| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মিয়ানমারের সবাই লুঙ্গি…’ a – গন্তব্য কাবুল, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মিয়ানমারের সবাই লুঙ্গি পরে। মেয়েদের পরনে লুঙ্গি ও ঝলমলে ব্লাউজ জাতীয় জামা বা গেঞ্জি। চুলে ফুল গোঁজা, চিরুনি ও রিবন- ফিতে। ভিক্ষুদের পরিধেয় চীবর সেলাইবিহীন লুঙ্গির মতো। গায়ে আলাদা অন্য এক টুকরো চীবর থাকে। হাতকাটা ও এক কাঁধ কাটা একটা গেঞ্জি থাকে, কোমরে বেল্ট জাতীয় অর্থাৎ সেলাই করা কাপড়ের কোমর বন্ধনী থাকে। ভিক্ষুদের চীবর বিশেষ মাপে এবং অনেক জোড়া দিয়ে সেলাই করা হয়। এটিই নিয়ম। সাধারণত লাল ও লালের কাছাকাছি রঙে চীবরের রং করা হয়। বার্মায় ফুঙ্গিদের অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখা হয়। লুঙ্গি, শার্ট ও বর্মিকোট, মাথায় বর্মি টুপি, পায়ে দুই ফিতের মজবুত স্যান্ডেল বর্মিদের জাতীয় পোশাক।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৬
লেখক জাকারিয়া স্ট্রিট থেকে খাবার নিয়ে এসেছিলেন।
➤ "সর্দারজিকে হারাবার উপায় নেই।"- এ কথাটি লেখক সর্দারজির বাচাতুর্যের কাছে হেরে গিয়ে বলেন।
➤ 'গন্তব্য কাবুল' রচনায় গাড়িতে লেখকের সঙ্গে এক শিখ সর্দারজির পরিচয় হয়। তখন সর্দারজি লেখককে পেশাওয়ারে পরিচিত কেউ আছে কিনা জানতে চান। লেখক বলেন সেখানে তার এক বন্ধুর বন্ধু তাকে নিতে আসবেন, তবে তিনি তার পরিচিত নন। তাই তিনি চিন্তিত। সর্দারজি তাকে জানান যে সেখানে বাঙালি বেশি নামবে না। লেখক মনে করেন তিনি বরং ধুতি- পাঞ্জাবি পরলে বন্ধু তাকে বাঙালি বলে বলে চিনতে পারতেন। তখন আবার সর্দারজি প্রশ্ন তোলেন- পাঞ্জাবি পরলেই বাঙালি চেনা যায় কি না, এটা নিয়ে তিনি সন্দিহান। সর্দারজির বাকচাতুর্যের এসব দিক বিবেচনা করে লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
সারকথা: কাবুল যাত্রায় গাড়িতে সর্দারজির সঙ্গে লেখকের আলাপ হলে তার বাকচাতুর্যে পরাজিত হয়ে লেখক আলোচ্য কথাটি বলেন।
➤ উদ্দীপকটি 'গন্তব্য কাবুল' রচনার সর্দারজির শিলওয়ার বানানোর কাপড়ের পরিমাণ ও পরিমাপের প্রসঙ্গে আলোচনার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ পোশাক সভ্যতার প্রতীক। গুহাবাসী মানুষ পোশাক পরেই প্রথম সভ্য হয়ে উঠেছিল। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন পোশাক প্রচলিত আছে। সব দেশ ও জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের পোশাক একই রকম নয়। আবার একই জাতির ভিন্ন-ভিন্ন পোশাকও হতে পারে।
➤ উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে- মিয়ানমারে নারী-পুরুষ সবাই লুঙ্গি পরলেও ভিক্ষুরা চীবর ধারণ করেন। তাদের চীবর অনেক জোড়া দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়। চীবর সাধারণত লাল ও লালের কাছাকছি রঙের হয় এবং এর বিশেষ মাপ থাকে। উদ্দীপকের চীবরের ক্ষেত্রে এই মাপের বিষটি 'গন্তব্য কাবুল' রচনার সর্দারজির শিলওয়ার বানানোর কাপড়ের পরিমাণ ও মাপের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। লেখক এ বিষয়ে জানতে চাইলে একেক অঞ্চলে এটির একেক পরিমাণের কথা জানান। পোশাকের এই প্রসঙ্গটিই উদ্দীপকে সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সারকথা: মিয়ানমারের নারী-পুরুষ এ সবাই লুঙ্গি পরলেও সেদেশের ভিক্ষুদের আলাদা পোশাক ও তার বৈশিষ্ট্যের দিকটি 'গন্তব্য কাবুল' রচনার সর্দারজির শিলওয়ার বানানোর কাপড়ের পরিমাণ স্থানভেদে পার্থক্য হওয়ার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের সঙ্গে গন্তব্য কাবুল রচনায় উল্লিখিত বিষয়টি পুরোপুরি এক নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ। "
➤ মানুষ প্রধানত দুইভাবে জ্ঞান অর্জন করে- বই পড়ে এবং ভ্রমণ করে। ভ্রমণপিপাসু মানুষ বহু দেশ ভ্রমণ করে বহু বিচিত্র বিষয়ে বাস্তবজ্ঞান অর্জন করে থাকেন। ভ্রমণ করে জ্ঞান অর্জন করা অপেক্ষাকৃত বেশি আনন্দের।
➤ 'গন্তব্য কাবুল' রচনায় কাবুল যাওয়ার পথে প্রথমে হাওড়া স্টেশনে ফিরিঙ্গির সঙ্গে, পরে সর্দারজির সঙ্গে লেখকের বেশ আলাপ-পরিচয় হয়। এ সময় সর্দারজিকে তিনি তাদের শিলওয়ার তৈরির বিষয়ে জানতে চান। সর্দারজি বিভিন্ন স্থানে, বিভিন্ন পরিমাপের কাপড় দিয়ে যে এটি তৈরি করা হয় তা তাঁকে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেন। এই বিষয়টি উদ্দীপকের ভিক্ষুদের চীবরের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে মাপ ও কাপড়ের পরিমাণের ক্ষেত্রে তার পার্থক্য রয়েছে। চীবরের একটি নির্দিষ্ট মাপ এবং তা একটি বিশেষ রঙের হয়ে থাকে। 'গন্তব্য কাবুল' রচনায় সর্দারজির বর্ণনায় শিলওয়ারের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেনি।
➤ 'গন্তব্য কাবুল' রচনায় কাবুলের জাতীয় পোশাক নিয়ে কোনো কথা বলা হয়নি। এ ক্ষেত্রে। উদ্দীপকে মিয়ানমারের জাতীয় পোশাক লুঙ্গি, শার্ট ও বর্মি কোট, মাথায় বর্মি টুপি, পায়ে দুই ফিতের মজবুত স্যান্ডেলের কথা বলা হয়েছে। এ রচনায় কাবুলের যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যে বর্ণনা রয়েছে তা উদ্দীপকে নেই। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকে মিয়ানমারের জাতীয় পোশাক সম্পর্কে তথ্য থাকলেও 'গন্তব্য কাবুল' প্রবন্ধে এ সম্পর্কে বিশেষ কোনো তথ্য নেই। সেখানে কেবল সর্দারজি শিলওয়ার তৈরিতে বিভিন্ন অঞ্চলে কাপড়ের পরিমাণের পার্থক্য দেখিয়েছেন।