| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মিথিলার দাদা তাকে…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯ – বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

মিথিলার দাদা তাকে একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক জোট সম্পর্কে বলছিলেন। ১৯৯৩ সালে ম্যাসট্রিক চুক্তির মাধ্যমে জোটটি গড়ে উঠে। জোটভুক্ত দেশসমূহে একক মুদ্রা চালু রয়েছে জেনে মিথিলা অবাক হয়। দাদা তাকে আরো বলেন, অবাধ বাণিজ্য সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশ উক্ত জোটভুক্ত দেশসমূহে তৈরি পোশাক রপ্তানি করছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৯
বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠিত। নির্বাচন কমিশনের কার্যাবলি সংবিধান কর্তৃক নির্ধারিত। নির্বাচন কমিশন যে সমস্ত কাজ করে থাকে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি কাজ হলো-
১. নির্বাচনি এলাকার সীমানা: নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে কোনো সমস্যা ও জটিলতার সৃষ্টি হলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়।
২. রাষ্ট্রপতি ও সংসদ সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠান: সংসদ সদস্য নির্বাচন বা জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে। যেমন- তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র ছাড়া, মনোনয়নপত্র গ্রহণ, বাছাই, চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রকাশ, ভোট গণনা এবং ফলাফল প্রকাশ ইত্যাদি। রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচনের দায়িত্বও নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত।
উদ্দীপকে যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোটের কথা বলা হয়েছে সেটি হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি আঞ্চলিক সংস্থা। ১৯৫৭ সালে পশ্চিম ইউরোপের ছয়টি দেশের মধ্যে এক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এ সংস্থাটির জন্ম হয়। বর্তমানের এর সদস্য সংখ্যা ২৮। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে এ সংগঠনটির সদর দপ্তর অবস্থিত। উদ্দীপকে এ সংস্থাটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউরোপীয় অর্থনীতি মহাসংকটে নিপতিত হয়। এ সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপকে সামনে রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠিত হয়। সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অভিন্ন বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে বাণিজ্য ও অর্থনীতির উন্নয়নই ইইউ-এর প্রধান উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই বর্তমানে ইইউ-এর দেশগুলোর মধ্যে একক মুদ্রা চালু হয়েছে। এছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে। যেমন:
১. সদস্য রাষ্ট্রসমূহের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে যৌথ সম্পদ শক্তি অর্জন করা;
২. সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সম্পদের সর্বোচ্চ সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করা;
৩. সদস্য দেশগুলোর উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি করা; ৪. সদস্য দেশগুলোর উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য স্বল্পোন্নত ও অনুন্নত রাষ্ট্রকে সহায়তা করা। এ আলোচনা থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংস্থাটি অর্থাৎ ইইউ এর মূল লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর সঠিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ।
উদ্দীপকে উল্লেখিত জোট অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
বাংলাদেশ ও EU-এর মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২০০০ সালের ২২ মে । এর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ ও ইইউ-এর মধ্যে বাণিজ্য, উন্নয়ন সহায়তা ও আর্থিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করা। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ইইউ বাংলাদেশকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ সরকারের আরো কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
বাংলাদেশের সাথে ইইউ-এর মূল সম্পর্কের জায়গা হলো পোশাক শিল্প। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় বাজার ইইউ। তবে ইইউ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কর্মপরিবেশের দিকে লক্ষ্য রাখে। বাংলাদেশে রানা প্লাজা ধসের মতো ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইইউ-এর সাথে সম্পর্কে ভাটার টান পড়েছিল। তাই বাংলাদেশ সরকারের উচিত পোশাক শিল্পসহ সকল ক্ষেত্রে নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বব্যাপী নারী সমাজের উন্নয়নে বিশেষ তৎপর। সুতরাং তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখার জন্য বাংলাদেশেরও নারী উন্নয়নে ভূমিকা বৃদ্ধি জরুরি।
উপরের আলোচিত বিষয়গুলোর উন্নতি করলে ইউ-এর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নতি হবে।