| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মকবুল সাহেব একজন…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭ – জনসেবা ও আমলাতন্ত্র, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

মকবুল সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত আমলা। চাকরি জীবনে তিনি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি সী-ফুড নামক একটি কোম্পানির মালিক। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন কর (VAT) প্রদানকারী যে নয়টি কোম্পানির নাম প্রকাশ করেছে ‘সী- ফুড’ তার অন্যতম। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই কোম্পানিগুলোকে মূল্য সংযোজন কর প্রদানে তাদের অসামান্য অবদানের জন্য পুরস্কৃত করবে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
আমলাতন্ত্রের জনক প্রখ্যাত জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার (Maximilian Karl Emil Weber, ১৮৬৪-১৯২০)।
লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে পূর্ববর্তী নিয়মকে অন্ধভাবে অনুসরণ ও
অনুকরণ করাকে বোঝায়।
Red Tapism বা 'লালফিতা' প্রত্যয়টি সপ্তদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে প্রচলিত ছিল। সে সময় সরকারি ফাইলপত্র লাল রঙের ফিতায় বেঁধে রাখা হতো। তখন থেকেই আমলাতন্ত্রের আনুষ্ঠানিকতা, দীর্ঘসূত্রিতা, নিয়মকানুনের কড়াকড়ি ও বাড়াবাড়ি বোঝাতে লালফিতার দৌরাত্ম্য শব্দটির ব্যবহার শুরু হয়। লালফিতার দৌরত্ম্যের ফলে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর বিভিন্ন বিষয় ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে থাকে।
উদ্দীপকের মকবুল সাহেব চাকরি জীবনে আমলাতন্ত্রের সাথে জড়িত ছিলেন।
'আমলা' শব্দের অর্থ আদেশ পালনকারী ও বাস্তবায়নকারী। যে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারের আদেশ পালন ও বাস্তবায়ন করে তাদেরকে আমলা বলে। সামগ্রিকভাবে আমলাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে বলা হয় আমলাতন্ত্র। প্রখ্যাত ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক হারম্যান ফাইনার (Herman Finer) আমলাতন্ত্রের সংজ্ঞায় বলেন, 'আমলাতন্ত্র বা সিভিল সার্ভিস হলো সেসব পেশাদার কর্মকর্তার সমষ্টি যারা স্থায়ীভাবে কর্মে নিয়োজিত, বেতনভোগী ও দক্ষ।
উদ্দীপকের মকবুল সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত আমলা। চাকরি জীবনে তিনি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা আমলাতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এছাড়াও আমলাতন্ত্রের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন-
প্রথমত, স্থায়িত্ব আমলাতন্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সরকার পরিবর্তিত হলেও আমলাতন্ত্রের কোনো পরিবর্তন হয় না। একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত কিংবা অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তারা চাকরিতে বহাল থাকেন। কেবল দৈহিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে তারা চাকরিচ্যুত হতে পারেন। দ্বিতীয়ত, আমলাতন্ত্রে নিয়োজিত কর্মচারীরা নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন হয়ে থাকেন। তাদের সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
তৃতীয়ত, পদসোপান নীতি (Hierarchy) আমলাতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এ নীতি অনুসারে বিভিন্ন পদের শ্রেণিবিন্যাস, কর্মকর্তা- কর্মচারীদের কাজের পরিধি ও জবাবদিহিতা নির্ধারণ করা হয়। প্রত্যেক নিম্নতর পদই কোনো উচ্চতর পদ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ-নির্দেশ নিম্নতর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন।
চতুর্থত, কোনো প্রকার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না থেকে, ব্যক্তিগত ঘৃণা ও আবেগ পরিহার করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমলারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন।
পঞ্চমত, আমলারা বেতনভোগী সরকারি কর্মচারি। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তাদেরকে নির্ধারিত বেতন-ভাতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র একটি অপরিহার্য অঙ্গ। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত আমলাতন্ত্র ব্যতীত কোনো দেশের পক্ষেই সরকারি কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী মকবুল সাহেবকে একজন দেশপ্রেমিক
হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
দেশপ্রেম মানুষের সহজাত ও স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। নিজের দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, আবেগ ও অনুভূতিকেই দেশাত্ববোধ বা দেশপ্রেম (Patriotism) বলে। একজন দেশপ্রেমিক নাগরিকের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- নিজের দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসা, দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করা। যেমন: দেশের প্রয়োজনে আত্মত্যাগ স্বীকার, নিয়মিত কর পরিশোধ, সততা ও নিষ্ঠার সাথে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করা প্রভৃতি।
উদ্দীপকের মকবুল সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত আমলা। চাকরি জীবনে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন, যা একজন দেশপ্রেমিক নাগরিকের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আবার বর্তমানে তিনি সী-ফুড নামক একটি কোম্পানির মালিক। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কোম্পানিটি জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন কর বা VAT (Value Added Tax) প্রদানকারী অন্যতম কোম্পানি হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা NBR (National Board of Revenue) কর্তৃক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। অর্থাৎ মকবুল সাহেবের কোম্পানি সঠিকভাবে রাষ্ট্রকে মূল্য সংযোজন কর প্রদান করে। নিয়মিত ও সঠিকভাবে কর প্রদান করা একজন দেশপ্রেমিক নাগরিকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা মকবুল সাহেবের কর্মকাণ্ডে পরিলক্ষিত হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনা সাপেক্ষে বলা যায়, মকবুল সাহেব দেশকে ভালোবেসে এবং দেশের প্রতি অনুগত থেকে চাকরি জীবনে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। আবার তার মালিকানাধীন 'সী ফুড' কোম্পানিটিও দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ওঅগ্রগতির লক্ষ্যে নিয়মিত মূল্য সংযোজন কর প্রদান করে। সুতরাং, মকবুল সাহেব প্রকৃতপক্ষেই একজন দেশপ্রেমিক।