| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মতবাদ-১: অর্জিত বৈশিষ্ট্যের…’ রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মতবাদ-১: অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদ
মতবাদ-২: প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
যে ধরনের ক্লিভেজে বিভাজন তলগুলো জাইগোটকে সবসময় সুষম ও অরীয়ভাবে ভাগ করে তাই অরীয় ক্লিভেজ।
মারিয়ানা ফ্লাইং ফক্স প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের বনাঞ্চল রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরা মূলত ফলভোজী বাদুড় যা বনের উদ্ভিদের পরাগায়নে সরাসরি সাহায্য করে। ফল খাওয়ার পর এরা বিভিন্ন স্থানে মলত্যাগের মাধ্যমে বীজের বিস্তার ঘটায়। এভাবে নতুন নতুন গাছ জন্মানোর ফলে বনের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। দ্বীপের বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষা করতে এই প্রাণীগুলো অপরিহার্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
মতবাদ-১ এ উল্লিখিত অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদ দ্বারা ল্যামার্কিজমকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে ধারণাটি আলোচনা করা হলো-
ল্যামার্কিজম ৪টি মূল বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। যথা-
i. অন্তঃজীবনী শক্তি জীবের আকার বৃদ্ধি করতে চায়: জীবন ধারণের প্রয়োজনে পরিবেশ প্রতিটি প্রাণীর গঠন, আকৃতি ও সংগঠনকে প্রভাবিত করে।
ii. জীবের উপর পরিবেশের প্রত্যক্ষ প্রভাব: জীবন ধারণ প্রক্রিয়ায় জীব যে নতুন চাহিদা অনুভব করে তারই ফলশ্রুতিতে জীব দেহের কোন অঙ্গের বৃদ্ধি বা নতুন অঙ্গের সংযোজন ঘটে। নতুন এ অঙ্গের আকার ও বিকাশ তার ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল। জিরাফের পূর্ব পুরুষেরা আকারে ছোট ও শাকাশী প্রাণী ছিল। গাছের শীর্ষের কচি পাতার নাগাল পাবার জন্য ক্রমাগত গ্রীবা উত্তোলন ও প্রসারণের ফলে তা বৃদ্ধি পায় এবং বংশ পরস্পরায় চলতে থাকার ফলে গ্রীবা ও অগ্রপদ লম্বা হয়ে বর্তমান আকৃতি পেয়েছে। একইভাবে ঘোড়ার পূর্ব-পুরুষের তৃতীয় আঙ্গুলী প্রয়োজনের তাগিদে সক্রিয় প্রচেষ্টার ফলে বর্তমান সময়ের ঘোড়ার খুড়ে পরিণত হয়েছে।
iii. ব্যবহার ও অব্যবহার: জীবদেহের কোনো অঙ্গের বৃদ্ধি ও কর্মক্ষমতা তার ব্যবহারের ওপর সরাসরিভাবে নির্ভরশীল। কোনো অঙ্গের পুনঃপুন ব্যবহার ঐ অঙ্গের ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে সুগঠিত "করে। আবার কোনো অঙ্গ অব্যবহারের ফলে তা ক্রমশ দুর্বল হয়ে শেষ পর্যন্ত তার ক্ষয়প্রাপ্তি বা অবলুপ্তি ঘটে।
iv . অর্জিত গুণাবলির উত্তরাধিকার: কোনো জীবের জীবনকালে অর্জিত গুণাবলি তার পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে-সঞ্চালিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিবর্তন তত্ত্বের মতবাদ ১ ও ২ হলো যথাক্রমে ল্যামার্কবাদ ও ডারউইনবাদ। নিচে ল্যামার্ক ও ডারউইনের মতবাদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রদান করা হলো:
i. ল্যামার্কের মতবাদ অনুযায়ী পরিবেশের প্রভাব ও জীবের নিজের প্রচেষ্টায় জীবদেহের পরিবর্তন ঘটে। অপরদিকে, ডারউইনের মতবাদ অনুযায়ী স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই জীবদেহে পরিবর্তন সূচিত হয় এবং এসব পরিবর্তনের জন্য জীবের কোনো প্রচেষ্টা নেই।
ii. ল্যামার্কের মতে, অর্জিত সকল বৈশিষ্ট্যই বংশানুসরণ করে। কিন্তু ডারউইনের মতে কেবল ধারাবাহিক প্রকরণগুলো বংশানুসরণযোগ্য।
iii. প্রাকৃতিক পরিবৃত্তি ল্যামার্কবাদ স্বীকৃত নয়। অপরদিকে, ডারউইনবাদে প্রাকৃতিক পরিবৃত্তি স্বীকৃত।
iv. ল্যামার্কবাদ অনুযায়ী জীবের নিজস্ব প্রয়োজনে নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয়। অপরদিকে, ডারউইনবাদ অনুযায়ী প্রকৃতির নিজস্ব খেয়ালে জীবদেহের গঠন সম্পন্ন হয়।
V. ল্যামার্কবাদ অনুসারে প্রকৃতির সাথে খাপ খাইয়ে প্রতিটি জীব বেঁচে থাকে। কিন্তু ডারউইনের মতবাদ অনুসারে কেবল জীবন সংগ্রামে জয়ী হওয়া জীব বেঁচে থাকে, অন্যরা বিলুপ্ত হয়ে যায়।
vi. ল্যামার্কবাদ বিজ্ঞানী মহলে অনাদৃত। অপরদিকে, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ডারউইনবাদ বিজ্ঞানী মহলে সমাদৃত ও গ্রহণযোগ্য।
উভয় মতবাদের পার্থক্য ও গ্রহণযোগ্যতা আলোচনার মাধ্যমে সমালোচকদের কাছে ডারউইনবাদ বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।