| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মিসেস রেবা বিয়ের…’ বরিশাল বোর্ড ২০১৭ – মানব জীবনের ধারাবাহিকতা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মিসেস রেবা বিয়ের ১১ বছর পর প্রথম মা হতে চলেছেন। ডাক্তার বললেন নারী ও পুরুষের প্রজননিক সমস্যার কারণে গর্ভধারণে এ ‘ধরনের বিলম্ব বা বাধা আসে। ডাক্তার রেবাকে গর্ভকালীন সময়ে সুষম খাবার গ্রহণের পাশাপাশি অন্যান্য পালনীয় বিষয় সম্পর্কে বললেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৯
IVF এর পূর্ণ অর্থ হলো In Vitro Fertilization ।
দেহকোষের অন্তঃপরিবেশ ও বহিঃপরিবেশের মধ্যে অভিস্রবণিক চাপের সমতা রক্ষা করার কৌশলকে অসমোরেগুলেশন বলে। মানবদেহের বৃক্ক বা রেচনতন্ত্র অসমোরেগুলেশনে প্রধান ভূমিকা পালন করে। অসমোরেগুলেশনে ADH হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের মিসেস রেবা যেহেতু গর্ভবতী তাই গর্ভকালীন খাদ্যগ্রহণ ও শারীরিক পরিচর্যার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। গর্ভাবস্থায় তার স্বাস্থ্য ও অনাগত সন্তানের সুস্থতা ঠিক রাখতে তাকে পুষ্টিকর খাবার বেশি বেশি খেতে হবে। এসময় বেশি পরিমাণ প্রোটিন, সঠিক পরিমাণ শর্করা ও কম পরিমাণ চর্বি জাতীয় খাদ্যের সাথে লৌহ, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, ফলিক এসিড, পটাশিয়াম ইত্যাদি গ্রহণ করছে কিনা সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। কোনো রোগ জীবাণুর সংক্রমণ যাতে না ঘটে সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে। গর্ভাবস্থায় তাকে রোজ গোসল করিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ সময় আঁটসাট পোশাক ও উঁচু হিলের জুতা পরা যাবে না। পরিষ্কার সুতির ঢিলেঢালা ও আরামদায়ক কাপড় পরতে হবে। গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস ও শেষ দুই মাস ক্লান্তিকর ঝাঁকুনিযুক্ত ভ্রমণ না করাই ভালো। গর্ভবতী মাকে ধূমপান ও মদ্যপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত কোনো ঔষধ গ্রহণ করা যাবে না। এছাড়াও গর্ভাবস্থায় তার মানসিক প্রশান্তি যাতে বজায় থাকে সে চেষ্টা করতে হবে। এভাবেই অনাগত সন্তানের নিরাপদ ভূমিষ্ঠ হওয়ার জন্য মিসেস রেবার এ বিষয়গুলো বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
উদ্দীপকে ডাক্তার বলেছেন যে, নারী ও পুরুষের প্রজননিক সমস্যার কারণে গর্ভধারণে বিলম্ব বা বাঁধা আসে। নিম্নে প্রজননিক সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করা হলো-
নারীর প্রজনন অক্ষমতার কারণ নিম্নরূপ: সংক্রমণ রোগ, এন্ডোমেট্রিওসিস, পেলভিক সার্জারি যা অন্য কোন কারণে ফেলোপিয়ান নালি বিনষ্ট হলে নারীরা প্রজনন অক্ষম হয়। হাইপোথ্যালামাস বা পিটুইটারি গ্রন্থি স্বাভাবিকভাবে হরমোন ক্ষরণে ব্যর্থ হলে ডিম্বাশয়ের ফলিকল পরিপক্ক হয় না অথবা ডিম্বাণু সঠিক সময়ে ডিম্বাশয় থেকে বের হয় না। জরায়ুতে পলিপ, ফাইব্রয়েড সিস্ট বা টিউমার থাকলে বা জন্মগতভাবে জরায়ু ভ্রূণ ধারণ করতে পারে না। অকালে মেনোপজ হলে, ডায়াবেটিস হলে, ধূমপান করলে, স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন করলে নারীর প্রজনন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
পুরুষের প্রজনন অক্ষমতার কারণ: বীর্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শুক্রাণু না থাকলে বা মৃত শুক্রাণু বা শুক্রাণুবিহীন থাকলে পুরুষ প্রজননে অক্ষম হয়। শুক্রাশয়ের কিছু রক্তনালি ফুলে গিয়ে শুক্রাণুর গতিরোধ করে এবং শুক্রাণুর গুণগত মান কমিয়ে দেয়। কিছু যৌন বাহিত রোগ (যেমন- গনোরিয়া, মাম্পস, সিফিলিস) দ্বারা প্রজননতন্ত্র আক্রান্ত হলে জনন ক্ষমতা কমে যায়। কোন কারণে শুক্রাণু উৎপাদনে সক্ষম পুরুষ অনেক সময় সঙ্গমের সময় বীর্যত্যাগ করতে না পারলে প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়। টেস্টোস্টেরন ও অন্যান্য যৌন হরমোনের অস্বাভাবিক ক্ষরণ প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শুক্রনালি নষ্ট হয়ে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে এবং কিছু ওষুধ যেমন- স্টেরয়েড প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। পারমাণবিক বিকিরণ, এক্সরে, অতিমাত্রার তাপ, আঘাত, অ্যালকোহল সেবন ইত্যাদিও প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।