| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মিঠাপানির একপ্রকার জলজ…’ চট্টগ্রাম কলেজ ২০২৬ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মিঠাপানির একপ্রকার জলজ প্রাণী আছে যারা নিমজ্জিত বস্তু সংলগ্ন হয়ে নিম্নমূখী হয়ে ঝুলে থাকে। এদের দেহে কোন অঙ্গ বা তন্ত্র না থাকলেও দুটি স্তরে বিন্যস্ত কোষগুলোর শ্রমবন্টন দেখা যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
Cnidaria পর্বের প্রাণীদের এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিসের মাঝখানে জেলির মতো আঠালো, স্থিতিস্থাপক, পাতলা, বর্ণহীন, অকোষীয় স্তরটির নাম মেসোগ্লিয়া।
Hydra-র দেহের কেন্দ্রভাগে অবস্থিত ফাঁকা গহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে। এতে খাদ্যের বহিঃকোষীয় পরিপাক ঘটে এবং খাদ্যসার, শ্বসন ও রেচন পদার্থ পরিবাহিত হয় বলে একে গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহ্বর বা পরিপাক সংবহন গহ্বর বলা হয়। এটি গ্যাস্ট্রোডার্মিস দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। কর্ষিকাতে সিলেন্টেরন প্রসারিত। থাকে বলে এগুলো ফাঁপা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণীটি হলো Cnidaria পর্বভুক্ত দ্বিস্তরী প্রাণী Hydra। Hydra-এর এপিডার্মিসে অবস্থিত বিশেষ কোষটি হলো নিডোসাইট কোষ। নিচে নিডোসাইট কোয়ের গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
১. আবরণ: প্রতিটি কোষ দ্বিস্তরী আবরণে আবৃত। স্তর দুটির মাঝখানে দানাদার সাইটোপ্লাজম এবং কোষের গোড়ার দিকে একটি নিউক্লিয়াস থাকে।
২. নেমাটোসিস্ট: নিডোসাইটের অভ্যন্তরে অবস্থিত কাইটিনের মতো পদার্থে নির্মিত আবরণে আবৃত ও সূত্রকযুক্ত একটি ক্যাপসুলের নাম নেমাটোসিস্ট। আদর্শ নিডোসাইটে ক্যাপসুলটি প্রোটিন ও ফেনল-এর সমন্বয়ে গঠিত বিষাক্ত তরল হিপনোটক্সিন-এ পূর্ণ থাকে। সূত্রকের চওড়া গোড়াটিকে বাট বা শ্যাফট বলে। এতে তিনটি বড় তীক্ষ্ণ কাঁটার মতো বার্ব এবং সর্পিল সারিতে বিন্যস্ত ক্ষুদ্রতর কাঁটার মতো অসংখ্য বার্বিওল দেখা যায়।
৩. অপারকুলাম: স্বাভাবিক অবস্থায় নেমাটোসিস্টের সূত্রক ও ক্যাপসুল যে ঢাকনা দিয়ে আবৃত থাকে তার নাম অপারকুলাম। উন্মুক্ত অবস্থায় এটি পাশে সরে যায়।
৪. নিডোসিল: নিডোসাইট কোষের মুক্ত প্রান্তের শক্ত, দৃঢ়,সংবেদনশীল কাঁটাটি নিডোসিল। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি রূপান্তরিত সিলিয়াম। নিডাসিল ট্রিগারের মতো কাজ করে, ফলে অপারকুলাম সরে যায় এবং প্যাঁচানো সূত্রকটি বাইরে বেরিয়ে আসে।
৫. পেশিতন্তু ও ল্যাসো: কোষের সাইটোপ্লাজম ও নেমাটোসিস্টের প্রাচীরে সঙ্কোচনশীল কিছু পেশিতন্তু থাকে। এছাড়াও কোষের নিচের প্রান্তে ল্যাসো নামের প্যাঁচানো সূত্রক দেখা যায়।
যা উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণীটি হলো Cnidaria পর্বভুক্ত দ্বিস্তরী প্রাণী Hydra। Hydra-র একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো তাদের দেহে শ্রমবন্টন বিদ্যমান। বাক্যটি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-'
Hydra-এর শারীরবৃত্তীয় শ্রমবন্টনকে দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. আঙ্গিক শ্রমবন্টন: Hydra দেহের বিভিন্ন অংশ গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি সম্পাদন করে। যেমন-
i. মুখছিদ্র: খাদ্য গলধঃকরণ, অপাচ্য অংশ নিষ্কাশন ও দেহাভ্যন্তরে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
ii. কর্ষিকা: শিকার ধরা, চলন,'আত্মরক্ষা ও আরোহনে ব্যবহৃত হয়।
iii. সিলেন্টেরন: খাদ্য পরিপাক ও সংবহন করে।
iv. এপিডার্মিস: প্রতিরক্ষাকারী, পেশিময় ও সংবেদী দেহাবরণ এবং পাদ চাকতি গঠন করে।
v. দেহকান্ড: চলনে সহায়তা করে এবং মুকুল ও জননাঙ্গ ধারণ করে।
vi. পাদচাকতি: চলনে ও কোনো বস্তুর সঙ্গে প্রাণীকে আবদ্ধ রাখতে সহায়তা করে।
২. কোষীয় শ্রমবন্টন:
i. পেশি আবরণী কোষ: দেহের সাধারণ আবরণ তৈরি করে এবং সংকোচন প্রসারণের মাধ্যমে চলন, শিকার ধরা ইত্যাদি কাজে অংশ গ্রহণ করে।
ii. নিডোসাইট কোষ: শিকার ধরা, চলন ও আত্মরক্ষায় কাজ সম্পাদন করা।
iii. ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ: মুকুল ও জননাঙ্গ সৃষ্টি এবং দেহের প্রয়োজনে সব ধরনের কোষ সৃষ্টি করে।
iv. সংবেদী ও স্নায়ুকোষ: পরিবেশ থেকে সংবেদ গ্রহণ এবং উদ্দীপনা দ্বারা প্রতিবেদন সৃষ্টি করে।
v. পুষ্টিকোষ: বহিঃকোষীয় ও অন্তঃকোষীয় পরিপাক সম্পন্ন হয়।
vi. গ্রন্থিকোষ: পরিপাক এনজাইম ও আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে।