| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় ক্রসিং…’ ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ ২০২৫ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় ক্রসিং ওভার ঘটে এবং জীবজগতে বৈচিত্র্য আসে। এছাড়া মিয়োসিস প্রক্রিয়া হ্যাপ্লয়েড এবং ডিপ্লয়েড জীবগুলোতে ক্রোমোসোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখতে সহায়তা করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
আদি পোষক থেকে পরে নতুন পোষকে রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসকে ইমার্জিং ভাইরাস বলে। যেমন- HIV, SARS, Ebola ইত্যাদি।
মাইটোসিস অ্যানাফেজ এবং মিয়োসিস অ্যানাফেজ-১ এর মধ্যে পার্থক্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রক্রিয়াটি হলো মিয়োসিস কোষ বিভাজন। জীবের মধ্যে বৈচিত্র্যতা ঘটাতে মিয়োসিস কোষ বিভাজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
মিয়োসিস কোষ বিভাজন জীবের প্রজনন, বিবর্তন এবং নতুন প্রকরণ সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। জীবের যৌন প্রজননের জন্য প্রথমেই। পুং ও স্ত্রী গ্যামেট সৃষ্টির প্রয়োজন হয়। পুং ও স্ত্রী জনন মাতৃকোষ মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে যথাক্রমে হ্যাপ্লয়েড পুংগ্যামেট এবং স্ত্রী গ্যামেট বা ডিম্বাণু তৈরি করে রে। পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের যৌন মিলন এর মাধ্যমে জীব তার যৌন জনন সম্পন্ন করে। পুং ও স্ত্রী গ্যামেট তৈরি না হলে জীব তার যৌন জনন সম্পন্ন করতে পারত না। আবার এ দু'ধরনের জনন কোষ মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমেই তৈরি হয়ে থাকে। মিয়োসিস কোষ বিভাজনে দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময়ের মাধ্যমে বংশগতীয় বৈশিষ্ট্যের পুনর্বিন্যাস ঘটে। ফলে নতন বংশধরে আসে বৈচিত্র্য এবং সৃষ্টি হয় নতন প্রকরণ। যেহেতু মিয়োসিসের ক্রসিং ওভার জীবে বৈচিত্র্য আনে সেহেতু এই জীববৈচিত্র্য ধারাবাহিকভাবে জীবের বিবর্তন ঘটায়। সুতরাং জীবের জীবনের ধারাবাহিকতা ও বৈচিত্র্যতা বজায় রাখতে মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত কোষ বিভাজনটি হলো মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া, যা হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড জীবকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
উচ্চ শ্রেণির জীবে মিয়োসিসের ফলে একটি জনন মাতৃকোষ হতে চারটি জনন কোষের সৃষ্টি হয় এবং প্রত্যেক কোষে মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোসোম থাকে। আমরা জানি, দুটি জননকোষ (পুং জননকোষ এবং স্ত্রী জননকোষ) একসাথে মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোট পরে বার বার মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে একটি ভ্রূণ এবং ভ্রূণের কোষগুলো আরও বিভাজিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবের সৃষ্টি করে। কাজেই জননকোষগুলোতে ক্রোমোসোম সংখ্যা হ্রাস পেয়ে জনন মাতৃকোষের অর্ধেক না হলে তাদের যৌন মিলনের ফলে সৃষ্ট জীবে ক্রোমোসোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। হ্যাপ্লয়েড জীবে (যেমন- শৈবাল) দুটি গ্যামেটের যৌন মিলনের ফলে সৃষ্ট জাইগোটেও ক্রোমোসোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়। যেহেতু ক্রোমোসোমই জীবের লক্ষণ নিয়ন্ত্রণকারী জিন বহন করে, সেহেতু ক্রোমোসোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেলে সন্তান-সন্ততি আর তার পিতা-মাতার গুণসম্পন্ন হবে না এবং প্রত্যেকটি প্রজাতিতে একটি আমূল পরিবর্তন ঘটে যাবে। পরিণামে জীবজগৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। ডিপ্লয়েড জীবে গ্যামেট সৃষ্টিকালে জনন মাতৃকোষে এবং হ্যাপ্লয়েড জীবের জাইগোটে মিয়োসিস হয় বলেই প্রজাতির ক্রোমোসোম সংখ্যা ও বৈশিষ্ট্য বংশ পরম্পরায় টিকে থাকে এবং জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষা পায়।