মিরা লক্ষ করল তার বাড়ির পাশের জঙ্গলে আগের মতো পাখি দেখা যায় না। আগে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, কীটপতঙ্গ ও গাছপালা ছিল। কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, অনেক প্রজাতি হারিয়ে গেছে। জীববিজ্ঞান বই থেকে মিরা জেনেছিল, কোনো স্থানের প্রাণীর প্রজাতি কমে যাওয়া জীববৈচিত্র্যের উপর প্রভাব ফেলে।
খাদ্যশিকলে যুক্ত প্রতিটি পুষ্টিস্তরের শক্তি সঞ্চয় ও স্থানান্তরের বিন্যাস ছকই শক্তি পিরামিড।
পরজীবী উদ্ভিদ ও প্রাণী অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজেদের চেয়ে বড়ো আকারের পোষকদেহ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি পরজীবীর উপর আরেক ধরনের ক্ষুদ্রতর পরজীবী তার খাদ্যের জন্য নির্ভরশীল হয়। এক্ষেত্রে খাদ্যশিকলের প্রথম ধাপে সবসময় সবুজ উদ্ভিদ নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে শিকলটি অসম্পূর্ণ থাকে।
যেমন-মানুষ → মশা → ডেঙ্গু ভাইরাস।
উল্লেখ্য, এখানে মানবদেহের রক্ত শোষণকারী স্ত্রী এডিস মশা নিজে সেই রক্ত থেকে পুষ্টি লাভ করে না কিন্তু তার গর্ভস্থ ডিমগুলোর বিকাশে কাজে লাগায়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে, কীটপতঙ্গ ও পাখিদের সংখ্যা কমে গেছে, অনেক প্রজাতি হারিয়ে গেছে। এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে একটি এলাকার বিভিন্ন প্রজাতির সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে এই ঘটনার সাথে সম্পর্কিত জীববৈচিত্র্য হলো প্রজাতিগত জীববৈচিত্র্য। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
জীববৈচিত্র্য তিন প্রকার- বংশগতীয় বৈচিত্র্য, প্রজাতিগত বৈচিত্র্য ও বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। এর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে কোনো এলাকার বিভিন্ন প্রজাতির সংখ্যা ও বৈচিত্র্যকে বুঝায়।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে গাছপালা কেটে ফেলার কারণে বিভিন্ন পাখি, কীটপতঙ্গ ও প্রাণী আর দেখা যাচ্ছে না। অর্থাৎ একই এলাকায় আগে যে অগণিত প্রজাতি ছিল, এখন তা কমে গেছে। কোনো এলাকা থেকে একাধিক প্রজাতি হারিয়ে গেলে বাস্তুতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। শিকারি-শিকার সম্পর্ক, খাদ্যশৃঙ্খল এবং পুষ্টিচক্র অস্থিতিশীল হয়ে যায়। গাছ কাটার ফলে প্রথমে উদ্ভিদ প্রজাতির ক্ষতি হয়, এরপর তাদের ওপর নির্ভরশীল প্রজাতিগুলোও হ্রাস পায়। এভাবে একের পর এক প্রজাতি কমে গিয়ে প্রজাতিগত জীববৈচিত্র্য হ্রাসের সৃষ্টি হয়।
সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনাটি প্রজাতিগত জীববৈচিত্র্যের হ্রাসের সুস্পষ্ট উদাহরণ।
উদ্দীপকে শেষ লাইনে বলা হয়েছে- “কোনো স্থানের প্রাণীর প্রজাতি কমে গেলে জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব পড়ে।" নিচে লাইনটি
বিশ্লেষণ করা হলো-
জীববৈচিত্র্য বাস্তুতন্ত্রের ভিত্তি। একটি বাস্তুতন্ত্রের শক্তি, স্থায়িত্ব ও ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন প্রজাতির উপস্থিতি অপরিহার্য। যখন কোনো স্থানের প্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজাতি কমে যায়, তখন সেই স্থানটির প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। কারণ প্রতিটি প্রজাতি খাদ্যশৃঙ্খল ও পুষ্টিচক্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। উদাহরণস্বরূপ:
১. কীটপতঙ্গ কমে গেলে পরাগায়ন ব্যাহত হয়।
২. পাখি কমে গেলে কীটপতঙ্গ বেড়ে যায়, যা চাষাবাদে ক্ষতি করতে পারে। 1
৩. শিকারি প্রজাতি কমলে শিকার প্রাণীর সংখ্যা বাড়ে, ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।
এভাবে প্রজাতির সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে বাস্তুতন্ত্রের শক্তির প্রবাহ ব্যাহত, খাদ্যজাল দুর্বল এবং পরিবেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। তাই উদ্দীপকের শেষ লাইনটি বুঝায় যে, কোনো অঞ্চলে প্রজাতির সংখ্যা কমে যাওয়া মানে পুরো জীববৈচিত্র্যই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
সুতরাং, উদ্দীপকের শেষ লাইনটি জীবৃচৈত্র্যি হ্রাসের কারণ ও তার নেতিবাচক প্রভাবকে যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করেছে।
