মনে হয় একদিন আকাশে শুকতারা দেখিব না আর;
দেখিব না হেলেঞ্চার ঝোপ থেকে এক ঝাঁক জোনাকি কখন
নিভে যায়- দেখিব না আর আমি এই পরিচিত বাঁশবন,
শুকনো বাঁশের পাতা-ছাওয়া মাটি হয়ে যাবে গভীর আঁধার
আমার চোখের কাছে- লক্ষ্মীপূর্ণিমার রাতে সে কবে আবার।
লক্ষ্মীপেঁচার কণ্ঠে মঙ্গলবার্তা ধ্বনিত হয়।
'সোনার স্বপ্নের সাধ' বলতে কবি বিচিত্র বিবর্তনের মধ্যেও প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধ চিরন্তন থাকাকে বুঝিয়েছেন।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের এবং মানুষের স্বপ্নের অমরত্বের দিকটি তুলে ধরেছেন। বিচিত্র বিবর্তনের মধ্যেও রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে প্রকৃতি টিকে থাকে। প্রকৃতির মতো পৃথিবীতে কল্যাণকর্ম বিলীন হয় না। শুধু ব্যক্তি বা কর্মী হারিয়ে যায়। তবে ব্যক্তির স্বপ্ন হারায় না। কবি মনে করেন, তিনি যখন পৃথিবীতে থাকবেন না তখনও প্রকৃতি তার অফুরন্ত ঐশ্বর্য নিয়ে মানুষের স্বপ্ন, সাধ ও কল্পনাকে তৃপ্ত করে যাবে। পৃথিবীতে প্রকৃতির নিয়মের এই স্বাভাবিকতা বোঝাতেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মৌলিক প্রেরণা উদ্দীপকের চিত্রকল্পে প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্য চেতনাগতভাবে ফুটে উঠেছে।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। মরণশীল ব্যক্তিমানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ঠিকই কিন্তু প্রকৃতিতে থাকে চিরকালীন ব্যস্ততা। কবি আলোচ্য কবিতায় প্রকৃতির এই অবিনাশী সৌন্দর্য উদ্ঘাটন করেছেন। ক্ষয়িষ্ণু সভ্যতার বিপরীতে তিনি প্রকৃতির বহমানতার কথা বলেছেন।
উদ্দীপকে প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যচেতনার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। এখানে প্রকৃতির চিরন্তনতার যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় প্রতিফলিত সৌন্দর্যচেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি বলেছেন প্রকৃতির সৌন্দর্যের ধ্বংস বা বিনাশ নেই। প্রকৃতি তার অফুরন্ত সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্য দিয়ে মানুষের স্বপ্ন-সাধ ও কল্পনাকে তৃপ্ত করে যায়। প্রকৃতির এ দিকটি উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে প্রকৃতির যে বৈচিত্র্যময়তা কবি প্রত্যক্ষ করেছেন তা আবার পারবেন কি না তা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত। কারণ মানুষ মৃত্যুর মধ্য দিয়ে হারিয়ে যায়। মানুষের এই হারিয়ে যাওয়ায় প্রকৃতির সৌন্দর্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। উদ্দীপকের কবি হারিয়ে গেলে আকাশের শুকতারা, হেলেঞ্চার ঝোপ, জোনাকি, বাঁশবন কিছুই তিনি দেখবেন না। অথচ সেগুলো অবিকল থেকে যাবে। এই চেতনা 'সেইদিন এই মাঠ কবিতার প্রকৃতির চিরকালীন চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে উদ্দীপক ও 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতা- উভয় ক্ষেত্রেই কবির জীবনতৃষ্ণাকে অভিন্ন বলা যায়।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় পৃথিবীতে মানুষ এবং মানুষের তৈরি সভ্যতা চিরস্থায়ী নয়। সময়ের ব্যবধানে মানুষ যেমন মৃত্যুবরণ করে তেমনই মানুষের তৈরি সভ্যতাও বিলীন হয়ে যায়। বেঁচে থাকে কেবল মানুষের স্বপ্ন যা প্রকৃতির সঙ্গে চির প্রবহমান।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের মধ্যে সভ্যতার ধ্বংস ও বিনির্মাণের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। মানুষ এবং মানুষের তৈরি সভ্যতা নশ্বর হলেও প্রকৃতি অবিনশ্বর। এই চেতনার সঙ্গে উদ্দীপকের চেতনাগত মিল রয়েছে। এই কবিতায় কবি রূপ-রস-গন্ধ-বর্ণ নিয়ে প্রকৃতির টিকে থাকার সঙ্গে মানুষের স্বপ্নের টিকে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূল বক্তব্য হচ্ছে- এই পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যু আছে, কিন্তু প্রকৃতির সৌন্দর্যের মৃত্যু নেই। মানুষের স্বপ্নও প্রকৃতির মতো অমর। এই কবিতায় কবি প্রকৃতির চিরকালের যে ব্যস্ততার কথা বলেছেন তা উদ্দীপকের প্রকৃতিচেতনায় অভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য রেখে মানুষের হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্দীপক ও কবিতায় অভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তাই উভয় ক্ষেত্রে কবির জীবনতৃষ্ণা একই ধারায় উৎসারিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতা উভয় ক্ষেত্রেই কবির জীবনতৃষ্ণা অভিন্ন।
