| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মিজান সাহেব বছরের…’ রাজশাহী কলেজ ২০২৪ – মৌলিক ইবাদত, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র (এইচএসসি)

মিজান সাহেব বছরের একটি নির্দিষ্ট মাসে ফজরের নামাজের পূর্ব হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, জৈবিক চাহিদা এবং পাপাচার থেকে মুক্ত থাকেন। মুকিত সাহেব মক্কায় গিয়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন, ৯ জিলহজ আরাফার ময়দানে অবস্থান করেন এরপর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যাদি সম্পন্ন করে গত মাসে দেশে ফিরেছেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
ফিক্হশাস্ত্র বলতে ইসলামি আইন শাস্ত্রকে বোঝায়। অর্থাৎ যে শাস্ত্রের মাধ্যমে ইসলামের যাবতীয় হুকুম আহকাম প্রণয়ন করার পাশাপাশি বিভিন্ন অন্যায় অপরাধের শাস্তি বিধানের সীমা ও প্রয়োগ পদ্ধতি প্রণীত হয়েছে তা-ই ফিক্হশাস্ত্র।
“উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম।” প্রশ্নোক্ত বাক্যটির ব্যাখ্যা হলো— 'দাতা বা দান প্রদানকারীর হাত দান গ্রহীতার বা দানগ্রহণকারীর হাত থেকে উত্তম।'
দাতা শ্রেষ্ঠ এজন্য যে, তিনি দানের মাধ্যমে অন্যের উপকার সাধন করেন। ফলে দানগ্রহীতা দাতার নিকট চিরদিনই কৃতজ্ঞ হয়ে থাকে । আর সাধারণত দান গ্রহণকালে গ্রহীতার মান প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং তাকে সম্পূর্ণরূপে হীনম্মন্য করে ফেলে।
উদ্দীপকে বর্ণিত মুকিত সাহেবের কর্মটি হলো হজ। নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কাজের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থান জিয়ারত করাকে হজ বলে। হজের আধ্যাত্মিক অনেক শিক্ষা রয়েছে।
১. আল্লাহর কাছে উপস্থিত হওয়ার অনুভূতি : মুমিনদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা তাদের প্রতিটি কাজকর্মে এ ভাবধারা রাখবে যে তারা আল্লাহর চোখ ফাঁকি দিতে পারবে না; তাঁর কাছে উপস্থিত হতে হবে । মুমিনদের এ অনুভূতির প্রতিফলন ঘটে হজে ।
২. তাওহিদের বিশ্বাস : কাবাঘর এবং কাবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পবিত্ৰ স্থান ও নিদর্শন যিয়ারত করার মধ্যে আল্লাহর তাওহিদের সুদূরপ্রসারী শিক্ষা নিহিত রয়েছে।
৩. আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উপায় : হজ পালনের মাধ্যমে আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করা যায়। ইহরাম, তাওয়াফ, তালবিয়া, কুরবানিসহ হজের যাবতীয় অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে মানবমন প্রভুপ্রেমে গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়। ফলে বান্দা তার প্রভুর নিবিড় সান্নিধ্য প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করতে পারে।
৪. আল্লাহর খলিফার বৈশিষ্ট্য অর্জন : হজের অনুষ্ঠানমালা আল্লাহর আইনের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ এবং আল্লাহর প্রতিনিধি হওয়ার উপযোগী বৈশিষ্ট্য অর্জনের এক দুর্লভ সুযোগ করে দেয়।
৫. দায়িত্বানুভূতির উন্মেষ : মুসলিম হিসেবে, আল্লাহর বান্দা হিসেবে -ও আল্লাহর খলিফা হিসেবে হাজিদের মধ্যে হজের অনুষ্ঠানমালা তীব্র দায়িত্বানুভূতির উন্মেষ ঘটে।
৬. আল্লাহভীতি অর্জন : হজ পালনের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর প্রতি গভীর মনোযোগী হয়। এ অবস্থায় সে প্রতিটি কাজে আল্লাহকে ভয় করে চলে।
উদ্দীপকে বর্ণিত মিজান সাহেবের কর্মটি হলো সাওম। সাওম অর্থ বিরত থাকা। সাওমকে ফার্সিতে রোযা বলা হয়। ইসলামি পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়মের সহিত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত থাকাতে সাওম বলে।
রমজানের সিয়াম পালন করা একাধারে একটি ধর্মীয় ও নৈতিক অনুশীলন। আর সিয়াম বলতে শুধু ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য, পানীয় ও দৈহিক সম্ভোগ থেকে বিরত থাকাকেই বোঝায় না, বরং সবরকম অন্যায়, অশুভ চিন্তাকর্ম থেকে বিরত থাকাকে বোঝায়।
কেননা আত্মশুদ্ধি অর্জনের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো সিয়াম পালন করা। সাওম পালনের মাধ্যমে রোজাদার ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও সচেতনভাবে নিজেকে সব রকম দৈহিক সম্ভোগ ও প্রচলিত সুযোগ-সুবিধা থেকে বিরত রাখে এবং অবলম্বন করে এমন এক উপায়, যার সাহায্যে সে সুযোগ পায় তার পাশবিক প্রবৃত্তিসমূহকে সংযত করার। মানুষের সেই পাশবিক প্রবৃত্তির মধ্যে রয়েছে অহংকার, হিংসা লোভ-লালসা, কামনা-বাসনা, গিবত করা, অশ্লীল কার্যাদি, ঝগড়া-কলহ ইত্যাদি। সিয়াম সাধনা মানুষের মধ্যকার এ সকল খারাপ ও কুপ্রবৃত্তিগুলোকে দমন করে পরিপূর্ণ আত্মশুদ্ধি অর্জনে প্রবলভাবে সাহায্য করে। পাশাপাশি সাওম পালনকারীকে একজন পূর্ণাঙ্গ ও সত্যিকার মানুষে পরিণত করে। এজন্য মহান আল্লাহ বলেন-
كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصَّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
অর্থ : “তোমাদের ওপর সাওম (রোযা) ফরয করা হয়েছে। যেমনটি করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যেন তোমরা তাকওয়া (আল্লাহ ভীতি) অর্জন করতে পার।" (সূরা আল-বাকারা : ১৮৩)
রাসুল (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি ইমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমযানের রোযা পালন করে, তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।” (বুখারি ও মুসলিম)
পরিশেষে বলা যায়, সাওম পালনের মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি অর্জন করে এবং আল্লাহ প্রেমিক, ধৈর্যশীল, পরোপকারী, নিরহংকারী ইত্যাদি নৈতিক গুণে গুণান্বিত হয়ে চারিত্রিক দৃঢ়তায় উপনীত হয়।