| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মচমইল বাজারে প্রকাশ্যে…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭ – আঠারো বছর বয়স, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মচমইল বাজারে প্রকাশ্যে তিনজন সন্ত্রাসী আক্রমণ করে তালেব মাস্টারকে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মোটরসাইকেলযোগে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এমন সময় ঘটনাস্থলে এসে পড়ে সাহসী তরুণ ফিরোজ। সে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে এবং একজনকে ধরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেয়। ফিরে এসে দেখে মাস্টার সাহেব তখনো মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছেন। পুলিশি ঝামেলার ভয়ে কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসছে না। ফিরোজ কোনো কিছু না ভেবেই মাস্টার সাহেবকে নিয়ে যায় মেডিকেলে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৯
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য 'দৈনিক স্বাধীনতা' পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
আঠারো বছর বয়সে মানুষ যৌবনে পদার্পণ করে আত্মপ্রত্যয়ী ও সাহসী হয়ে ওঠে বলে কারো কাছে মাথা নোয়ায় না।
শৈশব-কৈশোরের পরনির্ভরতার দিনগুলো সচেতনভাবে মুছে ফেলতে উদ্যোগী হয় আঠারো বছর বয়সের তরুণেরা। এ বয়স অদম্য দুঃসাহসে সকল বাধা-বিপদকে পেরিয়ে যেতে প্রস্তুত থাকে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে উদ্যমী এ বয়সের তরুণেরা। কোনো অন্যায় ও প্রতিবন্ধকতার কাছে মাথা নত করে না এ বয়সের তরুণপ্রাণ। কবি তাই এ বয়সটিকে দুঃসাহসী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
উদ্দীপকের ফিরোজের মানসিকতায় 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় উল্লেখিত তরুণদের ইতিবাচক দিকগুলো বিদ্যমান।
আলোচ্য কবিতায় কবি নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরেছেন। তিনি লক্ষ করেছেন, কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের এ বয়সটি প্রচন্ড সাহসে ঝুঁকি নেওয়ার উপযোগী। আঠারো বছর বয়সের তরুণেরা অসাধ্যকে সাধন করার জন্য দুর্বার গতিতে এগিয়ে যায়।
উদ্দীপকের ফিরোজ একজন সাহসী তরুণ। সে তালেব মাস্টারকে আক্রমণ করা সন্ত্রাসীদের একজনকে ধরে চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেয়। আক্রমণস্থলে ফিরে এসে সে দেখে ভীতু মানুষগুলো রক্তাক্ত তালেব মাস্টারকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। তখন সে পুলিশি ঝামেলার ভয় অগ্রাহ্য করে নিজেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আলোচ্য কবিতায় ফিরোজের এ বৈশিষ্ট্যগুলোর কথাই বলা হয়েছে। দেশ, জাতি ও মানবতার জন্য এ বয়সের তরুণেরাই এগিয়ে যায় সবার আগে। কবি মনে করেন, এ বয়সটি প্রবল উচ্ছ্বাসে ঝুঁকি নেওয়ার উপযোগী। ফিরোজের মাঝেও এই ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়। সর্বোপরি, 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত তরুণপ্রাণের ইতিবাচক সকল বৈশিষ্ট্যই ফিরোজের মাঝে বিদ্যমান।
উদ্দীপকের মূলভাব 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূলভাবের দ্যোতক'- উক্তিটি যথার্থ। কেননা উভয়স্থানেই তারুণ্যের যথার্থ স্ফূরণ লক্ষ করা যায়।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরেছেন। এ সকল বৈশিষ্ট্য ইতিবাচকতায় পরিপূর্ণ। কবির বর্ণনায় নানারকম গুণ ও দক্ষতার লক্ষণ ফুটে উঠেছে এ বয়সের তরুণদের মাঝে। তিনি মনে করেন, এ বয়সের ধর্মই হলো আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়া।
উদ্দীপকের ফিরোজ তালেব মাস্টারকে আক্রমণ করা সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে একজনকে ধরে ফেলতে সক্ষম হয়। তাকে আটক করে চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেয় সে। পরবর্তীতে সে পুলিশি ঝামেলার তোয়াক্কা না করে আহত মাস্টারকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পাঠ্য কবিতায় কবি তরুণদের যে ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন তা ফিরোজের মাঝেও বিদ্যমান। তারুণ্যের শক্তিতে ফিরোজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।
আঠারো বছর বয়স বহু ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত। জড়, নিশ্চল ও প্রথাবদ্ধ জীবনকে পেছনে ফেলে নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন, কল্যাণ ও সেবাব্রত, উদ্দীপনা ও সাহসিকতা, চলার দুর্বার গতি- এ সবই আঠারো বছর বয়সের বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি তরুণেরই এ সকল বৈশিষ্ট্য ধারণ করা জরুরি। উদ্দীপকের ফিরোজ যেন কবির প্রত্যাশিত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এক তরুণ। সন্ত্রাসী ও পুলিশি ঝামেলার ভয়ে যখন মানবতা পদপিষ্ট হচ্ছিল তখন তারুণ্যদীপ্ত ফিরোজই সেখানে সাহায্যকারীর ভূমিকায় উত্তীর্ণ হয়। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক মানুষের ভিড়ে একজন ফিরোজই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। আর তাই, উদ্দীপকের ফিরোজের চরিত্রটি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত সকল তরুণের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছে। সুতরাং, আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।