| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মোহনপুরে যখন নিপা…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৩ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মোহনপুরে যখন নিপা ভাইরাস দেখা দিলো, তখন গ্রামবাসী আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় খুঁজছিল। এমন সময় তোতা কবিরাজ গ্রামটিকে রক্ষা করার জন্য সচেষ্ট হন। তিনি চিনি পড়া, পানি পড়া দিয়ে চিকিৎসা দেন এবং অনেক টাকা পয়সা হাতিয়ে নেন। কিছুদিন পর নিপা ভাইরাস বিদায় নেয়। অবশ্য ইতোমধ্যে অনেক মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়। তবুও গ্রামের মানুষ তোতা কবিরাজের অলৌকিক ক্ষমতায় মুগ্ধ হয়ে তাকে অর্থ-সম্পদ উপহার দেয় এবং ভয়ও করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
তাহেরের বাপ এর কথা বলা হয়েছে।
নারী জাতিকে হেয় প্রতিপন্ন করে মজিদ আপন স্বার্থসিদ্ধির পায়তারা করেছে, যেখানে নিজের অন্ত:সারশূন্যতা ঢাকতে খালেক ব্যাপারী এমন উক্তি করেছে।
‘লালসালু’ উপন্যাসে সমাজের নানারকম কুসংস্কার এবং অসাধু ধর্মব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম প্রকাশ পেয়েছে। খালেক ব্যাপারী স্ত্রীর কথায় সন্তান লাভের আশায় ধলা মিয়াকে আউয়ালপুরের পীর সাহেবের কাছে পাঠায়। কিন্তু যখন মজিদ ঘটনাটি জানতে পারে, তখন খালেক ব্যাপারী তার নিজের অন্ত:সারশূন্যতাকে ঢাকতে কথাটি বলেছিলেন। এখানে তিনি স্ত্রীকে জ্ঞানশূন্য এবং মূর্খ প্রতিপন্ন করে নিজের অজ্ঞতাকে ঢাকতে চেয়েছেন। নারী জাতির প্রতি মজিদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মৌন সমর্থক খালেক ব্যাপারী। ব্যাপারীর এ উক্তির মাধ্যমে পুরোহিত ও সামন্তপ্রভুর অভিন্ন স্বার্থ প্রকাশিত হয়েছে।
উদ্দীপকের তোতা কবিরাজের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে তোতা কবিরাজ অশিক্ষিত, অসহায়, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষদের কাজে লাগিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে। মোহনপুরে যখন নিপা ভাইরাস দেখা দিলো, তখন গ্রামবাসী আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবছিল। এমন সময় তোতা কবিরাজ চিনি পড়া, পানি পড়া দিয়ে চিকিৎসা দেন এবং অনেক টাকা পয়সা হাতিয়ে নেন। কিছুদিন পর নিপা ভাইরাস বিদায় নেয়। তবুও গ্রামের মানুষ তোতা কবিরাজের অলৌকিক ক্ষমতায় মুগ্ধ হয়ে তাকে অর্থ-সম্পদ উপহার দেয় এবং ভয়ও করে।
'লালসালু' উপন্যাসের ঝড়ের মুখে উড়ে চলা পাতার মতো মজিদ ভাগ্যের সন্ধানে মহব্বতনগর গ্রামে আসে। এখানে এসে সে পুরনো একটি কবরকে আশ্রয় করে তার ধর্মব্যবসায় প্রতিষ্ঠা করে। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মজিদ মাজার প্রতিষ্ঠা করে। উদ্দীপকের তোতা কবিরাজও মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজের স্বার্থে মোহনপুরবাসীদের ব্যবহার করেছে।
এভাবে উদ্দীপকের তোতা কবিরাজের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
মোহনপুর গ্রামের মানুষগুলো যেন 'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত মহব্বত নগর গ্রামের। মানুষেরই প্রতিচ্ছবি - মন্তব্যটি যথার্থ।
পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে যারা নিজ স্বার্থের জন্য অন্যকে ঠকায়। আর এক শ্রেণির মানুষ প্রতিনিয়ত তাদের দ্বারা প্রতারিত হয়। অশিক্ষা, অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার তাদের আচ্ছন্ন করে রাখে বলে তারা তা বুঝতে পারে না।
উদ্দীপকে মোহনপুরে যখন নিপা ভাইরাস দেখা দিলো, তখন গ্রামবাসী আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় খুঁজছিল। এমন সময় তোতা কবিরাজ গ্রামটিকে রক্ষা করার জন্য সচেষ্ট হন। তিনি চিনি পড়া, পানি পড়া দিয়ে চিকিৎসা দেন এবং অনেক টাকা পয়সা হাতিয়ে নেন। কিছুদিন পর নিপা ভাইরাস বিদায় নেয়। অবশ্য ইতোমধ্যে অনেক মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়। তবুও গ্রামের মানুষ তোতা কবিরাজের অলৌকিক ক্ষমতায় মুগ্ধ হয়ে তাকে অর্থ-সম্পদ উপহার দেয় এবং ভয়ও করে।
উদ্দীপকের মোহনপুরের ধর্মান্ধ ও অশিক্ষিত লোকেরা তোতা কবিরাজের কাছে দৈববাণীর কথা শুনে, ভুল চিকিৎসায় বিশ্বাস করে বিভ্রান্ত হয়। একইভাবে 'লালসালু' উপন্যাসের গ্রামবাসীও মজিদের অলৌকিক শক্তিতে বিশ্বাসী হয়ে ওঠে। উদ্দীপকের মোহনপুর গ্রামের মানুষগুলো যেন 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামবাসীর প্রতিনিধিত্ব করে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।