| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মোরা ঝঞ্ঝার মতো…’ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ ২০২৬ – আঠারো বছর বয়স, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম, মোরা ঝর্ণার মতো চঞ্চল
মোরা বিধাতার মতো নির্ভয়, মোরা প্রকৃতির মতো সচ্ছল
মোরা আকাশের মতো বাধাহীন
মোরা মরু সঞ্চর বেদুইন
————————-
মোরা বন্ধনহীন, জন্ম স্বাধীন, চিত্ত মুক্ত শতদল।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৯
সুকান্ত ভট্টাচার্য 'দৈনিক স্বাধীনতা' পত্রিকার 'কিশোরসভা' অংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
'দুর্যোগে হাল হাল ঠিকমতো রাখা ভার' বলতে আঠারো বছর বয়সে যথাযথ পরিচর্যার অভাবে তরুণদের জীবন সমস্যা-সংকটময় হয়ে ওঠার আশংকাকে বোঝানো হয়েছে।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি তারুণ্যের জয়গান করেছেন। কবি এ বয়সের নেতিবাচক দিকের কথাও বলেছেন। কৈশোর ও যৌবনের সন্ধিক্ষণে শারীরিক, মানসিক পরিবর্তনের সঙ্গে তরুণদের পারিপার্শ্বিক নানা জটিলতাও অতিক্রম করতে হয়। এ সময় নিজেকে সঠিক পথে, সঠিকভাবে পরিচালনা করতে না পারলে পদস্খলন হতে পারে। তাতে জীবনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এ কারণেই আঠারো বছর বয়স সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ সময় দুর্যোগে হাল ঠিকমতো রাখা ভার।
উদ্দীপকের সাথে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার তরুণদের দুর্বার সাহস, বাধাহীন গতি ও বিপ্লবী দৃঢ়তা বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি আঠারো বছর বয়সের অফুরন্ত প্রাণশক্তির কথা বলেছেন। আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে তরুণরা এ সময়ে নতুনের দিকে ধাবিত হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো তরুণদের মুক্ত ও অগ্রগামী চেতনারই পরিচয়।
উদ্দীপকেও তারুণ্যশক্তির বিভিন্ন দিক প্রতিফলিত হয়েছে। তারুণের এসব বৈশিষ্ট্য কবিতায়ও লক্ষ করা যায়। কবিতার তরুণদের মতো উদ্দীপকের তরুণরাও দুঃসাহসী, নির্ভীক এবং যেকোনো বন্ধনমুক্ত হতে সচেষ্ট। উভয় ক্ষেত্রেই তরুণদের চিত্র একটি আদর্শ, শক্তিশালী ও মুক্তিপ্রয়াসীরূপে উপস্থাপিত হয়েছে।
উক্ত বৈশিষ্ট্যই 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূল বিষয় নয়। অন্যান্য আরও বিষয় আছে- উক্তিটি যথার্থ, কারণ উদ্দীপকে কবিতার তরুণদের দায়িত্ব, আত্মত্যাগের ব্রত এবং দেশগঠনের বিষয়গুলো নেই।
আঠারো বছর বয়স' কবিতায় তরুণদের গভীর বেদনা, যন্ত্রণা ও সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়ার শক্তি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। এছাড়াও কবিতায় তরুণদের রক্তদান, আত্মত্যাগ করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ, যা মুক্তচেতনার চেয়েও বেশি গভীর।
উদ্দীপকটি তরুণদের স্বাধীনচেতা, উদ্দাম ও বাধাহীন দিকটি তুলে ধরলেও এটি কবিতার অন্যান্য মৌলিক বিষয় তুলে ধরেনি। কবিতা তরুণদের শুধু মুক্ত নয়, বিপন্ন ও সংগ্রামী হওয়ার কথাও বলে। তরুণদের বিপ্লবী ভূমিকা, আঘাত-সংঘাতের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়ার কঠিন পথের কথাও উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি।
কবিতায় সুকান্ত ভট্টাচার্য তরুণদের একটি সম্পূর্ণ ও দ্বান্দ্বিক চিত্র দিয়েছেন। একদিকে যেমন দুঃসাহসী ও মুক্ত, অন্যদিকে দায়িত্বে ভারাক্রান্ত। উদ্দীপকে বর্ণিত তরুণদের বৈশিষ্ট্যগুলো কবিতার একটি অংশমাত্র। কিন্তু কবিতার কেন্দ্রে রয়েছে তরুণদের রাজনৈতিক, সামাজিক চেতনা, ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং দেশপ্রেমিক দায়বদ্ধতা। তাই উদ্দীপক কবিতার সমগ্রতা ধারণ করে না।