য পরীক্ষাগার' প্রতিটি জেলা ও বাজার পর্যায়ে সক্রিয় করতে হবে। পাশাপাশি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং বিএসটিআই-কে অধিকতর সক্রিয় করে খাদ্যদ্রব্যের মান নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা আবশ্যক। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ভেজালকারীদের সামাজিকভাবে বয়কট ও ঘৃণা জানানো প্রয়োজন। ব্যক্তিগতভাবেও সতর্ক থেকে ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া এবং খাদ্য ক্রয়ের সময় মান যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
সুতরাং বলা যায়, খাদ্যে ভেজাল রোধে শুধু আইন নয়, দরকার সঠিক প্রয়োগ, জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার সম্মিলিত প্রয়াস।