মিসেস শাহানার দিন শুরু হয় কাকডাকা ভোরে। ওয়াশিং মেশিনে কাপড় দেওয়া, ছেলে-মেয়ের টিফিন তৈরি করা, তাদের বাবার নাস্তা- এরপর নিজে তৈরি হয়ে অফিসে যাওয়া। তার মেয়ে সারা দশম শ্রেণিতে আর ছেলে সামি অষ্টম শ্রেণিতে- তাদেরও কোনো ফুরসত নেই। স্কুল শেষে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, গণিত, আরো কত কোচিং, বাড়ি ফিরে আবার স্কুলের কাজ, বাড়ির কাজ, কোচিং এর কাজ। স্কুল-কোচিং আর বাড়ির চার দেয়াল এই যেন তাদের জীবন। বাবা-মা অফিস শেষে তাদের পছন্দের খাবার নিয়ে ফেরেন, নয়তো নিজেরাই অনলাইনে অর্ডার দিয়ে পছন্দের খাবার আনিয়ে নেয়।
অবহেলায় পড়ে থাকা অপুর কাঠের ঘোড়াটিকে পিজরাপোলের আসামির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
নিজের আর্থিক অসচ্ছলতা প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে হরিহর দশঘরার লোকটির প্রস্তাবে তৎক্ষণাৎ রাজি হয়নি।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে হরিহর ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান হলেও দারিদ্র্যের কষাঘাতে তার নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। গ্রামের অন্নদা রায়ের বাড়িতে গোমস্তার কাজ করে যে অল্প কয়টা টাকা পায় তা দিয়ে তার সংসার ঠিকঠাক চলে না। চারদিকে তার দেনার বোঝা। এমন অবস্থায় দশঘরার এক সদগোপ হরিহরকে তার এলাকায় ব্রাহ্মণ হিসেবে মন্ত্র দিতে এবং সেই গ্রামে গিয়ে বাস করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু হরিহর সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি, কারণ এতে ব্রাহ্মণ হিসেবে তার আত্মসম্মানে বাধে এবং লোকটি তার অসচ্ছল অবস্থা বুঝে যেত।
উদ্দীপকের মিসেস শাহানার সঙ্গে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়ার সংসার জীবনের বৈসাদৃশ্য রয়েছে তাদের আর্থিক অবস্থায়, তাদের পরিবেশ-পরিস্থিতিতে, তাদের জীবনযাপনে।
গ্রামবাংলার মানুষের জীবন অত্যন্ত সহজ-সরল। ফলে জীবন সেখানে প্রকৃতিঘনিষ্ঠ ও আনন্দময়। তা সত্ত্বেও দারিদ্র্য সেখানকার এক বড়ো সমস্যা। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে খেয়ে-না-খেয়ে সেখানে অনেকের জীবন অতিবাহিত হয়।
উদ্দীপকের মিসেস শাহানার দিন শুরু হয় কাক-ঢাকা ভোরে। ওয়াশিং মেশিনে কাপড় দেওয়া, ছেলে-মেয়ের টিফিন তৈরি করা, তাদের বাবার নাস্তা- এরপর নিজে তৈরি হয়ে অফিসে যাওয়া, এভাবেই চলে তার জীবন। অন্যদিকে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়ার অভাবের সংসার। বাড়িটিও জীর্ণ ও ভাঙাচোরা। ছেলে-মেয়ের মুখে সে ঠিকমতো খাবারও তুলে দিতে পারে না। সন্তানের পরণের ছেঁড়া কাপড় তার অন্তরকে ক্ষতবিক্ষত করে। তার উপর ঋণের বোঝা তো আছেই। স্বামীর সামান্য বেতনে অনেক কষ্টে সংসার চালাতে হয় তাকে। যা উদ্দীপকের মিসেস শাহানার জীবনের তুলনায় পুরোপুরি আলাদা।
"উদ্দীপকের বক্তব্য 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের মূল বক্তব্য থেকে অনেক দূরে।"- মন্তব্যটি যৌক্তিক।
স্থান-কাল-পাত্রভেদে মানুষের জীবন ভিন্নতর হয়ে থাকে। কেউ বড়ো হয় প্রকৃতির সান্নিধ্যে, আবার কেউ বড়ো হয় শহরের ইট-পাথরের চার দেয়ালের মাঝে আবদ্ধ থেকে। এভাবেই কেউ সচ্ছল জীবন কাটায়, আবার কেউ অসচ্ছলতার মধ্যেই জীবন পার করে দেয়।
উদ্দীপকে শহরের একটি আধুনিক জীবনের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেখানে বৃত্তাবদ্ধ এক একঘেয়ে জীবনের চালচিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তাদের জীবন পুরোটায় যন্ত্রনির্ভর, অন্যদিকে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পটি প্রকৃতিনির্ভর। আর গ্রামীণ সংসারের দুঃখ-দারিদ্র্যে ভরপুর। তাই উদ্দীপকে এই পরিস্থিতি বা বক্তব্য 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের পরিস্থিতি বা মূল বক্তব্য থেকে ভিন্নতর।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পটি গ্রামবাংলার চিরায়ত এক জীবন উপাখ্যান। সেখানে আর্থিক অসচ্ছলতা সত্ত্বেও জীবনকে উপভোগ করার বিষয়টি দৃশ্যমান। শৈশবের দুরন্তপনা, বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়ানো, গ্রামীণ জীবনে দুটি ভাই-বোনের খুনসুটি, হেসে-খেলে বেড়ানো, মায়ের শাসনে ভীত হয়েও তাকে ফাঁকি দিয়ে দুষ্টুমিতে মেতে ওঠা, সর্বজয়ার দারিদ্র্যক্লিষ্ট জীবন এবং জীবন নিয়ে আশাহত না হওয়ার দিকগুলো গল্পে ফুটে উঠেছে, যা উদ্দীপকের বক্তব্য থেকে অনেক দূরে। তাই মন্তব্যটি যৌক্তিক।
