| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মিঃ রিচার্ড ‘ক’…’ সিলেট বোর্ড ২০১৭ – সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূুহ, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

মিঃ রিচার্ড ‘ক’ রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সরকারের নেতৃত্বে ৩০টি আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসিত সরকার রয়েছে। অপরদিকে মিস ক্যাথি ‘খ’ রাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, এদেশেও কিছু প্রদেশ রয়েছে। কিন্তু এই প্রদেশগুলোর সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
রাজতন্ত্র হচ্ছে সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে রাজা বা রানির হাতে রাষ্ট্রের চরম ও সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব ন্যস্ত থাকে এবং রাজা বা রানি উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতা লাভ করেন।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনমত গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো গণভোট। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রে যখন দ্বিধাবিভক্তি সৃষ্টি হয় তখন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সর্বসাধারণের অংশগ্রহণে গণভোটের মাধ্যমে প্রকৃত জনমত প্রতিফলিত হয়। যেমন- ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের বিষয়ে ব্রিটেনে দ্বিধাবিভক্তি সৃষ্টি হলে ২০১৬ সালের ২৩ জুন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আবার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ বাংলাদেশে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে সংবিধানের মাধ্যমে ক্ষমতা বণ্টনের ভিত্তিতে যে সরকার গঠিত হয় তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলে। এখানে জাতীয় বা কেন্দ্রীয় এবং আঞ্চকি বা প্রাদেশিক সরকার সংবিধান অনুযায়ী শাসন কাজ পরিচালনা করে। সংবিধানই দেশের সর্বোচ্চ আইন। যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। যেমন-
প্রথমত; যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের সমন্বয়ে বৃহৎ রাষ্ট্র গঠনে প্রেরণা যোগায়। প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলো আঞ্চলিক স্বাতন্ত্র্য বিসর্জন না দিয়েও বৃহৎ রাষ্ট্রের মর্যাদা ভোগ এবং জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে পারে।
দ্বিতীয়ত; যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় ক্ষমতা সুনির্দিষ্টভাবে সংবিধানের মাধ্যমে প্রদেশ ও কেন্দ্রের মধ্যে বণ্টন করা হয়। ফলে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার স্বেচ্ছাচারী হতে পারে না।
তৃতীয়ত; স্থানীয় বা আঞ্চলিক বিষয়-সংক্রান্ত কাজ অঙ্গরাজ্যের ওপর ন্যস্ত হলে কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার বাড়তি কাজের চাপমুক্ত থাকতে পারে।
চতুর্থ; যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রীয় মনোভাব বিদ্যমান থাকায় জাতীয় সংহতি বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সরকার ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।
এ ছাড়াও কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব নিয়ে ভুল বোঝাবোঝির আশঙ্কা কম থাকে। ফলে এদেশগুলোতে নিজস্ব রাজনীতি বিকশিত হয় এবং স্থানীয় নেতৃত্বের পথ সুগম হয়।
উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার এবং 'খ' রাষ্ট্র দ্বারা এককেন্দ্রিক সরকারকে বোঝানো হয়েছে। কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে সংবিধানের মাধ্যমে ক্ষমতা বণ্টনের ভিত্তিতে যে সরকার গঠিত হয় তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলে। অন্যদিকে সরকার বলতে এমন এক ধরনের সরকারকে বোঝায়, যেখানে সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট ন্যস্ত থাকে। এখানে প্রাদেশিক সরকার বা অঙ্গরাজ্য সরকার থাকতে পারে, কিন্তু এই সরকারগুলো কোনো স্বাধীন ক্ষমতা ভোগ করে না। নিচে যুক্তরাষ্ট্রীয় ও এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো;
১. ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব: এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। কেন্দ্রীয় আইনসভা দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা। অপরপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার একমাত্র ক্ষমতার অধিকারী হয় না।
২. সংবিধান কর্তৃক ক্ষমতা বণ্টন: এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় দেশের সংবিধান আঞ্চলিক সরকারসমূহের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করে না। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং আঞ্চলিক সরকার সমমর্যাদার ভিত্তিতে নিজ নিজ ক্ষমতা চর্চা করে থাকে।
৩. সংবিধানের প্রকৃতি: এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় দেশের সংবিধান লিখিত অথবা অলিখিত, সুপরিবর্তনীয় অথবা দুষ্পরিবর্তনীয় যেকোনো ধরনের হতে পারে। অপরপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থায় দেশের সংবিধান লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় হয়।
৪. আনুগত্য: এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থায় দেশের নাগরিককে শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি অনুগত থাকতে হয়। অপরপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় দেশের নাগরিককে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক উভয় সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করতে হয়।
৫. বিচার বিভাগের ভূমিকা: এককেন্দ্রেকি সরকার ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক সরকারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্বই বহাল থাকে। অপরপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থায় বিচার বিভাগ সাংবিধানিকভাবে সে বিরোধের মীমাংসা করে থাকে।
৬. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন: এককেন্দ্রিক সরকারে আঞ্চলিক বা প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন নেই। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে, প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলোর স্বায়ত্তশাসন সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত।