মতিন ঢাকা শহরের একজন রিকশাওয়ালা। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন রাজপথে তিনি শিক্ষার্থীদের নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। ১৬ জুলাই, ২০২৪ সালে তিনি ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ১০ দিন পর হাসপাতাল ছাড়লেও তাঁর ডান পা এখন অকেজো। বেশিক্ষণ তিনি হাঁটতে পারেন না। কাজে-কর্মে অন্যের সাহায্য নিতে হয়। তবে তিনি মনোবল হারাননি। তাঁর এ ঘটনা পত্রিকায় দেখে স্থানীয় ছাত্ররা তাঁর রিকশাটিকে অটোরিকশায় রূপান্তর করে দিয়েছে। এখন তিনি অটোরিকশা চালিয়ে পুনরায় সংসারের হাল ধরেছেন।
বাঁখারি হচ্ছে কাঁধের দুদিকে দুপ্রান্তে ঝুলিয়ে বোঝা বহনের বাঁশের ফালি।
গৃহস্থ ঘরের মেয়েদের মতো বহুদূর পর্যন্ত প্রসার নয় বলে সুভাদের নদীটিকে গৃহস্থ ঘরের নদী বলা হয়েছে।
'সুভা' গল্পে সুভাদের গ্রামের নাম চণ্ডীপুর, যার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে একটি ছোট নদী। নদীটিকে লেখক গৃহস্থ ঘরের মেয়েদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কারণ নদীটি ছিল আকারে ছোট এবং তার প্রসার ছিল অল্প। নিরলসা তন্বী নদীটি নিজের কূল রক্ষা করে দুই ধারের গ্রামের সকলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে কাজ করে যায়। গৃহস্থ ঘরের মেয়েরাও এরূপ। তাদের পরিধি খুব অল্প হয়ে থাকে এবং তারা পিতৃকুল ও স্বামী-সংসার উভয় দিক রক্ষা করে চলে।' তাই লেখক সুভাদের নদীটিকে গৃহস্থ ঘরের নদী বলেছেন।
উদ্দীপকের মতিনের সঙ্গে 'সুভা' গল্পের বৈসাদৃশ্য হচ্ছে প্রতিবন্ধকতার ধরন ও পরিস্থিতির দিক থেকে।
'সুভা' গল্পের সুভা এক বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরী। বাক্প্রতিবন্ধী এ কিশোরীর প্রতি লেখকের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিবন্ধী হওয়ায় সুভা জগতের অনেক কিছু থেকেই বিচ্ছিন্ন। তবে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে না পারলেও প্রকৃতি যেন তার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়। প্রকৃতি যেন তার হয়ে কথা বলে।
উদ্দীপকের ঘটনাংশে দেখা যায়, ঢাকা শহরের রিকশাওয়ালা মতিনের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ডান পা গুলিবিদ্ধ হয়। অকেজো পা নিয়ে তিনি বেশিক্ষণ হাঁটতে পারেন না। তাকে কাজে-কর্মে অন্যের সাহায্য নিতে হয়। তবে অদম্য মনোবলের অধিকারী মতিনকে স্থানীয় ছাত্ররা তার রিকশাটিকে অটোরিকশায় রূপান্তর করে দেয় সংসারের হাল ধরার জন্য। কিন্তু 'সুভা' গল্পের সুভার পরিস্থিতি ভিন্ন। সে জন্মগতভাবে বোবা। কেউ তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেশে না। তাই সে প্রকৃতির সান্নিধ্যে, এবং পোষা প্রাণীদের নিয়ে আপন জগৎ সৃষ্টি করেছে। এভাবেই উদ্দীপকের মতিনের সঙ্গে 'সুভা' গল্পের বৈসাদৃশ্য হচ্ছে প্রতিবন্ধকতার ধরন ও পরিস্থিতির দিক থেকে।
যে পরিণতির দিক থেকে "উদ্দীপকের ছাত্রদের মানসিকতা যদি 'সুভা' গল্পের সমাজপতিরা ধারণ করত তবে সুভার পরিণতি ভিন্ন হতে পারত" মন্তব্যটি যথার্থ। 'সুভা' গল্পটি রচিত হয়েছে বাক্প্রতিবন্ধী সুভার জীবনকে কেন্দ্র করে। বাণীকণ্ঠের কন্যা সুভা জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না। তাই তার সঙ্গে সঙ্গে কেউ মেশে না, খেলে না। তবে সমবয়সিদের সঙ্গে মিশতে না পারলেও তার আলাদা একটি আশ্রয়ের জগৎ আছে। কথা বলতে না পারা পোষা প্রাণীরা হয়ে উঠেছে তার অন্তরঙ্গ বন্ধু ও কাছের জন।
উদ্দীপকের ঘটনাংশে উঠে এসেছে ঢাকা শহরের রিকশাওয়ালা মতিনের কথা। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সময়ে রাজপথে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে সহযোগিতা করার সময় তার ডান পা গুলি লেগে অকেজো হয়ে যায়। কিন্তু তিনি মনোবল হারাননি। এই ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় ছাত্ররা তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে তিনি সংসারের হাল ধরতে পেরেছেন।
উদ্দীপকের ছাত্রদের মানসিকতা 'সুভা' গল্পের কারও মধ্যেই পাওয়া যায় না। বাক্প্রতিবন্ধী সুভার প্রতি নিজের পরিবার থেকে শুরু করে। সবাই নেতিবাচক আচরণ করেছে। সর্বোপরি সমাজে একঘরে হওয়ার আশঙ্কায় বাণীকণ্ঠ কন্যাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য তৎপর হন। যদি ইতিবাচক মনমানসিকতা নিয়ে সুভার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হতো তবে সুভাও একটি সুন্দর জীবন যাপন করতে পারত। কিন্তু কেউই সুভার প্রতি এই ইতিবাচকতা প্রকাশ করেনি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ছাত্রদের মানসিকতা যদি 'সুভা' গল্পের সমাজপতিরা ধারণ করত তবে সুভার পরিণতি ভিন্ন হতে পারত।
