| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মোহনার মা মোহনাকে…’ যশোর বোর্ড ২০২৪ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মোহনার মা মোহনাকে নিয়ে সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. জলিলের চেম্বারে গেলে ডা. জলিল মোহনাকে জিজ্ঞাসা করে, “তোমার কপালে পোড়া দাগ কীসের?” মোহনার মা বললেন, “স্যার, আমি বলছি। গত বছর তিনেক থেকেই মেয়েটিকে আলগা এক রোগে পেয়েছে। প্রায়ই সে অজ্ঞান হয়ে যায়। তার শ্বাসকষ্ট হয়। দম আটকে যায়। হাতে পায়ে খিঁচুনি হতে থাকে অবিরত, বিড়বিড় করে কথা বলতে থাকে। তাই শীতলপুর গ্রামের এক পিরের কাছে মোহনাকে নিয়ে গিয়েছিলাম। তিনটি কালো মোরগ, দুইটি জালালি কবুতর, এক কেজি পোলাউয়ের চাল আর এক দানা মসুরের ডাল নিয়ে। পির বাবায় একটা সুঁই, পানিপড়া আর মুখের লালাপড়া দিলেন। বাড়িতে ফেরার পর মোহনা আবার অজ্ঞান হলে পির বাবার কথামতো আমরা মোহনার হাত ও পা বেঁধে সুইটা আগুনে পুড়িয়ে লাল করে ওর কপালে ‘সুঁই পড়া দেই’। এই দাগটা স্যার সুঁই দিয়ে পোড়ানোর।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
আক্কাসের বাবার নাম মোদাব্বের মিঞা।
"দলিল-দস্তাবেজ জাল হয়, কিন্তু খোদাতালার কালাম জাল হয় না।"- কথাটি মজিদ বলেছে ধলা মিয়াকে।
'লালসালু' উপন্যাসে মোদাচ্ছের পিরের মাজারকে আশ্রয় করে ধর্মব্যবসায়ী মজিদ মহব্বতনগর গ্রামের মানুষকে নানা বিষয়ে নানা পরামর্শ দিয়ে তার কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে। সন্তান লাভের আশায় আমেনা বিবি আওয়ালপুরে আগত পিরের কাছ থেকে পানিপড়া এনে খেতে চেয়েছিল। ধলা মিয়াকে এই কাজে নিযুক্ত করলে সে তা মজিদকে জানিয়ে দেয়। শুধু তাই নয় সে মজিদের কাছ থেকে পানিপড়া নিয়ে আওয়ালপুরে আগত পিরের নামে চালিয়ে দিতে চায়। তখন মজিদ তাকে উদ্দেশ করে প্রশ্নোক্ত কথা বলে। খোদাতায়ালার কালাম কোনো দলিল-দস্তাবেজ নয় যে তাতে ফাঁকি চলবে।
'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত মজিদের বাড়িতে জিকিরের দিনের ঘটনা ও জমিলাকে বেঁধে দুষ্ট আত্মা তাড়ানোর ঘটনার সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য আছে।
ধর্মব্যবসায়ীরা তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে থাকে। তারা সাধারণ মানুষদের দুর্বলতাকে পুঁজি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। বাঙালি সমাজে এই শ্রেণির মানুষগুলো জোঁকের মতো অজ্ঞ মানুষদের প্রতিনিয়ত শুষে নেয়, ঠকায়।
উদ্দীপকে মোহনার মা মোহনাকে নিয়ে পিরের শরণাপন্ন হয়েছিল। তাকে সুস্থ করতে পিরের দরবারে অনেক কিছু দান করে। সেই পির মোহনার হাত-পা বেঁধে সুঁইয়ের ছ্যাঁকা দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলার দাওয়াই দেয়। এমন ঘটনা 'লালসালু' উপন্যাসেও দেখতে পাওয়া যায়। উপন্যাসে মজিদের কাছে গ্রামের মানুষেরা বিভিন্ন উপঢৌকন নিয়ে আসে। জিকিরে অংশ নেয়। আবার মজিদের স্বার্থে ঘা লাগায় জমিলাকে বেঁধে মাজারে আটকে রাখে দুষ্ট আত্মা তাড়ানোর কথা বলে। এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য আছে।
উদ্দীপকের শীতলপুরের পির এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের লোক ঠকানোই পেশা- মন্তব্যটি যথার্থ।
ভন্ড, অসৎ ও প্রতারক পিরেরা সাধারণ মানুষের ধর্মান্ধতার সুযোগে ধর্মব্যবসায় পরিচালনা করে থাকে। লোক ঠকিয়ে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে।
উদ্দীপকে শীতলপুরের পির ভণ্ডামির আশ্রয় নিয়ে অনেক উপঢৌকন আদায় করে নেয় সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে। চিকিৎসার নামে এক প্রকার অত্যাচার করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে থাকে। মোহনার মায়ের সঙ্গে সে এটাই করেছে। 'লালসালু' উপন্যাসটিতেও অনুরূপ বিষয় লক্ষ করা যায়। মজিদ মোদাচ্ছের পিরের মাজারের ভয় দেখিয়ে মহব্বতনগর গ্রামবাসীকে ধর্মের ভয় দেখায় এবং আত্মস্বার্থে শোষণের জাল বিস্তার করে।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদও একজন ভণ্ড, প্রতারক ও ধর্মব্যবসায়ী। শস্যহীন একটি অঞ্চল থেকে সে ভাগ্যান্বেষণে বের হয়। প্রতিষ্ঠাকামী মজিদ স্বার্থপরতা, প্রতিপত্তি আর শোষণের প্রতিভূ। সে প্রতারণা বা ভণ্ডামির মাধ্যমে তার মাজার টিকিয়ে রাখতে চায়। ধর্মের লেবাসে সে আসলে জীবিকা নির্বাহের পথ তৈরি করে। সে মানুষের দুর্বলতার সুযোগে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, তাদেরকে ঠকায়। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সাধারণ মানুষদের ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে। এই দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।