| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মি. ‘X’ সংবিধানের…’ সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ ২০২৬ – সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

মি. ‘X’ সংবিধানের ১১৮ নং অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে প্রার্থীদের আচরণবিধি প্রণয়ন ও নির্বাচনি ব্যয় পর্যবেক্ষণ করে। অপরদিকে, মি. ‘Y’ প্রজাতন্ত্রের পক্ষে আইনের জটিল প্রশ্নে মত প্রকাশ করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
দুদক/ দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়।
ন্যায়পাল শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Ombudsman', যার অর্থ প্রতিনিধি বা মুখপাত্র। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনুকরণে বাংলাদেশে ন্যায়পাল পদটি সংবিধানের ৭৭নং অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়। ন্যায়পাল হলো সেই পদ, পদাধিকারবলে যিনি সরকারি কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য নিযুক্ত হবেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন এবং তার কাজের জন্য তিনি সংসদের নিকট দায়ী থাকেন।
মি. 'X'-এর সাথে আমার পঠিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের মিল খুঁজে পাই।
নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আয়োজন ও তত্ত্বাবধান করে। এ প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত মি. 'X' যে দায়িত্ব পালন করছেন তা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে গঠিত হয়। কমিশনের সদস্যদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। একাধিক সদস্য থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্মিলিতভাবে কাজ করে কমিশন। কমিশন নির্বাচনি আচরণবিধি প্রণয়ন, ব্যয় নিরীক্ষণ, সীমানা পুনর্নির্ধারণসহ সব ধরনের নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মি. 'Y'-এর প্রতিষ্ঠানের তথা অ্যাটর্নি জেনারেলের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. 'Y' আইনের 'জটিল প্রশ্নে প্রজাতন্ত্রের পক্ষে মত প্রদান করেছেন, যা থেকে বোঝা যায় তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল। প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন উপদেষ্টা হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়ার যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপতির দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং সরকারের পক্ষে আদালতে বিভিন্ন মামলা পরিচালনা করে থাকেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অ্যাটর্নি জেনারেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি সরকারের কৌসুলি হিসেবে আদালতে বিভিন্ন মামলায় রাষ্ট্রের পক্ষে সঠিক আইনগত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন, যা আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা বজায় রেখে সংবিধান ও প্রচলিত আইনের আলোকে তিনি রাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরেন। এতে করে বিচার প্রক্রিয়ার ন্যায়সংগতা বজায় থাকে এবং জনগণের আইনের প্রতি আস্থা বাড়ে। অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে বার কাউন্সিলের সভাপতি হওয়ায় আইনজীবীদের সুশৃঙ্খল ও পেশাদার কার্যক্রম পরিচালনায়ও তার ভূমিকা থাকে। তাছাড়া, আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের সময় সরকারকে সঠিক পরামর্শ প্রদান 'করে আইনের শাসনের ভিত্তি মজবুত করতে সহায়তা করেন। পাশাপাশি, অতিরিক্ত ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলগণকে সমন্বয় করে পুরো আইনজীবী দলকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করেন। ফলে রাষ্ট্রীয় আইনি কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পাদিত হয়, যা গণতান্ত্রিক শাসনকে শক্তিশালী করে।
আলোচনা হতে তাই বলা যায়, মি. 'Y'-এর নেতৃত্বাধীন অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতিষ্ঠান ন্যায়বিচার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠায় এক অবিচ্ছেদ্য উপাদান হিসেবে কাজ করে।